ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 


ঢাকা, মার্চ ০৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- সরকারের ভারতনীতির পক্ষে জোরাল যুক্তি তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, অতীতের যে কোনো সময়ে চেয়ে অনেক বেশি অর্জন হয়েছে।

তিনি বলেছেন, এর ফলে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি দ্রুত বাড়ছে।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের জন্য সোমবার আয়োজিত এক নৈশ ভোজে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ভারত একটি বিশাল বাজার। এর সুবিধা আমাদের নেওয়া উচিত।”

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে ‘সীমান্তের দুপারেই কাজ চলছে’ উল্লেখ করে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে চুক্তি না হওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।

ভারতকে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ট্রানজিট দেওয়া প্রসঙ্গে এক সম্পাদকের প্রশ্নের জবাবে দীপু মনি বলেন, “বাণিজ্য বৃদ্ধির ফলে কতগুলো স্থলবন্দরের উন্নয়ন করা হয়েছে তা কি কেউ জানার চেষ্টা করেছেন?”

গত সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের পর বাংলাদেশের ৬১টি পণ্যকে ভারতের দেওয়া শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের দিকেই ইঙ্গিত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সুবিধা পাওয়া পণ্যের ৪৭টি তৈরি পোশাক খাতের।

তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের রপ্তানির কোনো পরিসংখ্যান এ সময় দেননি। উপস্থিত সাংবাদিকদের এ নিয়ে তেমন আগ্রহও ছিল না। তারা বরং ট্রানজিট, সীমান্ত হত্যা এবং অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে জানতে আগ্রহী ছিলেন।

গত অর্থবছরের (২০১০-১১) পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি তিনশ ৫০ কোটি ডলার।

গত বছরের জুলাই-ডিসেম্বরে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল আগের বছরের একই সময়েল চেয়ে কিছুটা ভালো ছির। ২০০১ সালের ওই সময়ে রপ্তানি হয় ১৮৩৫ কোটি ডলারের পণ্য, এর আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৩৬২ কোটি ডলার।

সীমান্তে ভারতের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর গুলিতে বাংলাদেশি নিহত হওয়া এবং নির্যাতনের ঘটনা প্রসঙ্গে দীপু মনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা কমে এসেছে। তবে তা একেবারে বন্ধ হয়নি।”

“সীমান্তে কোনো রকম হত্যাকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব আমরা প্রতিবাদ জানাই।”

“[সরকারের] সব পর্যায়ে প্রতিবাদ জানানো হয়” জানিয়ে দীপু মনি বলেন, “এটা সত্যি যে, ভারতের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আশ্বাস সত্ত্বেও গুলির ঘটনা ঘটে।”

গত বছর সবচেয়ে বড় দুই ছিটমহল দহগ্রাম-আঙ্গরপোতায় অধিবাসীদের প্রতিবাদ কর্মসূচি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৪ সালের ঐতিহাসিক স্থলসীমা চুক্তি বাস্তবায়ন হলে বিষয়টি শান্ত হবে।

“চুক্তিটি অনুসমর্থন করতে ’৭৫ সালে জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের পর কেউ কি কোনো চাপ দিয়েছে?”

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ইন্দিরা গান্ধীর ওই চুক্তি স্বাক্ষরের পরের বছরই একদল সেনাসদস্য বঙ্গবন্ধুকে তার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যসহ গুলি করে হত্যা করে।

ভারত ওই চুক্তি এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন বা অনুসমর্থন না করলেও মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সোমবার সাংবাদিকদের জানান, চুক্তিটিতে ভারত অনুসমর্থন দিতে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর দুই উপদেষ্টার সমর্থনেও কথা বলেন দীপু মনি।

তিনি বলেন, তারা তার মন্ত্রণালয়কে সহায়তা করছেন।

রোববার সংসদে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের-দৃশ্যত আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী ও অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমানকে-ইঙ্গিত করে তাদের তীব্র সমালোচনা করেন ক্ষমতাসীন মহাজোটের শরিক ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

জোটের আরেক শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদও তাদের সমালোচনা করেন সোমবার।

দুই উপদেষ্টা ভারতের স্বার্থে কাজ করছেন বলে মন্তব্য করেন ওই দুই সাংসদ।

গত সেপ্টেম্বরে মনমোহনের ঢাকা সফরের প্রস্তুতি হিসাবে এর আগে নয়া দিল্লি সফর করেন গওহর ও মশিউর। এছাড়া মনিপুর রাজ্যের টিপাইমুখে ভারতের বাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্তের পক্ষে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন তারা। টিপাইমুখ বাঁধ বিষয়ে বাংলাদেশ আলোচনা চালাচ্ছে- এমন এক সময়ে তারা এ বিষয়ে ভারতের পক্ষে কথা বলেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/টিআইকে/পিডি/জিএনএ/০০৩৭ ঘ.