ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

আবদুর রহিম হারমাছি
প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

ঢাকা, এপ্রিল ০১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বরাবরের মতো চলতি অর্থবছরেও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থ কাটছাঁট হলেও আগামী অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ছে।

চলতি ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় এডিপিতে বরাদ্দ রাখা হয় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। তবে অর্থ ব্যয় আশানুরূপ না হওয়ায় এই বরাদ্দ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা ছেঁটে ফেলা হচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য শামসুল আলম শনিবার সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ৪০ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি অনুমোদনের প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়েছে।

রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের বৈঠকে সংশোধিত এডিপি অনুমোদন হবে।

বরাবরের মতো এবারও এডিপি কাটছাঁটের বিষয়ে শামসুল বলেন, “মূলত প্রকল্পের টাকা খরচ করতে না পারার কারণেই এডিপি কাটছাঁট করা হচ্ছে। এছাড়া প্রকল্প সাহায্য কম ছাড় হওয়া এডিপি কমানোর অন্যতম কারণ।”

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থ বছরের প্রথম আট (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৩৮ শতাংশ। গত অর্থবছরের এ সময়ে বাস্তবায়নের হার ছিল ৩৭ শতাংশ।

প্রতিবারই এডিপি কাটছাঁটে হতাশা প্রকাশ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটাই আমাদের দুর্ভাগ্য। প্রতি বছরই আমরা বিশাল অংকের এডিপি নেই। কিন্তু বাস্তবায়ন আশানুরূপ না হওয়ায় ছেঁটে ফেলি।

“অর্থবছরের শেষ দিকে এসে আবার তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করি। এতে টাকা খরচ হয় ঠিকই, কিন্তু কাজের মান ভালো হয় না।”

গত অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৯২ শতাংশ। ২০০৯-১০ অর্থবছরে ছিল ৯০ শতাংশ। আর ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বাস্তবায়ন হয়েছিল ৮৬ শতাংশ।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতি বছরই প্রথম সাত-আট মাস পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়নের হার হতাশাজনক থাকলেও অর্থবছরের শেষে তা দ্রুত বেড়ে যায়।

“এটা আমাদের সংস্কৃতিরই একটি অংশ হয়ে গেছে। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অর্থবছরের শুরু থেকেই কাজের গতি বাড়াতে হবে,” বলেন মির্জ্জা আজিজ।

আগামী ২০১২-১৩ অর্থবছরে এডিপি আকার ৫৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা হচ্ছে বলে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামসুল জানান। এর মধ্যে স্থানীয় সম্পদের পরিমাণ ৩৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা (৬০ শতাংশ)। আর প্রকল্প সাহায্য (বিদেশি সাহায্য) ২০ হাজার কোটি টাকা।

শামসুল আলম বলেন, “বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দাবির পরিপেক্ষিতে পরিকল্পনা কমিশন এডিপির এই আকার চূড়ান্ত করেছে। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে যা চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।”

রোববারের এনইসি বৈঠকে নতুন এডিপি নিয়ে আলোচনা হবে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, বৈঠকে মূলত সংশোধিত এডিপি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। তবে প্রসঙ্গক্রমে নতুন এডিপি আলোচনায় আসতে পারে।

বাজেট পেশের আগে এনইসি’র বৈঠকে নতুন এডিপি অনুমোদন দেওয়া হবে বলে জানান পরিকল্পনা কমিশন সদস্য।

পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের সংশোধিত এডিপিতে বিদেশি সহায়তা কমিয়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। মূল এডিপিতে ১৮ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা বিদেশি সাহায্য আসবে বলে ধরা হয়েছিল।

আর স্থানীয় মুদ্রায় সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকা। মূল এডিপিতে এর পরিমাণ ছিল ২৭ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা।

সংশোধিত এডিপিতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ খাতে ৭ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। এরপর যোগাযোগ বা পরিবহন খাতে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। তৃতীয় স্থান রয়েছে পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৫ হাজার কোটি টাকা।

নতুন এডিপিতেও এই তিন খাতের বেশি বরাদ্দ থাকবে বলে জানান শামসুল আলম।

সংশোধিত এডিপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবার সংশোধিত এডিপিতে তিনটি বিবেচনায় প্রকল্প সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এগুলো হলো- এবছর সমাপ্ত হবে এমন প্রকল্প, বিদেশি সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প এবং ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ প্রকল্প।

প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীর গতি প্রসঙ্গে শামসুল বলেন, “বছরের শেষদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এজন্য বছরের শুরুতেই প্রকল্পভিত্তিক ক্রয় পরিকল্পনা থাকা দরকার।”

এদিকে চলতি অর্থবছরে মূল্য এডিপির আকার কমানো হলেও প্রকল্প সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। মূল এডিপিতে প্রকল্প ছিল ১ হাজার ৩৯টি, কিন্তু নতুন করে ১৩৯টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করে সংশোধিত এডিপিতে প্রকল্প সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১ হাজার ২৭৮টি।

গত কয়েক বছরের এডিপি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে মূল এডিপির আকার ছিল ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ২৩ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়।

২০০৯-১০ অর্থবছরে ৩০ হাজার ৫০০ কোটি টাকার এডিপি কাঁটছাট করে নামিয়ে আনা হয় ২৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকায়।

২০১০-১১ অর্থবছরে মূল এডিপি ছিল ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কমিয়ে আনা হয় ৩৫ হাজার ৮৮০ কোটি টাকায়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এআরএইচ/এমআই/১০২৯ ঘ.