ক্যাটেগরিঃ bdnews24

মিঠুন চৌধুরী
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম, জানুয়ারি ২২ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- জনশক্তি রপ্তানিতে দেশের সব জেলার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম।

২০১১ সালে বিভিন্ন দেশে কাজ নিয়ে গেছেন এই জেলার ৭৩ হাজার ৪৩৩ জন, এর মধ্যে ১২২ জন নারী। এ সংখ্যা ২০১০ সালের তুলনায় প্রায় ৩৩ হাজার বেশি।

বিশ্বমন্দার পর জনশক্তি রপ্তানির এ ক্রমবর্ধমান ধারাকে ‘ইতিবাচক ও জাতীয় অর্থনীতির সহায়ক’ বলে মনে করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ দেশের আয়ের অন্যতম প্রধান খাত এই প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বা রেমিটেন্স।

জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে চট্টগ্রাম জেলা থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গিয়েছিলেন প্রায় ৪০ হাজার জন। এর মধ্যে জেলা জনশক্তি কার্যালয়ে নিবন্ধন করেন প্রায় ২৯ হাজার বিদেশগামী।

অন্যদিকে ২০১১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলা থেকে বিদেশগামীর সংখ্যা মোট ৭৩ হাজার ৪৩৩ জন। এর মধ্যে জেলা জনশক্তি কার্যালয়ে নিবন্ধন করেছেন ৫৩ হাজার ৪৮১ জন। অন্যরা রাজধানীর জনশক্তি কার্যালয়ে গিয়ে নিবন্ধন করেন।

চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জহিরুল আলম মজুমদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দেশের সবকটি জেলার মধ্যে জনশক্তি রপ্তানিতে চট্টগ্রাম এবার প্রথম অবস্থানে।

তিনি জানান, ২০১১ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ৫ লাখ ৬৮ হাজার জন নারী ও পুরুষ কাজ নিয়ে বিভিন্ন দেশে গেছেন।

জহির জানান, ২০১০ সালেও জেলার হিসেবে প্রথম স্থানে ছিল চট্টগ্রাম। ওই বছর সারাদেশ থেকে বিদেশগামীর মোট সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৯০ হাজার। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার অধিবাসী প্রায় ৪০ হাজার।

জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ২০০৪ সাল থেকে ২০১১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলা থেকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গেছেন ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৪৯৬ জন।

বর্তমানে চট্টগ্রামের প্রায় ১৫ লাখ অধিবাসী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত আছেন। এর অধিকাংশই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে থাকা তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি অর্থ বছরের প্রথম ছয় মাসে (২০১১ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর) যে পাঁচটি দেশ থেকে সর্বোচ্চ রেমিটেন্স এসেছে, সেগুলো হলো- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, কুয়েত ও যুক্তরাষ্ট্র।

তবে প্রবাসীর মধ্যে চট্টগ্রামের অধিবাসীরা কত টাকা রেমিটেন্স পাঠিয়েছে তার কোনো তথ্য দিতে পারেনি জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়।

জনশক্তি রপ্তানির এ ধারাকে ইতিবাচক উল্লেখ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ২০০৭-০৮ সালে বছরে জনশক্তি হিসেবে বিদেশগামীর সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে ৮ লাখ। এরপর বিশ্বমন্দার কারণে এ সংখ্যা ক্রমাগত কমছিল। এখন আবার তা ক্রমবর্ধমান।

“এটা জাতীয় অর্থনীতির জন্য সহায়ক ধারা। আশাকরি আগামী বছর জনশক্তি রপ্তানি আরো বাড়বে,” বলেন তিনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ৬০৬ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের রেমিটেন্স দেশে এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৫৫০ কোটি ডলার।

অধ্যাপক মইনুল বলেন, বর্তমানে বিদেশগামীদের মধ্যে অধিকাংশই অদক্ষ ও কম দক্ষ জনশক্তি। ধীরে ধীরে জনশক্তি হিসেবে আধা প্রশিক্ষিত, প্রশিক্ষিত ও পেশাজীবীদের বিদেশে পাঠানো গেলে এবং বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠানো উৎসাহিত করা গেলে রেমিটেন্স বহুগুণ বাড়বে।

চট্টগ্রামকে ‘প্রবাসী অধ্যুষিত জেলা’ আখ্যায়িত করে জহিরুল আলম বলেন, সরকারি মাধ্যমে নয় বরং ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের মাধ্যমেই জেলার অধিকাংশ বিদেশগামী ভিসার ব্যবস্থা করে থাকেন।

চলতি বছর মালয়েশিয়া, ইরাক ও লেবাননসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সরকারিভাবে জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/সিএম/এমসি/এমআই/০৯৩০ ঘ.