ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

হাইব্রিড বীজ, আরেক ফাঁদ
কিউ আর ইসলাম
মে ৬, ২০১২

গত শতকের ষাটের দশকে তথাকথিত সবুজ বিপ্লবের নামে সেচ-সার-নতুন বীজ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধান উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মাটির আর্দ্রতায় ছোলা, মসুর, মুগ, সরিষা, মসিনা ইত্যাদি ফসল আবাদের পুরনো পদ্ধতি বাতিলের প্রক্রিয়া চলতে থাকে। বিদেশ থেকে আমদানিকৃত সার ও পাম্প কেনার জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়। ওদিকে ভূগর্ভস্থ পানি সেচ দিয়ে উচ্চ ফলনশীল নতুন ‘ইরি’ ধান আবাদেও কৃষকরা উৎসাহিত হতে থাকেন। এভাবে দেশে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের এক মহাউদ্যোগ শুরু হল।

এ সব কাজকর্মের ফলে দেশে ধানের উৎপাদন বেড়েছে ঠিকই, তবে কৃষকরা আটকা পড়েছেন তিনটি ফাঁদে। এরপর থেকে তারা বীজ, সার ও সেচের জন্য অন্যের মর্জির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লেন। এগুলোর সরবরাহে কোন সমস্যা হলে বা এগুলোর দাম বেড়ে গেলে চাষাবাদের কাজই বন্ধ হওয়ার দশা হয়।

আমাদের দেশে কৃষি উৎপাদনে হাজার বছর ধরে দেশীয় পদ্ধতি ও উপকরণের ব্যবহার চালু ছিল। সবুজ বিপ্লবের প্রভাবে এসবের বদলে বিদেশি প্রযুক্তির প্রয়োগ শুরু হয়। ষাট দশকের শেষদিকে নিজম্ব ফসল থেকে সংগৃহীত দেশি জাতের বীজ দিয়ে ধান উৎপাদন তিন শতাংশ কমে যায়। তার মানে, তখন এ হার ছিল মোট উৎপাদনের শতকরা ৯৭ ভাগ। স্বাধীনতার পর সবুজ বিপ্লব আরও বেশি গুরুত্ব পেতে থাকে। ফলে সত্তর দশকের মাঝামাঝিতে দেশি জাতের ধান উৎপাদন আরও কমে যায়। এই হার মোট উৎপাদনের শতকরা ৬৯ ভাগে চলে আসে।

এভাবেই খাদ্যে স্বনির্ভরতা, খাদ্য নিরাপত্তা ইত্যাদির নামে কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ চলতে থাকে। ফলে দেশি জাতের ধান উৎপাদন আশির দশকের মাঝামাঝিতে এসে দাঁড়ায় ৫৬ ভাগে। নব্বই দশকের শেষে এই হার ছিল ২৩ ভাগ এবং ২০১০ সালে ১১ ভাগ। এই হিসেবে বর্তমানে মোট ধান উৎপাদনের শতকরা ৮৯ ভাগ উচ্চ ফলনশীল জাতের নতুন বীজ আবাদি জমি থেকে আসছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি আবার সেচাধীন। এতে অবশ্য ধানের উৎপাদন বছরে ২ কোটি টন বেড়ে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টনে পৌঁছে গেছে। এই বৃদ্ধির জন্য ধান আবাদি জমি শতকরা মাত্র ৩.৩ ভাগ বেড়েছে। তবে সেচ এলাকা বাড়াতে হয়েছে ২২ লাখ থেকে ১ কোটি ৪৮ লাখ একরে অর্থাৎ প্রায় ৭ গুণ। সেই সঙ্গে প্রতি বছর জমিতে রসায়নিক সার প্রয়োগের পরিমাণ প্রায় ৪০ লাখ টন এবং কীটনাশক ব্যবহার ৫০ হাজার টনে চলে এসেছে।

