ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, এপ্রিল ০৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- একাত্তরে ‘বাচ্চু রাজাকার’ নামে পরিচিত আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তারের আদেশ হওয়ার পর রাজধানীর উত্তরা ও উত্তরখানে তার দুটি বাড়িতে নজর রেখেছেন পুলিশের গোয়েন্দারা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তরা জোন) নেসারুল আরিফ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সাদা পোশাকের গোয়েন্দারা আবুল কালাম আজাদের দুটি বাড়ির ওপর নজর রেখেছেন। এ ব্যাপারে থানা পুলিশের সহায়তা চাইলে তা দেওয়া হবে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে মঙ্গলবার আজাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ কমিশনার (উত্তরা জোন) নেসারুল আরিফ বলেন, “পরোয়ানা এখনো থানায় আসেনি। হাতে পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আবুল কালাম আজাদ মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরে জামায়াত নেতা আলী আহসান মো. মুজাহিদের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তাকে গ্রেপ্তারের জন্য নয়টি কারণ তুলে ধরে প্রসিকিউটর হায়দার আলী সোমবার ট্রাইব্যুনালকে বলেন, “একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সহযোগীদের নিয়ে তিনি ফরিদপুর সদর, বোয়লামারী, নগরকান্দা, মধুখালী, কামারখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে এসব অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে।”

তিনি আদালতকে বলেন, ‘বাচ্চু রাজাকার’ এলাকায় খুব প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার পাঁচটি এনজিও রয়েছে। ওয়াজ-নসিহতের মাধ্যমে মানুষকে বশে আনার ক্ষেত্রে তার রয়েছে ‘সম্মোহনী শক্তি’।

ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেওয়ার পর প্রসিকিউটর জিয়াদ আল মালুম সাংবাদিকদের বলেন, “আবুল কালাম আজাদকে যেদিন গ্রেপ্তার করা হবে, তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে হবে। ডিএমপি কমিশনারকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ট্রাইব্যুনালের আদেশে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এলএইচ/জেকে/১৪৩০ ঘ.