ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

অলক বোস
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

মাগুরা, জানুয়ারি ২৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ খালে অসময়ে পানি ছেড়ে দেওয়ায় মাগুরার শ্রীপুরে কমপক্ষে ১০ হাজার একর জমির রবি ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর আশ্বাস পাওয়া গেলেও মেলেনি কোনো প্রতিকার।

উপজেলার তারাউজিয়াল গ্রামের আবদুল জলিল, নজরুল ইসলাম ও নাকোল এলাকার আইয়ুব আলীসহ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, কোনো বছরই এই সময়ে পানি ছাড়া হয় না। অথচ এ বছর অসময়ে পানি ছাড়ায় ৩০টি গ্রামের রবিশস্যের ‘সর্বনাশ’ হয়ে গেছে।

কুষ্টিয়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহাকরী প্রকৌশলী সুবীর ভট্টাচার্য বলেন, প্রতি বছর মার্চের ১০ তারিখের দিকে জিকে প্রকল্পের পানি ছাড়া হয়। তবে বোরো ফসলের বীজতলা তৈরির কথা বিবেচনা করে এবার কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা অঞ্চলে জানুয়ারির ২০ তারিখের দিকেই পানি ছাড়া শুরু হয়।

মাগুড়ার শ্রীপুর উপজেলায় রবি শস্যের ক্ষতির বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেন সুবীর।

মাগুরা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া-চুয়াডাঙ্গা এই চার জেলার ১৩ উপজেলার সাড়ে ১৩ লাখ হেক্টর আবাদি জমিতে শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা দিতে ১৯৫৪ সালে জিকে সেচ প্রকল্প গড়ে তোলা হয়।

তারাউজিয়াল গ্রামে গেলে কৃষকরা জানান, খালে হঠাৎ পানি ছাড়ায় শ্রীপুরের লাঙ্গলবাঁধ থেকে শুরু করে আমলসার, টিকারবিলা, গোয়ালদহ, চর-চৌগাছী, মহেশপুর, দারিয়াপুর, বড়ইচারা, দোরাননগর, মাটিকাটা, কালিনগর, চিলগাড়ি, বালিয়াঘাটা, নবগ্রাম, সাচিলাপুর, তারাউজিয়াল, কাজলী, বাখেরা, সোনাইকুড়ি, মোর্তোজাপুর, হোগলডাঙ্গা, বরিষাট নাকোল, কমলাপুর, ঘাসিয়াড়াসহ অন্তত ৩০টি গ্রামের ক্ষেতে গত রোববার রাত থেকে পানি ঢুকতে শুরু করে।

কৃষকদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে জিকে প্রকল্প থেকে পানি না পেয়েই কৃষকরা ধান-পাটের বদলে রবিশস্য আবাদ করতে বাধ্য হন। রবিশস্যের জন্য তারা শ্যালো মেশিনের সাহায্যে সেচের ব্যবস্থা করে থাকেন।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুহুল কবীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগাম পানি ছাড়ায় আবাদ করা রবিশস্যের ৪০ ভাগ ক্ষতি হবে। টাকার অংকে ধরলে তা ১৫ কোটি টাকার কম হবে না।”

তিনি জানান, খালে পানি না ছাড়ার জন্য ১০ জানুয়ারি শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়। তারপরও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে জিকে খালে পানি সরবরাহ করায় এ অবস্থা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় জানায়, চলতি রবিশস্য মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ৫৩০ একর জমিতে মসুর, ৬২৫ একরে খেসারী, ৮১০ একরে সরিষা, ২ হাজার একরে পিঁয়াজ, ৪৬৪ একরে রসুন, ৩ হাজার ৭৭০ একরে গম, ৮৪০ একরে সবজি, ৪০০ একরে মটর, ৩৫ একরে ছোলা, ২৪৫ একরে তিসি ও ১২৫ একরে ধনিয়ার চাষ হয়েছে। এসব ফসল মাস খানেকের মধ্যে কৃষকরা ঘরে তুলতো।

মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মতিয়ার রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগাম পানির কারণে শ্রীপুরের কিছু কিছু এলাকায় রবিশস্যের ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি জিকে প্রকল্প কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। যতো দ্রুত সম্ভব এর সুরাহা করা হবে।”

বোরো ফসলের জন্যই এবার প্রথম আগাম পানি ছাড়া হলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেসব এলাকার কৃষকরা আগাম বোরো চাষ করবেন তাদের বীজতলা তৈরির জন্য এই পানি কাজে লাগবে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/এমএইচপি/সিএস/জেকে/০৯৩০ ঘ.