ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, এপ্রিল ০৭ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- মুনাফার লোভ দেখিয়ে নিরীহ মানুষকে প্রতারণা বন্ধে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি যুবকের মতো ডেসটিনি ২০০০ এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত শনিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “এ রকম প্রতিষ্ঠান যাতে তাদের সম্পদ ট্রান্সফার করতে না পারে সেজন্য যুবকের মতো একটি কমিশন করা হবে।”

গত কয়েক দিনে বিভিন্ন সংবাদপত্রে ডেসটিনি গ্রুপের ‘অবৈধ ব্যাংকিং’ নিয়ে খবর প্রকাশের মধ্যেই এ কথা বললেন অর্থমন্ত্রী।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ইতোমধ্যে ডেসটিনিসহ এমএলএম কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে এসব কোম্পানির বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনুমোদনবিহীন কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যাংকের মতো লেনদেন না করার জন্য একটি নির্দেশনা জারি করে ১ এপ্রিল।

নির্দেশনায় বলা হয়, “এ ধরনের প্রতিষ্ঠান অস্বাভাবিক উচ্চ হারে সুদ ও আকর্ষণীয় মুনাফার লোভ দেখিয়ে জনসাধারণ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে।”

এ বিষয়ে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, “গত কয়েকদিনে পত্রপত্রিকায় ডেসটিনি নিয়ে এতো লেখালেখি হয়েছে যে এখন একটা ইমার্জেন্সি পরিস্থিতির মতো সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় সরকার কোনো অ্যাকশন না নিয়ে থাকতে পারে না।”

“যুবকের সম্পদ জব্দ করায় তারা সব সম্পদ পাচার করতে পারেনি। সেই অর্থ থেকে গ্রহাকদের ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে দেওয়া যাবে। ঠিক একইভাবে ডেসটিনির ক্ষেত্রেও একটি কমিশন করা হবে”, বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালণয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো কমিশন গঠনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করে দিয়েছে।

গত বছরের ৬ মার্চ তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান সংসদে জানান, দেশে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) নিবন্ধিত কোম্পানির সংখ্যা ৬২। এ ব্যবসাকে নীতিমালার আওতায় আনতে আইন প্রণয়ন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

এমএলএম কোম্পানির নামগুলো তুলে ধরে তখন ফারুক খান জানিয়েছিলেন, ডেসটিনি-২০০০ এর গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৪৫ লাখ। অন্যান্য কোম্পানির প্রকৃত গ্রাহক সংখ্যা কিংবা সর্বমোট গ্রাহক সংখ্যা কম।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এআরএইচ/জেকে/১৩৩৯ ঘ.