একইভাবে ধান আবাদে উচ্চ ফলনশীল জাতের নতুন বীজ বেচাকেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে বছরে প্রায় এক লাখ টনে। আর পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, ২০০৯-১০ সালে প্রায় ৩০ হাজার টন ধানের হাইব্রিড বীজ ব্যবহার হয়েছে। সেচের পানি উত্তোলনের জন্য বর্তমান হারে সারা দেশে কৃষকদের প্রতি বছর প্রায় ৮০ কোটি লিটার ডিজেল কিনতে হচ্ছে। এই সঙ্গে ব্যবহার করতে হচ্ছে বিদ্যুৎ। সাধারণ হিসাবে কৃষকদের কমবেশি ২৫ হাজার কোটি টাকার সার, ১ হাজার কোটি টাকার কীটনাশক, ৬ হাজার কোটি টাকার ডিজেল এবং ৫ শ’ কোটি টাকার নতুন জাতের ও ৬ শ’ কোটি টাকার হাইব্রিড ধানের বীজ কিনতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে কৃষকদের বছরে ৩৩ হাজার কোটি টাকার কৃষি উপকরণ ব্যবহার করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে শুধুমাত্র দেশি জাতের বীজ ব্যবহার করা হলে সোয়া কোটি টন ধান কম উৎপাদিত হত। এতে বর্তমান জনসংখ্যা ও মাথাপিছু চালের চাহিদার ভিত্তিতে খুব একটা ঘাটতি হত না। দেশি জাতের সারের গ্রহণক্ষমতা কম। এটা বৃষ্টি-নির্ভরশীল। খরা ও বন্যা-সহনশীল। কীটপতঙ্গ ও রোগব্যবাধির আক্রমণের ব্যাপারে প্রতিরোধ ক্ষমতাও থাকে এই সারের। ফলে বীজসহ অন্যান্য উৎপকরণ বাবদ হাজার হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হত না।

এই টাকা দিয়ে ১ কোটি ১৫ লাখ টন ধান কেনা যেত। বৃষ্টির পানিতে ধান আবাদের ফলে শুষ্ক মৌসুমে ছোলা, মসুর, মুগ, সরিষা, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, আখ ইত্যাদি ফসলের আবাদে ফিরে গেলে বর্তমানে বিদেশ থেকে এসব ফসল আমদানি বাবদ প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা বেঁচে যেত। এই টাকা দিয়ে আরও ৫০ লাখ টন ধান কেনা যেত। এতে আর যাই হোক দেশের পরিবেশ বজায় থাকত। মাটির উর্বরতা নষ্ট হত না। গৃহপালিত পশুপাখির জন্য যথেষ্ট খাবার থাকত। দেশের মাছ ও অন্যান্য জলজ সম্পদ বিলীন হওয়ার আশংকা তৈরি হত না। ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন নিয়ে সংকটে পড়ার ভয়ও থাকত না। এই অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায় যে, বর্তমানে কৃষকদের হাইব্রিড ধান চাষে যেভাবে প্ররোচিত করা হচ্ছে তার পরিণাম হয়তো শুভ হবে না।

গত দেড় দশক ধরে ভিনদেশ থেকে আমদানি করে বাংলাদেশে হাইব্রিড ধানের বীজ বাজারজাতকরণের তৎপরতা চলছে। সেচ-সার-নতুন বীজ প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির সুযোগে বীজ ব্যবসায়ীরা হাইব্রিড বীজ বাজারজাত শুরু করে। শুরু থেকেই বলা হচ্ছে, হাইব্রিড ধানের ফলন প্রচলিত নতুন জাতের ধান, যেমন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত বিআর ১৪ বা গাজীর চেয়ে অনেক বেশি। প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষকদের আমদানিকৃত হাইব্রিড ধানের বীজ ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ ব্যাপারে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। টেলিভিশনে হাইব্রিড ধানের গুণাগুণ প্রচার করা হচ্ছে। বীজ আমদানিকারকরা প্রচারের জন্য খরচ করতে দ্বিধা করছেন না। কারণ এখানে লাভের পরিমাণ যথেষ্ট, প্রচলিত বীজ বিক্রির তুলনায় দশ থেকে পনের গুণ বেশি।

হাইব্রিড বীজ উৎপাদন পদ্ধতি কিন্তু জটিলতর এবং গোপনীয়। প্রচলিত বীজের ক্ষেত্রে কৃষকরা উৎপাদিত ফসলের বীজ সংগ্রহ করে যতবার ইচ্ছা ফসল আবাদ করতে পারেন। হাইব্রিড ফসল চাষে তা সম্ভব নয়। এমন করতে গেলে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যাবে। তাই কৃষককে হাইব্রিড বীজ প্রতিবারই নতুন করে সংগ্রহ করতে হয়। অন্যদিকে বীজ উৎপাদনকারীরা হাইব্রিড বীজের জন্মরহস্য প্রকাশ করেন না। আর এ কারণেই তো হাইব্রিড বীজ ঊৎপাদন করে মুনাফা করার সুযোগ বেশি। হাইব্রিড ধানের বীজ কৃষকদের ওপর চাপাতে পারলে ব্যবসায়ীদের তাই পোয়াবারো।

