ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, ফেব্র”য়ারি ২৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে নন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, “আমি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে নই। সবাই মুনাফা করবে। তবে, সেটা যেন সহনশীল পর্যায়ে হয়। আমি আশা করবো, দ্রব্যমূল্য জনগণের নাগালে রেখে তারা ব্যবসা করবে। আমরা ব্যবসায়ীদের তা বোঝানোর চেষ্টা করছি। আমরা ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলছি। তারা যে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে, আমরা তা নিচ্ছি।”

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

ব্যবসায়ীদের ‘সিন্ডিকেটের’ কারণে নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন অবস্থায় রয়েছে মন্তব্য করে চট্টগ্রাম-১১ আসনের সাংসদ সামশুল হক চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, সরকার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় দেশে দ্রব্যমূল্য কম।

“শুধু ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ দিলে হবে না। তাদের সমস্যাও দেখতে হবে। তারা যাতে দ্রব্যমূল্য সহনশীল পর্যায়ে রাখে, আমরা সে অনুরোধ করবো। তারপরও কেউ মজুদদারী করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” যোগ করেন শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের সাংসদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের আরেক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বিভিন্ন দেশ থেকে খাদ্য আমদানি করে মজুদ বাড়ানোর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যেখান থেকে যা পাওয়া যাচ্ছে, আমরা তা আনছি।”

তিনি বলেন “একটু দাম বাড়লে কৃষক খুশি হয়। কিন্তু যারা সীমিত আয়ে চলেন, তাদের একটু অসুবিধা হয়ে যায়। এই সীমিত আয়ের মানুষের কষ্ট লাঘবে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছি।”

এর আগে, চট্টগ্রাম-১১ আসনের সাংসদ সামশুল হক চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “বর্তমান সরকার জঙ্গীবাদ বা সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না। বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে প্রতিবেশী অন্য কোনো দেশেও যাতে কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালিত হতে না পারে, সে ব্যাপারেও সরকার বদ্ধপরিকর। সন্ত্রাস দমনে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ ইতোমধ্যে দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। সরকারের পদক্ষেপের কারণে গত দুই বছরে দেশের ভেতরে বড় কোনো জঙ্গী বা সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটতে পারেনি।”

কিছু জঙ্গী সংগঠন ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরো বেশ কিছু সংগঠনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সন্ত্রাস দমনে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিবরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নির্র্মূলে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। জুমার নামাজের খোতবার আগে ঈমামদের সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের কুফল সম্পর্কে বিশেষ বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে। তারা তা করছেন।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসইউএম/জেকে/১৭৪৪ ঘ.