ক্যাটেগরিঃ bdnews24


ঢাকা, এপ্রিল ১২ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- এপিএসের অর্থ কেলেঙ্কারি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে পদত্যাগ করতে তিনি ‘দেরি’ করবেন না।

রেলওয়েকে দুর্নীতিমুক্ত করতে গিয়ে চক্রান্তের শিকার হচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেছেন পাঁচ মাস আগে মন্ত্রিত্ব পাওয়া এই আওয়ামী লীগ নেতা।

নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে বৃহস্পতিবার রেলভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সুরঞ্জিত বলেন, গত ৪০ বছরে রেল থেকে সুবিধাভোগকারীরা বর্তমানে যে চক্রান্ত করছে তারই শিকার হয়েছেন তার এপিএস ও রেলের একজন মহাব্যবস্থাপক।

এপিএসের কেলেঙ্কারির পর অভিযোগের আঙুল তার দিকেও ওঠায় পদত্যাগ করবেন কি না- এ প্রশ্নের জবাবে সুরঞ্জিত বলেন, রাজনীতিবিদদের জন্য পদ অর্জন করা সহজ নয়, তবে পদত্যাগ করা সহজ। অবস্থা তেমন হলে তার পদত্যাগে ‘এক মুহূর্ত’ সময় লাগবে না।

প্রধানমন্ত্রী সুরঞ্জিতকে পদত্যাগ করতে বলেছেন- এমন গুঞ্জনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রেলমন্ত্রী বলেন, ঘটনার পর দিন সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কথা হয়েছে, এরপর আর কথা হয়নি।

“তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে আমার দোষ প্রমাণিত হলে আই উইল একসেপ্ট ইট, আই শ্যাল নট হেজিটেড টু রিজাইন,” বলেন তিনি।

সুরঞ্জিত বলেন, “মন্ত্রিত্ব স্থায়ী পদ নয়, থাকা না থাকা বড় কথা নয়। সবচেয়ে বড় কথা আমি রাজনীতিবিদ, আমি সংসদ সদস্য।”

দুর্নীতির সঙ্গে কারা কীভাবে জড়িত তা- না জেনেই মন্ত্রী বা সরকারের ‘ভাবমূর্তি নষ্ট করা’ ঠিক নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

গত সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর জিগাতলা মোড়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তরের মূল ফটকের কাছে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ আটক হন মন্ত্রীর এপিএস ওমর ফারুক তালুকদার। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও ওই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয়।

ফারুকের সঙ্গে ওই গাড়িতে রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) ইউসুফ আলী মৃধাও ছিলেন। সংবাদ মাধ্যমের খবর, রেলওয়ের নিয়োগের জন্য ঘুষ হিসেবে ওই ৭০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল।

ব্যাপক সমালোচনার মুখে বুধবার ফারুককে সাময়িক বরখাস্ত করেন সুরঞ্জিত। ওই ঘটনার তদন্তে দুটি কমিটি করে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

‘হতবিহ্বল, স্তম্ভিত’

এপিএসের গাড়িতে টাকা পাওয়ার ঘটনাকে ‘অনভিপ্রেত’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “এ ঘটনায় আমি হতবিহ্বল ও স্তম্ভিত।”

ফারুকের সঙ্গে কত টাকা ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, টাকার অংকের বিষয়ে বলতে পারবে বিজিবি।

“তদন্তের সময় অবশ্যই বিজিবির কাছ থেকে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হবে, তখন বেরিয়ে আসবে কত টাকা ছিল।”

ওই টাকা এখন কোথায়- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রীর দাবি, এটা তারও প্রশ্ন।

সুরঞ্জিত দাবি করেন, আটক হওয়ার পর এপিএস ও মহাব্যবস্থাপককে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে তিনি কোথাও তদবির করেননি। ওই ঘটনা নিয়ে ফারুকের সঙ্গে তার কোনো কথাও হয়নি।

“এ ব্যাপারে তার সাথে কোনো কথা হয়নি, তদন্তে এপিএস ও মহাব্যবস্থাপকের কাছে লিখিত বক্তব্য চাওয়া হয়েছে। তদন্তের পর আসল বিষয় বেরিয়ে আসবে।”

ফারুকের গাড়ি চালকের অবস্থান জানতে চাইলেও তা বিজিবির কাছে জানতে চাওয়ার কথা বলেন রেলমন্ত্রী।

তীরবিদ্ধ’

গত বছর ২৮ অক্টোবর মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে শপথ নেন সুরঞ্জিত, অন্য মন্ত্রীদের সমালোচক হিসাবে যিনি বহুবার খবরের শিরোনাম হয়েছেন আগের তিন বছরে।

সারা জীবন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার দাবি করে তিনি বলেন, “আজীবন তীর ছুড়েছি, এবার তীরবিদ্ধ হয়েছি। এবার তীরের যন্ত্রণা বুঝছি। তবে আমি ভবিষ্যতেও তীর ছুড়ে যাব।”

সুরঞ্জিতের দাবি, শেয়ার কেলেঙ্কারি নিয়ে কথা বলায়, যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে কথা বলায় তার বিরুদ্ধে অনেক শত্রু তৈরি রয়েছে।

এই শত্র“রা ক্ষমতাসীন না বিরোধী দলের- এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “এ বিপদ গণতন্ত্রের, সত্যের। এ বিপদ কাটিয়ে উঠতে হবে।”

সুরঞ্জিত বলেন, তার রাজনীতির জীবন ৫৫ বছরের হলেও মন্ত্রিত্বের জীবন মাত্র কয়েক মাসের।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রেলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করছেন দাবি করে মন্ত্রী বলেন, “রেল যদি গণপরিবহন হিসাবে দাঁড়াতে পারে, তাহলে অনেকেরই লালবাতি জ্বলে উঠবে, তারাই রেলের বিরুদ্ধে লেগে আছে।”

রেলওয়েতে আগে ‘থেকেই’ দুর্নীতি আছে উল্লেখ করলেও জেনেশুনেই এই ‘বিতর্কিত’ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন সুরঞ্জিত।

‘তদন্তে সহযোগিতা দেব’

ফারুকের কাছে টাকা পাওয়ার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের যে দাবি বিরোধী দল করেছে- সে প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে সুরঞ্জিত বলেন, এটা রেল মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়, আদালতের বিষয়।

তবে দুর্নীতি দমন কমিশন বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চাইলে এ বিষয়ে তদন্ত করতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করব।”

মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ আলী মৃধাকে বরখাস্ত করা হবে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন আসার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

“তদন্ত কমিটিতে রেলের মহাপরিচালককে যুক্ত করা হয়েছে। নিয়োগ বাণিজ্যর অভিযোগ নিয়ে পৃথক তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। সংসদীয় কমিটির একটি সাব কমিটিও করার কথা বলা হয়েছে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএইচএ/জেকে/১৮২৫ ঘ.