ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, মার্চ ০২ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বাংলাদেশ ব্যাংক অব্যাহতির আদেশ দিলেও নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে যথারীতি বহাল আছেন বলে মনে করে গ্রামীণ ব্যাংকের আইন পরামর্শদাতারা।

বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় গ্রামীণ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানানো হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার ইউনূসকে অপসারণের আদেশ জারির পর রাজধানীর মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যলয়ে এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (তথ্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়) জান্নাত-ই-কাওনাইন লিখিত বক্তব্যে বলেন, “গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে মো. ইউনূসকে অব্যাহতি দিয়েছে।”

এটি একটি আইনগত বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মাননীয় অর্থমন্ত্রী মহোদয়ও বলেছেন, এটা আইনগত বিষয়।”

তিনি জানান, গ্রামীণ ব্যাংক এ বিষয়ে আইনজ্ঞদের পরামর্শ নিচ্ছে। তারা সম্পূর্ণ বিষয়টির আইনগত দিক পরীক্ষা করে দেখবেন।

গ্রমীণ ব্যাংক একনিষ্ঠভাবে সব আইন পালন করে এসেছে দাবি করে জান্নাত-ই-কাওনাইন বলেন, “গ্রামীণ ব্যাংক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নিয়োগ সংক্রান্ত আইনসমুহ যথাযথভাবে পালন করে এসেছে। ব্যাংকের আইন পরামর্শদাতাদের মতে, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নোবেল বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস যথারীতি তার পদে বহাল আছেন।”

ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি গ্রামীণ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক।

১৯৮৩ সালে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইউনূস এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।

বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সচিবালয়ের (প্রোটকল শাখা) উপ মহা ব্যবস্থাপক এ এফ এম আসাদুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মুহাম্মদ ইউনূসকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে।”

নির্ধারিত বয়সের বেশি সময় বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান পদে থাকার কারণে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত স¤প্রতি ইউনূসকে ওই পদ ছাড়ার আহ্বান জানান। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কয়েকদিন আগেই বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়।

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে নরওয়ের টেলিভিশনে প্রচারিত এক প্রামাণ্যচিত্রে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ফান্ডে বিপুল পরিমাণ তহবিল স্থানান্তরের অভিযোগ ওঠে।

দেশে বিদেশে ব্যাপক আলোচনার ঝড় ওঠে ওই প্রামাণ্যচিত্র প্রচারের পর। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে সরকারদলীয় কয়েকজন নেতা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইউনূসের সমালোচনায় মুখর হন।

গ্রামীণ ব্যাংক বিষয়ে ওঠা অভিযোগ পর্যালোচনার জন্য সরকার ইতোমধ্যে একটি কমিটি করেছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/আরবি/এমআই/জেকে/১৮৫৩ ঘ.