ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, মে ১৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- হুমায়ূন আহমেদের প্রকাশিতব্য রাজনৈতিক উপন্যাস ‘দেয়াল’ সংশোধন না করে প্রকাশে বারণ করেছে হাই কোর্ট।

মঙ্গলবার বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও জাহাঙ্গীর হোসেনের বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেয়।

সংবাদপত্রে আগাম প্রকাশিত ওই উপন্যাসের দুটি অধ্যায়ে বঙ্গবন্ধুর ছোট ছেলে শেখ রাসেলের হত্যাদৃশ্যের যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে- তাতে আপত্তি জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সোমবার বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন।

মঙ্গলবার শুনানি শেষে আদালত আদেশে বলেন, ‘ভুল সংশোধন না করা পর্যন্ত’ উপন্যাসটি প্রকাশ করা যাবে না।

এছাড়া তথ্য ও শিক্ষা সচিবকে ওই ‘ভুলের’ বিষয়ে হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আদালতের স্বীকৃত বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় এবং সাক্ষ্যের বিবরণ সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে তিনি ভুল সংশোধনের সুযোগ পান।

একই সঙ্গে ওই উপন্যাসে থাকা ‘ভুল’ সংশোধনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত। শিক্ষা, তথ্য ও সংস্কৃতি সচিবকে ১২ দিনের মধ্যে এর জবাব দিতে হবে।

আদালত বলেন, “হুমায়ূন আহমেদ একজন জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক এবং শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি। তিনি দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। আমরা কোনো আদেশ দিয়ে তাকে বিব্রত করতে চাই না। তবে নতুন প্রজন্ম ভুল ইতিহাস জানুক- সেটাও আমরা চাই না। বিষাদসিন্ধু- ইত্যাদি যেভাবে আছে পাঠকরা সেভাবেই ঘটনা জানে।”

একুশে ও বাংলা একাডেমী পদকে ভূষিত ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদের বিভিন্ন বইয়ে এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রসঙ্গ এলেও ১৯৭৫ এর ১৫ অগাস্ট তার হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী ঘটনাবলী নিয়ে এবারই পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস লিখছেন এই কথাসাহিত্যিক।

গত ১১ মে এই নতুন উপন্যাসের দুটি অধ্যায় প্রথম আলোতে প্রকাশিত হয়। প্রথম আলোতে বলা হয়, দেয়াল হুমায়ূন আহমেদের প্রকাশিতব্য রাজনৈতিক উপন্যাস। এ উপন্যাসের পটভূমি ১৯৭৫ সালে ঘটে যাওয়া বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য রাজনৈতিক ঘটনা।

মাহবুবে আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হুমায়ূন আহমেদের ওই উপন্যাসে বঙ্গবন্ধু হত্যার ঘটনার সময় শেখ রাসেলের মৃত্যুর দৃশ্যপটটি যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। এই হত্যাকাণ্ডটি ছিল একটি বিভৎস ঘটনা। কিন্তু হুমায়ূনের বিবরণে সেটা ফুটে ওঠেনি।”

“এছাড়া খন্দকার মোশতাককে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তাতে মনে হয়েছে, তিনি এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আগে থেকে জানতেন না। প্রকৃতপক্ষে তিনি ওই ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন”, বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

অবশ্য হুমায়ূনের এই ‘রাজনৈতিক উপন্যাস’ লেখার সিদ্ধান্তকে একটি ‘মহৎ উদ্যোগ’ বলে মনে করেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে।

“কিন্তু এতে তথ্যগত ভুল থাকলে লাখ লাখ তরুণ সঠিক ইতিহাস জানা থেকে বঞ্চিত হবে।”

আদালত শুনানি শেষে ওই উপন্যাস প্রকাশে ‘স্থগিতাদেশ’ দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

‘দেয়াল’ উপন্যাসটি প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে প্রকাশনা সংস্থা অন্যপ্রকাশ থেকে।

এ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মাজহারুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গতকাল থেকে আমরা জানতাম যে এটি আদালতে উঠবে। তবে আদেশ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র আমরা এখন পর্যন্ত হাতে পাইনি।”

১৯৪৮ সালে জন্ম নেওয়া হুমায়ূন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই লেখালেখি শুরু করে সাহিত্য সমালোচকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। তারপর ধীরে ধীরে দেশের জনপ্রিয়তম কথাসাহিত্যিকে পরিণত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের এই শিক্ষক। লেখালেখিতে ব্যস্ত হয়ে ওঠার পর অধ্যাপনা ছেড়ে দেন তিনি।

টিভিতে নাটক লিখে ও নিদের্শনা দেওয়ার পর চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন হুমায়ূন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমনি’ জাতীয় পুরস্কার পায়।

বৃহদান্ত্রের ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য প্রায় আট মাস যুক্তরাষ্ট্রে কাটিয়ে গত শুক্রবার দেশে ফেরেন হুমায়ূন আহমেদ। কিছুদিন পর অস্ত্রোপচারের জন্য তাকে আবারো নিউ ইয়র্কে যেতে হবে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএন/জেকে/১৪১৪ ঘ.