ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, ফেব্র“য়ারি ০২ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে স্থায়ী জামিন দিয়েছে বিচারিক আদালত।

উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় খালেদা বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে হাজির হয়ে আবারো জামিনের আবেদন করলে বিচারক জহুরুল হক তা মঞ্জুর করেন।

মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশীদ গত ১৬ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আগামী ১৪ ফেব্র“য়ারি এই অভিযোগপত্রের গ্রহণযোগ্যতার শুনানির দিন ধার্য আছে।

বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমেদ। এছাড়া জমির উদ্দিন সরকার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, আমিনুল হক, মাহবুবউদ্দিন খোকন, লুৎফে আলম, ইকবাল হোসেন, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, এ বি এম ওয়ালিউর রহমান, মহসিন মিয়া, তৈমুর আলম খন্দকারসহ সহস্রাধিক আইনজীবী খালেদার পক্ষে আদালত কক্ষসহ বারান্দায় উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, সহসভাপতি সাদেক হোসেন খোকা, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, রুহুল কবির রিজভী, মহানগর সদস্য সচিব আবদুস সালামসহ কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন এ সময়।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল।

গত বছরের ৮ অগাস্ট তেজগাঁও থানায় দায়ের করা এ মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’-এর নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত ১ কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেওয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি।

দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, জমির মালিককে দেওয়া ওই অর্থ ছাড়াও ট্রাস্টের নামে মোট ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যা এসেছে অবধৈ উৎস থেকে।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- বিগত চার দলীয় জোট সরকারের সময়ে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, রাজনৈতিক সচিবের এপিএস জিয়াউল ইসলাম (মুন্না) এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার এপিএস মনিরুল ইসলাম খান।

খালেদা জিয়া গত ৮ ডিসেম্বর বিচারপতি সৈয়দ মো. দস্তগীর হোসেন ও গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের হাইকেটের বেঞ্চে হাজির হয়ে জামিন চাইলে আদালত ৮ সপ্তাহের জামিন মঞ্জুর করেন। অভিযোগপত্র আদালতে জমা পড়ার পর ১৭ জানুয়ারি মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে হাজির হয়ে ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় সেই জামিন নামা বিচারিক আদালতে দাখিল করেন তিনি।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুদকের কোনো মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এটাই প্রথম অভিযোগপত্র।

এ মামলার শুনানিতে আসার আগে মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের ষষ্ঠ তলায় মহানগর বিশেষ জজ আদালত-৩ এ হাজির হন খালেদা। তিনি এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছানোর আবেদন করলে বিচারক মোজাম্মেল হোসেন তা মঞ্জুর করে ১৮ মার্চ নতুন তারিখ ধার্য করেন।

এই দুই দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে খালেদা জিয়া আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে। আইনজীবীদের ভিড় ডিঙিয়ে তাকে আদালতে প্রবেশ করাতে বেশ বেগ পেতে হয় নিরাপত্তা কর্মীদের। বিরোধী দলীয় নেতা আদালত কক্ষে প্রবেশ করার পর বিচারক মামলার কার্যক্রম শুরু করেন। বিচারক মোজাম্মেল হোসেন আদেশ দেন এর সাত মিনিটের মাথায়।

খালেদা জিয়ার আসার খবরে পুরান ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নর্থ সাউথ রোড থেকে আদালত পর্যন্ত রাস্তার দুই ধারে সমবেত হন দলের নেতাকর্মীরা।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যদের সকালে আদালত প্রাঙ্গণে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার ছবি সম্বলিত ব্যানার হাতে মিছিল করতে দেখা যায়। এ সময় তারা শ্লোগান দেন- ‘খালেদা জিয়া, ভয় নাই’।

এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ে দুই মামলার শুনানি শেষে তিনি আদালতপাড়া ত্যাগ করেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/পিবি/এসএম/জেকে/১৩০১ ঘ.