ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, এপ্রিল ০৭ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত বা যুক্তরাষ্ট্র ‘চলে যাওয়ার’ পরামর্শ দিয়েছেন সাংবাদিক শফিক রেহমান।

তিনি বলেছেন, “খালেদা জিয়া আগেই বলেছেন, তার একমাত্র ঠিকানা বাংলাদেশই। বরং আমি অনুরোধ করব, তিনি যেন ইনডিয়া অথবা আমেরিকায় চলে যান।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১৯৭১ সালে কোনো মুক্তি আন্দোলনে অংশ নিতে দেখেননি বলে মন্তব্য করেন শফিক রেহমান।

পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের কাছ থেকে বিএনপির ‘অর্থ নেওয়া’ বিষয়ে খালেদার সমালোচনা করতে গিয়ে গত মাসে তাকে পাকিস্তান ‘চলে যাওয়ার’ কথা বলেন হাসিনা।

শনিবার শফিক রেহমান কথা বলছিলেন তার সম্পাদিত সাতটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বইগুলোর মোড়ক উন্মোচন করেন।

বইগুলো হলো- ‘রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ (বাংলা ও ইংরেজি), ‘সংগ্রামী নেত্রী খালেদা জিয়া’ (বাংলা ও ইংরেজি), ‘নেড়িকুকুরের কাণ্ড’, ‘নেড়িকুকুরের কীর্তি’ ও ‘চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ড লুন্ঠন’।

জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে ‘জি-নাইন’-এর উদ্যোগে ‘ইউনিটি ফর হোপ’ শিরোনামে এই মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান হয়। এতে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ চট্টগ্রামে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড ইন কমান্ড মেজর জিয়াউর রহমানের বিদ্রোহ ও কালুরঘাটে স্বাধীনতার ঘোষণার অডিও প্রচার এবং জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার ওপর দুইটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

বইগুলো প্রকাশের কারণ হিসাবে শফিক রেহমান বলেন, “দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস অবিরাম বিকৃত করা হচ্ছে। অব্যাহতভাবে ভিন্ন মত পোষণকারীরা প্রয়াত ও জীবিত ব্যক্তিদের চরিত্র হনন করে চলছে। এই যন্ত্রণা থেকে আমি বইগুলো লিখেছি।”

রূপসী বাংলা হোটেলে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন শেষ মুহূর্তে বাতিল হওয়ায় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সরকার চায়নি ইংরেজি বই দুইটি বিদেশিদের হাতে পড়–ক। কারণ এই দুইটি বই পড়লেই জানা যাবে স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এই সরকার কী রকম মিথ্যাচার করছে।”

গত ২৭ মার্চ হোটেল রূপসী বাংলায় এই মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও ‘অজ্ঞাত’ নির্দেশে হোটেল কর্তৃপক্ষ তা ২৬ মার্চ রাতে বাতিল করে।

‘জি-নাইন’-এর সভাপতি এম সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “সরকার বাক স্বাধীনতা হরণ করছে। স্বাধীনভাবে মত প্রকাশে বাধা দিচ্ছে। আজকের এই মোড়ক অনুষ্ঠানটি সেজন্য প্রতিবাদ সমাবেশে পরিণত হয়েছে।’’

শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, পেশাজীবীসহ কয়েক হাজার নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানটি সমাবেশে পরিণত হয়। মূল মঞ্চে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া ছাড়া দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, রাষ্ট্র বিজ্ঞানী অধ্যাপক তালুকদার মনিরুজ্জামান, শফিক রেহমান ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিঞা, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আর এ গনি, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম কে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, সহসভাপতি সাদেক হোসেন খোকা, সেলিমা রহমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শাহজাহান ওমর, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ফজলুর রহমান পটল, মীর মোহাম্মদ নাছিরউদ্দিন, এনাম আহমেদ চৌধুরী, আবদুল মান্নান, রুহুল আলম চৌধুরী, মুশফিকুর রহমান, অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফরহাদ কাদের চৌধুরী, সংসদ সদস্যসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএম/পিডি/২০১৫ ঘ.