ক্যাটেগরিঃ bdnews24, ব্লগ

 

ঢাকা, এপ্রিল ১৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ব্যক্তিগত সহকারীর ‘অর্থ কেলেঙ্কারির’ দায় নিজের কাঁধে নিয়ে রেলমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

নানা নাটকীয়তার পর সোমবার রেলভবনে সংবাদ সম্মেলন করে ‘অব্যাহতি’ নেওয়ার এই ঘোষণা দেন মাত্র পাঁচ মাস আগে মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়া সুরঞ্জিত।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “ঘটনার সাথে সম্পৃকতা না থাকার পরও গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে আমি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলাম।”

পদত্যাগপত্র পরে প্রধানমন্ত্রীকে পাঠিয়ে দেবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এই সদস্য।

সুরঞ্জিত হলেন দেশের পঞ্চম ব্যক্তি যিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন। এর আগে সাবেক বিএনপি সরকারের শিল্পমন্ত্রী জহির উদ্দিন ও বাণিজ্য মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আফছার উদ্দিন ও বর্তমান সরকারের প্রথম বছরে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন।

গত ৯ এপ্রিল রাতে সুরঞ্জিতের এপিএস ওমর ফারুক তালুকদারের গাড়িতে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়ার ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে তা নিয়ে শোরগোল শুরু হয়। ফলে চাপের মুখে পড়েন রেলমন্ত্রী।

গণমাধ্যমের খবরে বরা হয়, ওই রাতে ফারুকের সঙ্গে ৭০ লাখ টাকা পাওয়া যায়। পূর্বাঞ্চল রেলের জিএম ইউসুফ আলী মৃধা ও তার কম্যান্ড্যান্ট এনামুল হকও সেসময় ওই গাড়িতে ছিলেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইউসুফ আলী মৃধাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়; চাকরিচ্যুত করা হয় ওমর ফারুক তালুকদারকে। এছাড়া কমান্ডেন্ট এনামুল হককেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এছাড়া ওমর ফারুক ও তার স্ত্রী মারজিয়া ফারহানার ব্যাংক হিসাবও (অ্যাকাউন্ট) জব্দ করার নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বিএনপিসহ বিভিন্ন দল থেকে সুরঞ্জিতের পদত্যাগের দাবি উঠলেও জবাবে সুরঞ্জিত বলেছিলেন, বিরোধী দল তাকে মন্ত্রীর পদ দেয়নি; তাই তাদের কথায় তিনি পদত্যাগ করবেন না।

তবে রোববার রাতে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে আসার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। তখন থেকেই গুঞ্জন শুরু হয়- পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রেলমন্ত্রী। সোমবার সকালে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে তার অনুপস্থিতিতে আরো জোড়ালো হয় সেই গুঞ্জন।

বেলা ১২টার সংবাদ সম্মেলন শুরুর কথা থাকলেও সুরঞ্জিত রেলভবনে আসেন সাড়ে ১২টার পর। নিজের কক্ষে কিছুক্ষণ সময় কাটানোর পর তিনি সম্মেলন কক্ষে পৌঁছান পৌনে ১টায়।

জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সুরঞ্জিত বলেন, “পুরো দায় দায়িত্ব আমার, দল বা সরকারের নয়। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেছি। সেখানে আমি অব্যাহতির অভিপ্রায় ব্যক্ত করি। প্রধানমন্ত্রী তাতে অনুমতি দেন।”

পরিস্থিতি ব্যখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “৯ এপ্রিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সর্বস্তরে এটি বিতর্কিত অবস্থা দাঁড়ায়। রেলকে আমি গতিশীল করার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি, গত ১০০ বছরে যা হননি।

“৯ এপ্রিলের ঘটনায় আমার এপিএস, রেলের জিএম ও কমান্ডেন্টকে বরাখাস্ত করা হয়েছে। গণতন্ত্রের সুবিধা সবাই নিয়েছে। শুধু সংকোচে কেউ আত্মত্যাগ করেনি।”

এই অর্থ কেলেঙ্কারির সঙ্গে নিজে কোনোভাবে জড়িত নন বলেও সুরঞ্জিত দাবি করেন।

“ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সংশ্লিষ্টতা আমার নেই। এ ব্যাপরে আমি সাহসী ভূমিকা নিতে চাই। অনেকেই বলেছেন, আমি মন্ত্রী থাকলে তদন্ত বাধাগ্রস্ত হবে কি না। এ কারণে গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে আমি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলাম।”

“রাজনীতিতে এটা আমার যাত্রাবিরতি। আমি তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে আবার ফিরে আসব”, যোগ করেন বিমর্ষ সুরঞ্জিত।

সংবাদ সম্মেলনের পর রেলভবনের ষষ্ঠ তলার সভাকক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বিদায়ী বৈঠক করেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। সেখানে তিনি গত কয়েক মাসে ‘অর্জিত’ রেলের গতি ধরে রাখার জন্য কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানান। অন্যদিকে কর্মকর্তরা বিদায় জানান তাদের পাঁচ মাসের মন্ত্রীকে।

বিকাল ৩টায় কালো রঙের একটি জিপে করে রেলভবন ত্যাগ করেন সুরঞ্জিত।

আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত গত ২৮ নভেম্বর রেলমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। স্বাধীনতার পর থেকে অধিকাংশ সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সুরঞ্জিতের এটাই প্রথম মন্ত্রিত্ব। শেখ হাসিনার গত সরকারে তিনি মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।

দেড় দশক আগে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া সুরঞ্জিত দেশের প্রথম সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ছিলেন। পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধন কমিটির কো-চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএইচএ/এসইউএম/এএসটি/জেকে/১৫০২ ঘ.