বাংলাদেশে সারা বছরে তিনবার ধান চাষ করা যায়। আউস, আমন ও বোরো মৌসুমে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯-১০ সালে আমাদের দেশে ২ কোটি ৮১ লাখ একর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে আধুনিক বা উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান আবাদ হয়েছে ২ কোটি ৬ লাখ একরে, হাইব্রিড জাতের আবাদ ১৭ লাখ একরে এবং দেশি বা স্থানীয় জাতের আবাদ হয়েছে ৫৮ লাখ একরে। বাংলাদেশে প্রতি বছর ধানের বীজের মোট চাহিদা ৩ লাখ টনের বেশি। এই চাহিদার শতকরা ৮০ ভাগ উচ্চ ফলনশীল নতুন বা আধুনিক জাতের।

তাই বাংলাদেশের কৃষকরা সবাই যদি হাইব্রিড ধান চাষ শুরু করে তাহলে এদেশে বর্তমান মূল্যহারে প্রতি বছর প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার হাইব্রিড ধানের বীজের বাজার সৃষ্টি হবে। আর বাজারটা দিন দিন বাড়বেই। সবচেয়ে বড় কথা, এই বীজের জন্য কৃষকদের বীজ ব্যবসায়ীদের উপর নির্ভর করতে হবে। এভাবে কৃষকরা পড়বেন ফাঁদে। বীজ ব্যবসায়ীরা নিয়ন্ত্রণ করবেন এদেশের কৃষিউৎপাদন।

বাংলাদেশে হাইব্রিড ধান বীজের আবির্ভাব ঘটে ভারত থেকে বীজ আমদানির মধ্য দিয়ে। হাইব্রিড ধান উৎপাদনে ঝুঁকি বেশি, অনেক খরচ ও প্রয়োজন সুদক্ষ ব্যবস্থাপনা। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া এবং ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মতামত ছাড়াই এই বীজ আমদানি করে বাজারজাতকরণ শুরু হয়। বাংলাদেশ বীজ প্রত্যয়ন সংস্থা কর্তৃকও এ বীজ প্রত্যায়িত ছিল না। যে দেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে সে দেশের সরকার কর্তৃকও জাতগুলো অনুমোদিত ছিল না। আমদানিকৃত হাইব্রিড বীজ ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা নেয়া হয়। আগ্রহী কৃষকরা যেমন আশা করেন তেমন ফল না পেলেও বারবার তাদের আশা দেয়া হয়। কৃষকরা প্রতারিত হতে থাকেন। অনেকেই প্রচুর ক্ষতির সম্মুখীন হন। তারা বুঝতে পারেন যে আমদানিকৃত বীজ এদেশের কৃষিপরিবেশের উপযোগী নয়।

এ নিয়ে ১৯৯৮ সালে জাতীয় সংসদে বাকবিতন্ডা হলে সরকার এ জন্য বিরোধী দলকে দায়ী করে কিন্তু প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকেও এ ব্যাপারে কোনোরকম নির্দেশ দেয়া হয় না। বিশিষ্ট ধান গবেষক, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ভূতপূর্ব পরিচালক ও পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সদস্য ড. এসএম হাছানুজ্জামান এই বীজ আমদানিকে অসাধু ব্যবসা ও চতুর দস্যুতা (Intellectual Piracy) বলে অভিহিত করেছিলেন। তার মতে, এই বীজ ধানচাষীদের শত্রু।

হাইব্রিড বীজ এখনও সরাসরি আমদানি করে বাজারজাত করা হচ্ছে। দেশে কিছু উৎপাদিত হচ্ছে বলা হলেও কী পরিমাণে হচ্ছে সে সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট বেশ কয়েকটি হাইব্রিড জাত উদ্ভাবন করেছে। বিএডিসি প্রায় ১ হাজার টন হাইব্রিড ধান বীজ সরবরাহ করছে। তবে আমদানিকৃত বীজের সরবরাহ বেশি। পরিসংখ্যান ব্যুরো কী পরিমাণ এলাকায় হাইব্রিড জাতের ধানের চাষ হয় তার ওপর তথ্য প্রকাশ শুরু করেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যায় যে ২০০৮ সালে প্রায় ২০ লাখ একর জমিতে ৩৬ লাখ টন হাইব্রিড জাতের ধান উৎপাদন হলেও ৩ বছর পর ২০১০ সালে তা ১৭ লাখ একরে নেমে এসে ৩২ লাখ টন ধান উৎপাদিত হয়েছে। মনে হয় কৃষকরা হাইব্রিড চাষের মর্মার্থ টের পেয়েছেন। চাষাবাদ খরচের তুলনায় ফলন আশাব্যঞ্জক না হওয়ায় আশাহত হয়ে হাইব্রিড বীজ ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছেন। যদি তাই হয় তাহলে এটা শুভলক্ষণ। কিন্তু বীজ ব্যবসায়ীরা আশা ছাড়বেন না। নতুন নতুন জাত নিয়ে হাজির হবেন।

