ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, ফেব্র”য়ারি ১৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- দিন গণনা শেষ। বিশ্বকাপ ক্রিকেট আর ক্রিকেটপ্রেমীর মধ্যে দূরত্ব এখন কয়েকঘণ্টার। বৃহস্পতিবার উদ্বোধন হবে ক্রিকেট উৎসবের।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্র”য়ারি) বিকেলে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের ঘোষণা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশে শিল্প ব্যাংক ভবনে টানানো বিশাল পর্দায় ভেসে উঠবে বিশ্বকাপের প্রতিকৃতি।

তবে খেলা মাঠে গড়াবে ১৯ ফেব্র”য়ারি। রাজধানীর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী খেলায় বাংলাদেশ লড়বে ভারতের সঙ্গে।

১৩৫ মিনিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল পর্ব বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে শুরু হবে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে। তবে এর আগে ৪টা ৫৫ মিনিটে শুরু হবে ৫০ মিনিটের আরেকটি অনুষ্ঠান।

সব মিলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলবে প্রায় ১শ’ ৩৫ মিনিট ধরে। অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছে উইজ ক্রাফট ও বাংলাদেশের এশিয়াটিক ইভেন্ট।

৫০ মিনিটের অনুষ্ঠানে গান গাইবেন বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার চারজন পুরুষ ও চার নারী শিল্পী।

প্রধানমন্ত্রী হাসিনাসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা স্টেডিয়ামে প্রবেশের পর শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল পর্ব।

প্রথমেই সুসজ্জিত ও হাইড্রলিক পদ্ধতির মঞ্চে স্বাগত সঙ্গীত ‘ও পৃথিবী এবার এসে… বাংলাদেশ নাও চিনে, ও পৃথিবী…তোমায় স্বাগত জানাই এই দিনে…’ পরিবেশন করবেন ইবরার টিপু ও তার দল। গানের ইংরেজি অংশ গাইবেন এলিটা ও মিলা। সঙ্গে থাকবেন ৪০ জন যন্ত্রশিল্পী। গানটি লিখেছেন জুলফিকার রাসেল।

স্বাগত সঙ্গীত শেষে মাঠে আনা হবে বিশ্বকাপের মাসকট স্ট্যাম্পিকে। এর পেছনে ১৪টি দেশের অধিনায়কের নেতৃত্বে ক্রিকেট দলের সদস্যরা মাঠ প্রদক্ষিণ করবেন।

এরপর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি ও অর্থ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আবু হেনা মুস্তফা কামাল এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সভাপতি শারদ পাওয়ার স্বাগত ও শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন।

বক্তৃতা শেষে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা প্রতিযোগিতা উদ্বোধনের ঘোষণা দেবেন। সঙ্গে সঙ্গে স্টডিয়ামের পূর্ব পাশে শিল্প ব্যাংক ভবনের দেয়ালে টানানো বিশাল পর্দায় ভেসে উঠবে বিশ্বকাপের প্রতিকৃতি। আকাশে উড়িয়ে দেওয়া হবে শান্তির প্রতীক এক ঝাঁক কবুতর। এরপরই শুরু হবে আতশবাজির রঙিন খেলা।

৩ দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি
বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কা, এই তিন দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিও তুলে ধরা হবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।

বাংলাদেশের পর্ব পরিচালনা করবেন নৃত্যশিল্পী শিবলী মোহাম্মদ ও শামীম আরা নিপা। এ সময় বাংলাদেশের মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার গৌরবময় ঘটনা প্রবাহ ফুটিয়ে তোলা হবে সঙ্গীত, নৃত্য, কোরিওগ্রাফি ও আলোকরশ্মির মাধ্যমে।

শ্রীলঙ্কার কোরিওগ্রাফার ও শিল্পীরা আট মিনিটের ‘দি পার্ল অব ইন্ডিয়ান ওশান’ পর্বের শুরুতেই আলোক-রশ্মি ও শব্দের মাধ্যমে সাগরের ঢেউয়ের দৃশ্য ফুটিয়ে তুলবেন। সে সময় মাঠ ও আকাশ ছড়িয়ে যাবে নীল রঙে। এক পর্যায়ে সুরের তালে তালে মঞ্চে ফুটিয়ে তোলা হবে বিশাল একটি মুক্তা। তার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসবেন শ্রীলঙ্কার একজন তারকা অভিনেত্রী।

সন্তোষ শেঠজির পরিচালনায় তার দেশের কোরিওগ্রাফার ও শিল্পীরা পরিবেশন করবেন ‘সিম্ফোনি অব কালারস’।

