ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, এপ্রিল ০৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বাংলাদেশের গ্রামের মানুষের ‘জীবনযাত্রা পাল্টে দিতে’ গ্রামীণ ব্যাংক পুরোপুরি সক্রিয় রয়েছে বলেই মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ওয়েন্ডি শেরম্যান।

তবে আন্তর্জাতিক স¤প্রদায় নোবেল বিজয়ী এ প্রতিষ্ঠানে শিগগিরই একজন নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দেখতে আগ্রহী বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

শুক্রবার মনিকগঞ্জের কটিগ্রামে গ্রামীণ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয় পরিদর্শন শেষে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেরম্যান এ কথা বলেন।

গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগে সাবেক এমডি ইউনূসের নেতৃত্বে অনুসন্ধান কমিটি গঠনের একটি প্রস্তাব সরকার সম্প্রতি নাকচ করে দেয়।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তৃতীয় ক্ষমতাধর এই কর্মকর্তা বলেন, “আমি নিশ্চিত যে দীর্ঘ মেয়াদে গ্রামীণ ব্যাংকের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য একজনকে বেছে নেওয়া হবে। আর আন্তর্জাতিক স¤প্রদায় দেখতে চায়, সম্ভব দ্রুততম সময়ে এটা করা হচ্ছে।”

অনুমোদন না নিয়ে পদে থাকার কারণ দেখিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত বছর ২ মার্চ গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব থেকে ইউনূসকে অব্যাহতি দেয়। এর বিরুদ্ধে ইউনূস উচ্চ আদালতে গেলেও তা খারিজ হয়ে যায়।

তবে আপিল বিভাগের ওই আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য গত ডিসেম্বরে একটি আবেদন করেছেন ইউনূস, যিনি ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনের চেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয় করেন।

২০১০ এর ডিসেম্বরে নরওয়ের টেলিভিশনে প্রচারিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রামীণ ব্যাংককে দেওয়া বিদেশি অর্থ এক তহবিল থেকে অন্য তহবিলে স্থানান্তরের অভিযোগ ওঠার পর দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনায় একটি কমিটি গঠন করে সরকার।

ইউনূসকে অপসারণের পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত একাধিকবার বলেছিলেন, একটি অনুসন্ধান কমিটি করে গ্রামীণ ব্যাংকে নতুন এমডি নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত সেই কমিটি গঠিত হয়নি।

সর্বশেষ গত ৩১ মার্চ মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্য ব্যাংকের নতুন এমডি নিয়োগ দেওয়ার জন্য ড. ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অনুসন্ধান কমিটি করার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু সরকার এই প্রস্তাবে ‘কোনোভাবেই’ রাজি নয় বলে উল্লেখ করেন মুহিত।

এ বিষয়ে ওয়েন্ডি শেরম্যান বলেন, “একটি বিষয় স্পষ্ট যে গ্রামীণ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডির সহায়তায় নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে (কর্তৃপক্ষ) সচেষ্ট। পাশাপাশি (ব্যাংকের) দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সহযোগিতা দিতেও তারা পুরোপুরি সক্রিয়। গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য এটা জরুরি।”

গ্রামীণ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্বে থাকা উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহানও এই সফরে শেরম্যানের সঙ্গে ছিলেন।

গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে এই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এই ব্যাংকের সেবা নিয়ে ক্ষুদ্রঋণ গ্রাহকরা তাদের সন্তানদের সঠিকভাবে বড় করতে পারছে।

“গ্রামীণ ব্যাংকের সহায়তা নিয়ে গ্রামের মানুষ আজ যা করছে, তাতে তাদের ভবিষ্যতই উজ্জ্বল হচ্ছে।”

ওয়েন্ডি শেরম্যান গ্রামীণ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ে কয়েকজন ঋণগ্রহীতার সঙ্গে কথা বলেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

দুই দিনের সফরে গত মঙ্গলবার ঢাকায় পৌঁছান ওয়েন্ডি শেরম্যান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএসজেড/জেকে/১৫৪৭ ঘ.