ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, মার্চ ০৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের প্রতিহিংসার শিকার বলে দাবি করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। এর বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার এক বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “গ্রামীণ ব্যাংক ও অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে যে বিতর্কের অবতারণা সরকার করেছে, তা দলীয় রাজনীতি ও হীনমন্যতার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়। এর ফলে গ্রামীণ ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সুবিধাবঞ্চিত হবে দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও নারীরা।”

গত বুধবার গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে বাংলাদেশের একমাত্র নোবেলজয়ী ইউনূসকে অপসারণের আদেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

খালেদা দাবি করেছেন, ইউনূসকে পরিকল্পিতভাবে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রক্রিয়া চালানো হয়।

তিনি বলেন, “সুপরিকল্পিতভাবে তার (ইউনূস) মতো একজন নন্দিত ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃতি কীর্তিমান ব্যক্তিত্বের চরিত্র হনন ও ইমেজ বিনষ্টের প্রচেষ্টা সরকার অনেক দিন ধরেই করে আসছে। তাকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অপসারণ সে ষড়যন্ত্রের যবনিকাপাত বলে সবার কাছে স্পষ্ট।”

“অধ্যাপক ইউনূসের প্রতি ‘অন্যায় এবং অসৌজন্যমূলক’ এ আচরণ সরকারের উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত কতিপয় ব্যক্তির ঈর্ষাপরায়ণতা ও তার অবদান সম্পর্কে সম্যক উপলব্ধি না থাকার বহিঃপ্রকাশ”, বলেন তিনি।

গত বছরের ডিসেম্বরে ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রামীণ ব্যাংকের তহবিল স্থানান্তরের অভিযোগ আনেন ডেনমার্কের তথ্যচিত্র নির্মাতা টম হাইনম্যান। এরপর বিষয়টি নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা ইউনূসের সমালোচনায় মুখর হন।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুই প্রধান রাজনৈতিক নেত্রী যখন বন্দি ছিলেন, তখন ইউনূসের রাজনৈতিক দল গঠনের প্রয়াস নিয়েও নতুন করে সমালোচনা করেন তারা।

সরকারি দলের নেতারা যখন ইউনূসের সমালোচনায় মুখর, তখনি নোবেল বিজয়ীর পক্ষে অবস্থান নিলেন বিরোধী নেতা। তবে বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা কদিন ধরেই অবশ্য ইউনূসের পক্ষে বলে আসছিলেন।

ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের ‘ভাগ্যোন্নয়নে’ গ্রামীণ ব্যাংকের ভূমিকার কথা তুলে ধরে খালেদা বলেন, “প্রতিষ্ঠানটি দেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠি, বিশেষ করে মহিলাদের ভাগ্যোন্নয়নে সচেষ্ট রয়েছে। আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংকের অনুরূপ ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প দারিদ্র্য বিমোচনের হাতিয়ার হিসেবে প্রবর্তিত হয়েছে।

“অথচ দুঃখের বিষয় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সুযোগ পেলেই গ্রামীণ ব্যাংকের অবদান এবং ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণকারী সব প্রতিষ্ঠানকে ঢালাওভাবে অত্যন্ত অসৌজন্যমূলক এবং পদমর্যাদার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ভাষায় অবমূল্যায়ন করে যাচ্ছেন।”

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “সরকারের অন্যায়ের প্রতিকারের জন্য দেশে ন্যায়বিচারের কোনো সুযোগ ও পরিবেশ সরকার রাখেনি। এ অবস্থায় ক্ষমতাসীনরা ধরাকে সরা জ্ঞান করছে। তাদের হাতে কোনো সম্মানিত নাগরিকেরই মর্যাদা ও সুনাম নিরাপদ থাকছে না।”

গ্রামীণ ব্যাংকের ২৫ শতাংশ মালিকানা সরকারের, যা শুরুতে ছিলো ৬৫ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ইউনূসকে শেষবার গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা বলেন, “গ্রামীণ ব্যাংক সরকারি সংবিধিবদ্ধ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এর চেয়ারম্যান সরকার কর্তৃক মনোনীত হলেও প্রতিষ্ঠানটি একটি পরিচালনা পর্ষদের কর্তৃত্বে স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবেই পরিচালিত হয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৯৫ শতাংশ শেয়ার হোল্ডার মহিলারা। সরকারের শেয়ার মাত্র ৩.৫ শতাংশ। অতএব প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারি মালিকানার মনে করার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।”

“গ্র্রামীণ ব্যাংককে একটি তফসিলভুক্ত ব্যাংক হিসেবে বিবেচনা করার প্রচেষ্টা সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান সম্পর্কে অজ্ঞতারই পরিচায়ক”, বলেন তিনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএম/এমআই/১৫৪০ ঘ.