১২ মিনিটের এ পর্বে ভারতের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে।

বাংলাদেশ পর্বের শুরুতে মঞ্চের মাটি ফুঁড়ে ‘রাখালের বাঁশির সুরে’র সঙ্গে তাল মিলিয়ে উপরে উঠে আসবেন শিবলী। সুর থেমে যেতেই রাখাইন, সাঁওতাল ও চাকমারা ১ মিনিট ৪০ সেকেন্ড ধরে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন করবেন। এরপর শুরু হবে ১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের মনিপুরি নৃত্য ও এক মিনিট ৪০ সেকেন্ডের কথক নৃত্য।

দ্বিতীয় পর্যায়ে মহান ২১ ফেব্র”য়ারির স্মরণে মাঠের চারিদিক থেকে শুরু হয়ে যাবে ‘রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই’ স্লে¬াগান ও মিছিল। সে সময় গাওয়া হবে ‘ওরা…আমার মুখের ভাষা… কাইরা… নিতে চায়..’ গানটি।

সেই সঙ্গে মাঠজুড়ে আলোক-রশ্মির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে বাংলা বর্ণমালা। এরপরই দেখা যাবে এক কিশোর গাইছে, ‘আমার… ভাইয়ের.. রক্তে রাঙানো.. ২১ ফেব্র”য়ারি, আমি কী ভুলিতে পারি…’ পরে এক মা’ও গাইবেন এ গানটি।

তৃতীয় পর্যায়ের শুরু হবে একাত্তরের মার্চ মাসের অসহযোগ আন্দোলনের মুহূর্ত দিয়ে। আলো ও গোলাগুলির শব্দ দিয়ে তুলে ধরা হবে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার দিনগুলো।

‘জয় বাংলা’ স্লে¬াগান দিয়ে একদল ছেলে-মেয়ের ছুটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হবে ‘জয়… বাংলা… বাংলার.. জয়..’ গানটি। এক পর্যায়ে বেজে উঠবে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চে ভাষণ, ‘এবারের সংগ্রাম… স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম’। বঙ্গবন্ধু যখন বলবেন জয় বাংলা তখন স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশের শিল্প ব্যাংকের দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা ৬০ ফুট পর্দায় ফুটে উঠবে তার ৭ মার্চের ভাষণের মুহূর্তটি।

এরপর কবি নজরুল ইসলামের ‘কারার ওই… লৌহ কপাট…’ গানটি পরিবেশন করা হবে।

একপর্যায়ে চারদিক থেকে বাংলাদেশের ম্যাপসহ মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বিশাল চারটি পতাকা নিয়ে ছুটে আসবেন মুক্তিযোদ্ধারা। বিশাল আকৃতির মঞ্চটি প্রথমে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ও পরে বর্তমানের লাল-সবুজ পতাকা দিয়ে মুড়িয়ে দেয়া হবে।

১৬ ডিসেম্বরের বিজয়ের আনন্দের পাশাপাশি দেশের প্রতি ভালবাসা স্পষ্ট করে তুলতে গাওয়া হবে ‘ও আমার দেশের মাটি…তোমার পরে ঠেকাই মাথা…’। এ সময় মঞ্চে ফুটে উঠবে শাপলা ফুল।

শেষ পর্যায়ে সুন্দরবনের গহীন অরণ্য ফুটিয়ে তোলার পর রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের গর্জন ও ‘থিম’ সঙ্গীতের সুরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) পতাকা মেলে ধরা হবে।

এরপর কোরিওগ্রাফির মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পর্বের ইতি টানা হবে।

এ সময় ঢাকার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের ২ হাজার ১০০ ছাত্র-ছাত্রী এবং সশস্ত্র বাহিনীর ৩৫০ সদস্য কোরিওগ্রাফিতে অংশ নেবেন। পুরো কোরিওগ্রাফি পরিচালনা করবেন ভারতের বিখ্যাত কোরিওগ্রাফার সন্তোষ শেঠজি।

আতশবাজি, আলোক-রশ্মি ও ব্রায়ান অ্যাডামস
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে আতশবাজি ও আলোক-রশ্মির খেলা দেখাবেন চীনের বিশেষজ্ঞরা।

অনুষ্ঠানকে সফল করে তোলার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে স্টেডিয়ামে। গ্যালারি থেকে মাটি পর্যন্ত তিন ধাপে ‘স্পট লাইট’ বসানো হয়েছে। পূর্ব ও উত্তর গ্যালারিতে ১৬টি টাওয়ারেও লাইট লাগানো হয়েছে।

কানাডার বিশ্বখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী ব্রায়ান অ্যাডামস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তার সবচেয়ে জনপ্রিয় গান ‘এভরিথিং আই ডু…’ গাইবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সর্বশেষ অ্যালবাম ‘বেয়ার বোনস’ থেকেও তার গান গাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/টিআর/পিডি/২৩৪৬ ঘ.