হাইব্রিড ধানের কলাকৌশল কৃষি গবেষণা কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। সবার আগে চীনে কৃষিবিজ্ঞানীরা এই কৌশল উদ্ভাবন করেন। হাইব্রিড ধানের গড় ফলন ৮ থেকে ১০ টন। উচ্চ ফলনশীল নতুন জাতের চেয়ে ৩-৪ টন বেশি। ব্যবসায়িক ভিত্তিতে সত্তর দশকে চীনে হাইব্রিড ধানের আবাদ শুরু হয়। তবে চীনে হাইব্রিড ধান আবাদ করে ফলন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বীজ উৎপাদনও বেশ লাভজনক হিসেবে দেখা দেয়। কারণ, এই বীজ তৈরি জটিলতর হওয়ায় প্রচুর শ্রমিক ব্যবহারের সুযোগ হয়েছিল। হাইব্রিড বীজ দুটি ভিন্ন গুণাবলীর পিতামাতার মধ্যে শংকর বা ক্রস পরাগায়নের ফলে সৃষ্টি হয়। ইংরেজিতে একে হাইব্রিডাইজেশন বলে। হাইব্রিডাইজেশনের ফলে উৎপন্ন বীজ থেকে উৎপাদিত গাছে বেশি ছড়া ও ধান উৎপাদনের বাহ্যিক (ফেনোটাইপ) গুণাগুণ দেখা গেলেও কৌলগত (জেনোটাইপ) গুণাগুণ অপরিবর্তিত থাকে। ফলে হাইব্রিড ফসল থেকে সংগৃহীত বীজ ব্যবহার করে পরে উৎপাদিত ফসলে সমসংখ্যক ছড়া ও ধান পাওয়া যায় না। প্রতি ফসলে নতুন করে মূল বীজের প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে দেশি জাতের ফসল থেকে বীজ সংগ্রহ করে পরবর্তী ফসলের চাষ করা যায়। একই পদ্ধতিতে প্রচলিত উচ্চ ফলনশীল নতুন জাতের ফসলও আবাদ করা যায়। তবে ফলন হার ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে।

হাইব্রিড ধানের বীজ উৎপাদনে নিযুক্ত থাকে প্রতি একরে ২২০ থেকে ৩২৫ জন। ধান আবাদের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ থেকে দ্বিগুণ বেশি। তাই আমাদের দেশে যদি হাইব্রিড ধান আবাদ একান্তই দরকার হয় তাহলে বীজ আমদানি নয়, উৎপাদন করতে হবে। এতে প্রচুর কৃষি শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। এ জন্য প্রয়োজন হবে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় হাইব্রিড বীজ উৎপাদন কলাকৌশলের ওপর প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনী। একই সঙ্গে প্রয়োজন সুদূরপ্রসারী কৃষিনীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন। গত ৫০ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে টেকসই কৃষিউৎপাদনের লক্ষ্যে হাইব্রিড জাতের আবাদ উপযোগিতা বা প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা তা পর্যালোচনা করে দেখা যেতে পারে। দেশি জাতের উন্নয়ন এবং দক্ষ চাষাবাদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চাহিদামতো ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা অপরিহার্য। যাতে করে মাটির উর্বরতা শক্তি বজায় রাখা যায় এবং পরিবেশ ও প্রতিবেশ অনুকূল চাষাবাদ প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায়। তাতে ভবিষ্যৎ খাদ্য চাহিদা পূরণে রাসায়নিক সার ও আমদানীকৃত বীজের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা যাবে।
এসব সম্ভাবনার আলোকে প্রণীত কৃষিনীতির ভিত্তিতেই নির্ধারিত হোক এদেশের কৃষি উৎপাদন পদ্ধতি। কোনো দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়।