ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, মার্চ ০৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে ব্যাপক সংঘর্ষের পর রাজধানীর প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি অনির্দিষ্টকালের জন্য এবং সাউথ-ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম দুই দিনের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর বনানীতে এ দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের সময় অন্তত ৩০ জন আহত হন। দুই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছাড়াও কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ে বেশ কয়েকটি ভবন ও গাড়ি ভাঙচুর করে উছৃঙ্খল ছাত্ররা।

গুলশান জোনের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার নিজামুল হক জানান, ক্যান্টিনে খাওয়া নিয়ে দুই দল ছাত্রের কথা কাটাকাটির জের ধরে প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি ও সাউথ-ইস্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পৌনে ৫টার দিকে কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে ও লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন আহম্মেদ সন্ধ্যায় জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আর সাউথ-ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমও রবি ও সোমবার বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন রেজিস্ট্রার লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব) আলী আম্বিয়াল হক খান।

প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির ছাত্র মিজানুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বনানী ১৭ নম্বর সড়কে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইউনিটের পশ্চিমে প্রায় একশ গজ ব্যবধানে সাউথ-ইস্ট ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরি এবং আইন ইউনিট। দুপুর দেড়টার দিকে সাউথ-ইস্টের কয়েকজন ছাত্র এসে টেক্সাটাইল ইউনিটের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকে এবং এক পর্যায়ে তারা ভাংচুর শুরু করে। এরপরেই আশেপাশের এলাকায় তাদের আরো তিনটি ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সাউথ-ইস্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্ররাই যে প্রথমে হামলা চালায় তা স্বীকার করেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নিরাপত্তা কর্মীও। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি জানান, প্রথম হামলার পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

তবে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাদনান তানভি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি শুনেছি, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির এক ছাত্র প্রায়ই আমাদের এক ছাত্রীকে উক্ত্যক্ত করতো। সেই ছাত্রী ক্যম্পাসে এসে বিষয়টি জানালে সাধারণ ছাত্ররা এর প্রতিবাদ করে।”

তবে সেই ছাত্রীর পরিচয় বা এ ব্যাপারে আর কোনো তথ্য জানাতে পারেননি তানভি।

তিনি বলেন, “প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা এসে আমাদের নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা ক্যাম্পাস ভাংচুর করেছে।”

প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি কন্ট্রোলার আশরাফুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটককমকে বলেন, “সাউথ-ইস্ট ইউনিভার্সিটির ছেলেরা হঠাৎ এসে ভবন ও জানালার কাচ ভাংচুর করে গেলো। আমরা কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি।”

দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ সড়কের দুই প্রান্তে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। এতে কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ এবং আশেপাশের সড়কগুলোতেও ছাত্রদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

সংঘর্ষ থামাতে না পেরে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুঁড়তে শুরু করে পুলিশ। এরপর পৌনে ৫টার দিকে কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ে যান চলাচল শুরু হয়।

পুলিশের গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার শাহনেওয়াজ খালেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা অনেক সহনশীলতা পরিচয় দিয়েছি। তারপরও ছাত্ররা শান্ত হয়নি। বাধ্য হয়ে আমাদের কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়তে হয়েছে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এলএইচ/কেটি/জেকে/১৯০৯ ঘ.