ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, জানুয়ারি ৩০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে রাজধানীবাসীর মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সংঘাতের পথ ছেড়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রত্যাশা করছেন তারা।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, বিএনপি সোমবার দুপুর ২টায় নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে গণমিছিল শুরু করবে। খালেদা জিয়া নেতৃত্বাধীন এই মিছিল শেষ হবে মগবাজারে।

মিছিলটি বাংলামটর পর্যন্ত যাওয়ার কথা থাকলেও পরে পথ কমিয়ে আনা হয়। দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল, শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক হয়ে মগবাজারে গিয়ে শেষ হবে মিছিল।

এই শর্তে বিএনপিকে মিছিল করতে দেওয়ার কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দলীয় চেয়ারপারসনের নিরাপত্তার দিক বিবেচনা করে মিছিলের পথ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে বেলা ৩টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভা করবে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ।

দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল একই দিনে কর্মসূচি ডাকা রাজধানীবাসীর মনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আগের দিন বিএনপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় সংঘাত ও চার জন নিহত হওয়ার পর উৎকণ্ঠা আরো বেড়েছে।

সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের না যেতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই অভিভাবকদের নিরুৎসাহিত করেছেন। অভিভাবকরাও তাতে সায় দিয়েছেন। অন্যদিকে অনেকে বলেছেন, দুই দলের কর্মসূচির আগে দুপুরের মধ্যেই বাইরের সব কাজ সারতে হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি এই কর্মসূচির বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল একটি দৈনিককে বলেন, সবাই দলগুলোর প্রতি সংবেদনশীল আচরণ প্রত্যাশা করে।

“প্রধান দুই দলের বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী থাকার পরও তারা তাদের শক্তি জনদুর্ভোগে ব্যবহার করছে,” বলেন তিনি।

রাজনৈতিক সংঘাত বাড়লে দেশে পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন মানবাধিকার সংগঠক সুলতানা কামাল।

একই দৈনিককে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ব্যারিস্টার রফিক উল হক দেশকে ‘কুস্তি খেলার’ মাঠে পরিণত না করতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। বিরোধী দলের কর্মসূচির দিনে সরকারি দলের কর্মসূচি ঘোষণারও সমালোচনা করেন তিনি।

ব্যারিস্টার রফিক দলগুলোকে সতর্ক করে বলেন, “পুরনো রাজনৈতিক চর্চায় নিয়ে গেলে পরিস্থিতি ভালো নাও হতে পারে।”

বিএনপির মিছিলের কথা ছিল রোববার। কিন্তু ওইদিন আওয়ামী লীগ পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দিলে পুলিশ রাজধানীতে সব ধরনের মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এরপর বিএনপি কর্মসূচি একদিন পিছিয়ে দিলে তা অনুসরণ করে ক্ষমতাসীন দলও।

এদিকে রোববার ঢাকায় না হলেও সারাদেশে গণমিছিলের কর্মসূচি ঠিক রেখেছিল বিএনপি। তবে গণমিছিলের সময় লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুরসহ কয়েকটি জেলায় পুলিশের সঙ্গে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। তাতে নিহত হয় চার জন।

বিএনপি বলছে, গণমিছিলে পুলিশের বাধা ও গুলি চালানোই এই চার জনের মৃত্যুর কারণ। ফখরুল বলেন, “এভাবে নিরীহ মানুষের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণের মাধ্যমে সরকারের স্বৈরাচারী চেহারা জনগণের কাছে উন্মোচিত হয়েছে।”

এদিকে বিএনপির কর্মসূচির দিনে জনসভা আহ্বানকারী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, পরিবেশ বিবেচনা করেই দলের ঢাকা মহানগর শাখা এই কর্মসূচি করছে।

যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচালে ষড়যন্ত্র চলছে দাবি করে তার প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচি পালন করছে আওয়ামী লীগ। দলীয় নেতারা বলছেন, সোমবারের জনসভা তাদের ধারাবাহিক কর্মসূচিরই অংশ।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালসহ বিভিন্ন দাবিতে বিএনপি গত ৯ জানুয়ারি ঘোষণা দিয়েছিল, তারা ২৯ জানুয়ারি (রোববার) রাজধানীসহ জেলা সদরগুলোতে গণমিছিল করবে। এরপর গত ২৬ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে জনসভা করার ঘোষণা দেয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার রাজধানীতে সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সব ধরনের মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। আরো চার বিভাগীয় শহরেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসে পুলিশের তরফ থেকে।

তখন রাজধানীর রোববারের নির্ধারিত গণমিছিল সোমবার করবে বলে শনিবার ঘোষণা দেয় বিএনপি। এরপর আওয়ামী লীগ জানায়, তারাও রোববারের জনসভা সোমবার করবে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএম/এসইউএম/এমআই/০৯৩০ ঘ.