ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

লিটন হায়দার
অপরাধ বিষয়ক প্রধান প্রতিবেদক

ঢাকা, এপ্রিল ০৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে হুলিয়া মাথায় নিয়ে আবুল কালাম আজাদ (বাচ্চু রাজাকার) গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যেও পাকিস্তানের পাড়ি দিতে ভারতে পালিয়েছেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

একাত্তরে ফরিদপুরে পাকিস্তানের মদদপুষ্ট রাজাকার বাহিনীতে ‘সক্রিয়’ এই ব্যক্তির স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদের পর র‌্যাব জানায়, আবুল কালাম গত ৩০ মার্চ ঢাকা ছাড়েন এবং ২ এপ্রিল উত্তরাঞ্চলের হিলি সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান।

ড. ইউসুফ নামে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষক তার গাড়িতে করে বাচ্চু রাজাকারকে হিলি সীমান্তে নিয়ে যান বলে জানায় র‌্যাব।

যুদ্ধাপরাধের মামলার আসামি আবুল কালামকে গ্রেপ্তারে গত ৩ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

এর তিন দিন আগে আবুল কালাম পালিয়ে যান তার স্বজনদের উদ্ধৃত করে র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম সোহায়েল সোমবার সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান।

আবুল কালামের দুই ছেলে শাহ মোহাম্মদ ফয়সাল আজাদ (৩৬), আবুল কাশেম মুহাম্মদ মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ (৩৪) এবং শ্যালক কাজী এহতেশামুল হক লিটনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়ে র‌্যাব বলেছে, তারাই পালানোর বর্ণনা দিয়েছে।

এম সোহায়েল বলেন, “তার দুই ছেলে এবং শ্যালক জানিয়েছেন, পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে বাচ্চু রাজাকার ভারত গেছেন।”

তিনি জানান, আবুল কালাম দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে যাওয়ার পর তার বন্ধু আবুল কাসেম আজাদের ক্যাপিলা হোটেলে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

ওই হোটেল মালিককেও সোমবার সন্ধ্যায় হিলিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ড. ইউসুফকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে র‌্যাব জানায়।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, সোমবার ভোর সাড়ে ৫টায় জিহাদ এবং এহতেশামুলকে সূত্রাপুরের ধোলাইখাল এলাকা থেকে এবং সকাল সাড়ে ৮টায় ফয়সালকে সূত্রাপুরের লোহারপুল সংলগ্ন তার মামাশ্বশুর বাড়ির এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তবে সকালেই আবুল কালামের মেয়ে সামানিয়া জান্নাতি হাই কোর্টে এক রিট আবেদনে বলেন, তার দুই ভাই ও মামাকে গত ৬ এপ্রিল ভোরে তুলে নিয়ে যায় র‌্যাব ও গোয়েন্দা পরিচয়ে সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

আবুল কালামের পালানোর খবর জানিয়ে রাতে সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাব। বাহিনীর সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে তার দুই ছেলে এবং শ্যালককেও হাজির করা হয়।

এই তিন জনকে মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হবে বলে র‌্যাব কর্মকর্তা সোহায়েল জানান।

জিহাদ র‌্যাব হেফাজতে তার বাবার পালিয়ে যাওয়ার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ৩০ মার্চ রাতে ড. ইউসুফের আগারগাঁও বাসায় যাওয়ার পর সেখান থেকে তার একটি কালো গাড়ির পেছনে শুইয়ে তার বাবাকে হিলি সীমান্তে নেওয়া হয়।

“বাবা ভারতে যাওয়ার পর মামার সঙ্গে ৩ এপ্রিল মোবাইলে যোগাযোগ করে দেশের খোঁজ-খবর নেন, এসময় বাবা জানতে পারেন, তার নামে ওয়ারেন্ট জারি হয়েছে,” বলেন তিনি।

ভারতে নিরাপদে রয়েছেন বলে আবুল কালাম শ্যালক এহতেশামুলকে জানান বলে জিহাদ জানিয়েছে।

গত ৩ এপ্রিল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর পুলিশ ওই দিনই আবুল কালামকে গ্রেপ্তারের জন্য তার বাসা অফিসসহ রাজধানী এবং তার আশেপাশে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায়। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি।

তার উত্তরখানের বাসায় অভিযান চালানোর পর না পেয়ে গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার সুনন্দা রায় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “বাচ্চু রাজাকার নজরদারির মধ্যে ছিল। তবে নজরদারির মধ্যে কিছুটা দুর্বলতা ছিল বলে বাসা থেকে পালিয়ে যেতে পেরেছে।”

নজরদারির দুর্বলতা ছিল কি না- প্রশ্ন করা হলে র‌্যাব কর্মকর্তা সোহায়েল বলেন, “তিনি বৈধভাবে যাননি। আর সীমান্ত অনেক বড় এলাকাজুড়ে। ফলে পুরোটা খোঁজ নেওয়া সম্ভব হয়নি।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এলএইচ/কেটি/এমআই/এমআই/২২৩১ ঘ.