ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, এপ্রিল ১০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)-রেলওয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা এবং মন্ত্রীর সহকারীকে বহনকারী একটি গাড়ি থেকে সোমবার রাতে বিপুল পরিমাণ টাকা পাওয়ার খবরের পর রেলপথ মন্ত্রণালয় দুটি তদন্ত কমিটি করেছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

ওই টাকার উৎস এবং তাদের আটক হওয়ার খবর নিয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট কিছু না বললেও তিনি ওই ঘটনার জন্য গাড়ির চালককে দায়ী করেছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে রেল ভবনে নতুন রেল সেবা চালু বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সুরঞ্জিত বলেন, “এ ব্যাপারে আমি জানি না, তবে শুনেছি এবং পরে খবর পেয়েছি।”

সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর জিগাতলা মোড়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তরের মূল ফটকের কাছে রেলমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ওমর ফারুককে আটক করে রাখে বিজিবি সদস্যরা। তার সঙ্গে ৭০ লাখ টাকা পাওয়া যায়। এ নিয়ে সকাল থেকে বিভিন্ন রকম গুঞ্জন চলতে থাকে রাজধানীজুড়ে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুরঞ্জিত বলেন, রাতে টাকা নিয়ে বাসায় যাওয়ার সময় ওমর ফারুককে ‘ব্ল্যাকমেইল ও হাইজ্যাক’ করার জন্য গাড়ির চালক বিজিবি সদর দপ্তরে ঢুকে পড়ে।

গাড়িতে ওই সময় রেলওয়ের মহা পরিচালক (পূর্ব) ইউসুফ আলী মৃধাও ছিলেন বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করার জন্য দুটি কমিটি করা হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

দুই কমিটির মধ্যে রেলের যুগ্ম-সচিব (প্রশাসন) শশী কুমার সিংহ জিএম ইউসুফ আলী মৃধার বিষয়টি তদন্ত করবেন। আর ওমর ফারুকের বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন রেল মন্ত্রীর একান্ত সচিব আখতারুজ্জামান।

ওই দুই জনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়া পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে।

“প্রতিবেদন পাওয়ার পরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে”, বলেন সুরঞ্জিত।

তারা এখন কোথায় আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তারা যে যার বাড়িতে রয়েছে, তাদের আটক হওয়ার কথা নয়।”

গাড়িতে যে ৭০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে- তা সরকারি টাকা কিনা জানতে চাইলে পাঁচ মাস আগে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া সুরঞ্জিত বলেন, সরকারি টাকা নিয়ে যাওয়ার ‘প্রশ্নই আসে না’।

“দেশীয় আইনে নিজের টাকা নিয়ে চলার অধিকার সবারই আছে। যদি তাদের আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ অর্থ পাওয়া যায় এনবিআর তা খতিয়ে দেখবে। এটা রেলপথ মন্ত্রনালয়ের বিষয় নয়”, বলেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে সুরঞ্জিত বলেন, “আমার কাজ শেষে বাকি সময় সে (এপিএস) কোথায় যায় কি করে এটা তার নিজের ব্যাপার।”

ওমর ফারুক ও ইউসুফ আলী মৃধা এখন অফিস করবেন কিনা- জানতে চাইলে সুরঞ্জিত পাল্টা প্রশ্ন করেন- “তারা অফিস করবে না কেন? অপরাধ প্রমাণ হওয়ার আগে শাস্তি দেওয়া ঠিক নয়।”

ঘটনার সময় রেল পুলিশের কেউ সেখানে ছিলেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, তিনি দুজনের কথাই শুনেছেন।

সোমবার রাতের ঘটনা নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা, বিজিবি বা রেল কর্মকর্তাদের কেউ কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএইচএ/জেকে/১৭২০ ঘ.