ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, ফেব্র“য়ারি ০৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- দেশের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মূল দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন সাবেক সিএসপি কর্মকর্তা কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ।

এই কাজে তিনি সঙ্গী হিসেবে পেয়েছেন জনপ্রশাসনে এক সময়ের দুই সহকর্মী, অবসরপ্রাপ্ত এক জন জজ এবং সাবেক এক জন সেনা কর্মকর্তাকে।

এ টি এম শামসুল হুদার উত্তরসূরি হিসেবে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান অবসরপ্রাপ্ত সচিব কাজী রকিবকে মনোনীত করেন।

সিইসি পদে কাজী রকিবকে নিয়োগের পাশাপাশি বুধবার চার জনকে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

তারা হলেন- সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবু হাফিজ, সাবেক যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ আব্দুল মোবারক, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাবেদ আলী এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা দায়রা জজ মো. শাহনেওয়াজ।

রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব এ কে এম নেছারউদ্দিন ভূঞা দুপুরে তাদের নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও সন্ধ্যায় প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এরপর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব মো. সাদিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “নতুন সিইসি ও চার কমিশনারের নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন হাতে পেয়েছি আমরা। তাদের শপথ বৃহস্পতিবার আয়োজনের ব্যবস্থা নিতে প্রধান বিচারপতি বরাবর আবেদন জানানো হবে।”

নিয়ম অনুযায়ী, সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান এই ব্যক্তিদের প্রধান বিচারপতি শপথ পড়াবেন।

শপথ অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার বিকালে হতে পারে বলে ইসি সচিব জানান।

মুক্তিযোদ্ধা কাজী রকিব সংসদ সচিবালয়ের সচিব হিসেবে ২০০৩ সালে অবসরে যান। এর আগে স্বরাষ্ট্র সচিবের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। কর্মজীবনে বিভিন্ন কর্পোরেশনে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

তার এক সময়ের সহকর্মী একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “১৯৬০ এর দশকের শেষ দিকে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়া রকিব সৎ এবং আদর্শবান কর্মকর্তা হিসেবে সুনাম অর্জন করেন।”

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে এর আগে ১০ জন সিইসি দায়িত্ব পালন করেছেন। কাজী রকিব হচ্ছেন একাদশ সিইসি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া কাজী রকিব দায়িত্ব নেওয়ার আগে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া জানাতে রাজি হননি।

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের সুপারিশে কাজী রকিবের বিকল্প হিসেবে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদারের নাম প্রস্তাব করেছিল রাষ্ট্রপতি গঠিত সার্চ (অনুসন্ধান) কমিটি।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই কমিটি রাষ্ট্রপতির কাছে যে সুপারিশ জমা দেয়, তাতে কমিশনারের চারটিসহ পাঁচ পদের জন্য ১০টি নাম আসে। তার মধ্য থেকেই পাঁচ জনকে বেছে নেন রাষ্ট্রপতি।

নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাবেদ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মাহমান্য রাষ্ট্রপতি আমাকে মনোনীত করেছেন, এ জন্য আমি গর্ববোধ করছি। এ দায়িত্ব পালনে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে স্বচ্ছ ও সততার সঙ্গে কাজ করবো।”

এদিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এই ইসিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, যে প্রক্রিয়ায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়োগ করা হয়েছে তা অসাংবিধানিক ও বেআইনি। এ কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না।

এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ চলতি মাসেই শেষ হওয়ায় রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করে গত মাসে এই অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেন, শুরু থেকেই যার বিরোধিতা করে আসছিল বিএনপি।

এই কমিটির আহ্বানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি দল নতুন কমিশনের জন্য তাদের পছন্দের ব্যক্তির নামের তালিকা দিলেও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি কোনো নাম দেয়নি।

আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন নেতৃত্বাধীন সার্চ কমিটির অন্য তিন সদস্য ছিলেন- হাই কোর্টের বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান, পিএসসি চেয়ারম্যান এ টি আহমদুল হক চৌধুরী ও মহাহিসাব নিরীক্ষক আহমেদ আতাউল হাকিম।

বিদায়ী সিইসি এ টি এম শামসুল হুদা নিয়োগ পান ২০০৭ সালের ৫ ফেব্র“য়ারিতে। ইতোমধ্যে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এএইচসি/পিসি/জেকে/এমআই/১৮৩৪ ঘ.