ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ওয়াশিংটন, এপ্রিল ১৭ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/রয়টার্স)- বিশ্ব ব্যাংকের পরবর্তী প্রধান হিসেবে কোরীয় বংশোদ্ভূত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জিম ইয়ং কিমকেই নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যার নাম প্রস্তাব করেছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

১৯৪৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক গঠনের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরাই এর প্রধান পদটি অলঙ্কৃত করে আসছেন। উন্নয়নশীল দেশগুলো এবার পরিবর্তন চাইলেও কিমকে নিয়োগের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে আগের ধারাই অব্যাহত থাকলো।

কোরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক জিম কিম নিউ হ্যাম্পশায়ারের ডার্টমাউথ কলেজের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

তবে বিশ্ব ব্যাংকের ইতিহাসে এবাই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের মনোনীত প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এবার কিমের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে ছিলেন নাইজেরিয়ার অর্থমন্ত্রী নগচি ওকোনজো-আইয়েলা এবং কলম্বিয়ার সাবেক অর্থমন্ত্রী ও নিউ ইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হোসে আন্তনিও ওকাম্পো।

সোমবার ব্যাংকের ২৫ সদস্যের বোর্ডসভায় পশ্চিম ইউরোপের কয়েকটি দেশ, জাপান, কানাডা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলসহ বেশ কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশ নগচি ওকোনজো-আইয়েলাকে সমর্থন দিলেও শেষ পর্যন্ত ভোটে পেরে ওঠেননি তিনি। চূড়ান্ত বিজয়ের পথে দুই উদীয়মান অর্থনীতি ভারত ও চীনের সমর্থন পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রার্থী কিম।

৫২ বছর বয়সী কিম বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন আগামী ১ জুলাই। তিনি এই পদে আসছেন রবার্ট জোয়েলিকের উত্তরসূরি হিসেবে, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিশ্ব ব্যাংকের শীর্ষ পদে এসেছিলেন।

সোমবার ভোটাভুটির পর এক বিবৃতিতে কিম বলেন, “খুব দ্রুত বদলের এই বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপকে নতুনভাবে সাজাতে চাই আমি।”

তাকে অভিনন্দন জানিয়ে ওকোনজো-আইয়েলা এক বিবৃতিতে বলেছেন, এবারের ভোটাভুটিতে উন্নয়নশীল বিশ্বও উল্লেখযোগ্য জয় পেয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ব ব্যাংক ও আইএএফে আরো অধিকারের দাবি জানিয়ে আসছে।

বিশ্ব ব্যাংকের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট পদে চূড়ান্ত মনোনয়নের আগে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টন, জাতিসংঘে ওয়াশিংটনের দূত সুসান রাইসসহ কয়েক জনের নাম আলোচনায় থাকলেও ২০০৬ সালে টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় থাকা জিম কিমের কথা কখনোই আসেনি। গত ২৪ মার্চ অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই ওবামা তার নাম প্রস্তাব করেন।

৫২ বছর বয়সি জিম কিমের মনোনয়নের ক্ষেত্রে ওবামার যুক্তি ছিল- “উন্নয়ন বিষয়ক কোনো বিশেষজ্ঞকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সংস্থার নেতৃত্বে আনার এখনই সময়।”

১৯৫৯ সালে সিউলে জন্ম নেওয়া জিম কিম বিশ্ব ব্যাংকের আগের প্রেসিডেন্টদের মতো রাজনীতিবিদ, ব্যাংকার বা কূটনীতিক নন। তিনি ‘পার্টনারস ইন হেলথ’ এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, যে প্রতিষ্ঠান দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিতে কাজ করে।

১৯৮৭ সালে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্র থাকা অবস্থায় এর সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। ২০০৯ সালে ডর্টমাউথ কলেজের প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন।

বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান পদে নোবেলজয়ী বাংলাদেশি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামও ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনায় তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে ইউনূস নিজেই তার অনাগ্রহের কথা জানান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/জেকে/০৯৩৫ ঘ.