ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, জানুয়ারি ২৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একটি ঋণদাতা সংস্থা পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির যে অভিযোগ তুলেছে, তার প্রমাণ দিতে না পারলে তাদের অর্থও সরকার নেবে না।

বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “পদ্মা সেতুর বিষয়ে একটি দাতা সংস্থা দুর্নীতির অভিযোগ করেছে। কিন্তু, আমরা দুর্নীতির কোনো প্রমাণ পাইনি।”

“আমি ওই সংস্থাকে বলেছি, দুর্নীতির প্রমাণ দেন। দুর্নীতির প্রমাণ দিতে না পারলে আমরা ওই সংস্থা থেকে এই প্রকল্পে অর্থ নেব না”, যোগ করেন তিনি।

২৯০ কোটি ডলারের পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংক ১২০ কোটি ডলার দেওয়ার জন্য সরকারের সঙ্গে চুক্তি করলেও পরে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অর্থায়ন স্থগিত করে। তাদের এ অভিযোগের তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশনও, যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বরাবরই দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

ইন্সটিটিউশন অফ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের জাতীয় সম্মেলন ও ৩৫তম কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্পের কাজ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে (পিপিপি) করার ওপর আরো গুরুত্ব দিতে হবে।

“আমরা কোনো অপবাদ নিয়ে চলতে পারি না। আমাদের আত্মনির্ভরশীল হতে হবে”, বলেন তিনি।

দাতাদের অনেক শর্তের কারণে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নে দেরি হয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের নিজের টাকায় করা প্রকল্পের কাজ তুলনামূলকভাবে তাড়াতাড়ি শেষ হয়।

বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসর পর পদ্মা সেতু নির্মাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এরই মধ্যে মূল সেতু, নদী শাসন ও সংযোগ সড়কের নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সরকার এ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে আসলেও যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে অন্য মন্ত্রণালয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান ওবায়দুল কাদের। এরপর পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে ঋণদাতা সংস্থাগুলোর মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংকের পাশাপাশি এডিবি ৬১ কোটি, জাইকা ৪০ কোটি এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ১৪ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে। বাকি অর্থের যোগান দেবে সরকার।

অর্থনৈতিক উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তি

ইন্সটিটিউশন অফ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের জাতীয় সম্মেলনের এবারের প্রতিপাদ্য ‘গণমুখী তথ্যপ্রযুক্তি বদলে দেবে অর্থনীতি’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে বলেন, “অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। সে কারণেই গত নির্বাচনে আমাদের অঙ্গীকার ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার।”

‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নের পথে সরকার গত তিন বছরে কতোটুকু সাফল্য পেয়েছে তা বিচারের ভার জনগণের ওপর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তবে আমরা আজ জোর দিয়ে বলতে পারি, সরকারি বিভিন্ন সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে এখন আর আগের ন্যায় ভোগান্তি পোহাতে হয় না।”

তিনি প্রকৌশলীদের সততার ওপর জোর দিতে বলেন এবং কাজের গুণগত মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

“আমরা বিশ্বাস করি, দক্ষ মানবসম্পদের চেয়ে কোনো সম্পদই বড় নয়। আমরা এজন্য জনশক্তিকে জনসম্পদে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছি”, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, তার সরকারের সময়ে সারাদেশে প্রায় ১ হাজার ৮০০ বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি (ভোকেশনাল) কোর্স চালু করা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে ৩টি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ ৪৯টি ইনস্টিটিউট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে স্থাপিত হয়েছে ২০৫টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

এছাড়া মেয়েদের জন্য আরো তিনটিসহ মোট ২৫টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিরা’ গ্রামে গিয়ে ছোট ছোট উৎপাদন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হলে সরকার তাদের পুঁজি দিয়ে সহযোগিতা করবে। কর্মসংস্থান ব্যাংকসহ তফসিলি ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হবে।

সংগঠনের সভাপতি এ কে এম এ হামিদের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুর রহমানও বক্তব্য রাখেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসইউএম/জেকে/১৭২৪ ঘ.