ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, মার্চ ৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে তার বক্তব্যের প্রতিবাদ করে গ্রামীণ ব্যাংক যে বিবৃতি দিয়েছে তা অসার ও ভিত্তিহীন।

গ্রামীণ ব্যাংক শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমে প্রকাশের জন্য ওই প্রতিবাদলিপির সঙ্গে ড. ইউনূসের লেখা যে চিঠি সরবরাহ করেছে, সেখানে পুরো চিঠি দেওয়া হয়নি বলেও উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী।

মন্ত্রীর পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহেদুর রহমানের পাঠানো ওই বিবৃতিতে বলা হয়, বিষয়টি যেহেতু আদালতে বিচারাধীন, সেহেতু এ নিয়ে বেশি কিছু বলা সমীচীন নয়।

মুহিতের পক্ষে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অর্থমন্ত্রী অনেক ব্যক্তিগত আলোচনার বিষয় নিয়ে এখানে (কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে) প্রকাশ্যে আলোচনা করেন নাই। যে চিঠিটির একটি অংশ প্রকাশিত হয়েছে, সেটি পুরোটিই প্রকাশ করা উচিত ছিল।’

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী যেসব বক্তব্য দিয়েছেন তার প্রতিটি কথাই ‘তথ্যনির্ভর’ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কোথাও কোনো বিষয়ে কোনো অসত্য ভাষণ দেওয়া হয়নি।’

শুক্রবার রাতে গ্রামীণ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক (তথ্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়) জান্নাত-ই-কাওনাইনের পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অপসারণ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বৃহস্পতিবার কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে যেসব বক্তব্য দিয়েছেন তাতে প্রকৃত অবস্থা প্রতিফলিত হয়নি।

এতে আরো বলা হয়, ইউনূস মনে করেন, তিনি আইনানুগভাবেই ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদে আছেন।

প্রতিবাদলিপির সঙ্গে ২০১০ সালের ১৫ মার্চ অর্থমন্ত্রীকে লেখা ড. ইউনূসের একটি চিঠিও সরবরাহ করে গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এতে বলা হয়, ইউনূস নিজে থেকেই ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। এর বদলে তাকে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান করার জন্য দুটি বিকল্প প্রস্তাব করেছিলেন তিনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত বুধবার নোবেল বিজয়ী ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব থেকে অপসারণের আদেশ দেয়। এর কারণ হিসাবে বলা হয়, শেষ মেয়াদে তার দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টিতে নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

নোবেল বিজয়ী ইউনূসকে অপসারণের এ খবর সারাবিশ্বে সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে সরকারি পদক্ষেপের ব্যাখ্যা নিয়ে বৃহস্পতিবার কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী।

সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ওই বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি সাংবাদিকদের বলেন, ড. ইউনূসকে যে প্রক্রিয়ায় অপসারণ করা হয়েছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিচলিত। সম্মানজনক পদ্ধতিতে এ সমস্যার সমাধান করা যেত।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ ছাড়া সরকারের আর উপায় ছিলো না।

আইন অনুযায়ী গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হয়। ওই পদে ইউনূসের সর্বশেষ নিয়োগের ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে শুক্রবার গ্রামীণ ব্যাংকের বিবৃতিতে বলা হয় ‘প্রফেসর ইউনূস বরাবরই বলে এসেছেন, তিনি আইন মেনেই চলেন এবং তার মতে আইনানুগভাবেই ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে অধিষ্ঠিত রয়েছেন।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অপসারণের আদেশের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবারই আদালতে রিট আবেদন করেন ড. ইউনূস। রোববার এ বিষয়ে আদেশ দেবে আদালত।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/আরবি/জেকে/১৯০৮ ঘ.