ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, মে ২৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- অর্থনীতিবিদ ও নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা অধ্যাপক ড. মোজাফফর আহমদ আর নেই।

মঙ্গলবার রাতে ধানমণ্ডির বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ল্যাব এইড হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত ১১টা ২২ মিনিটে চিকিৎসক জানান, অধ্যাপক মোজাফফর মারা গেছেন।

একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক মোজাফফরের বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও দুই ছেলে রেখে গেছেন।

তার ছেলে সিরাজ আহমদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বাদ জোহর ধানমণ্ডির শাহী ঈদগাহ মাঠে মোজাফফর আহমদের প্রথম জানাজা হবে। এরপর তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজার পর আজিমপুর কবারস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এমিরেটাস মোজাফফর নাগরিক সংগঠন সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক)-এর সভাপতি ছিলেন।

তিনি দীর্ঘদিন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ছিলেন তিনি।

অধ্যাপক মোজাফফর মরদেহ রাতে বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে রাখার পর সকালে কফিন নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর সাত মসজিদ রোডে তার বাসভবনে।

টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টর মঈনুল হোসেন, নাট্যকার মামুনুর রশিদসহ অনেকেই নাগরিক অধিকার আন্দোলনের এই নেতাকে শেষবারের মতো দেখতে তার বাসায় যান।

সুলতানা কামাল বলেন, “আমরা একজন অভিভাবক হারালাম। এ ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মোজাফফর ২০০৮ সালে একুশে পদক পান। পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক এই সদস্য শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়েছিলেন।

সুজন সম্পাদক অধ্যাপক বদিউল আলম মজুমদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, অধ্যাপক মোজাফফর বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ল্যাব এইড হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সে সময় ল্যাবএইডে দায়িত্বরত চিকিৎসক মো. ইমরান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, রাত ১০টা ৫০ মিনিটে অধ্যাপক মোজাফফরকে জরুরি বিভাগে আনার পর সঙ্গে সঙ্গে তাকে সিসিইউতে নেওয়া হয়।

ডা. ইমরানের ধারণা, জরুরি বিভাগে আনার আগেই অধ্যাপক মোজাফফরের মৃত্যু হয়। তিনি হাইপারটেনশন এবং ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন বলেও জানান ওই চিকিৎসক।

মোজাফফর আহমদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

আরেক শোকবার্তায় বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া বলেছেন, এই শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

বিএনপি চেয়ারপারসন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে অধ্যাপক মোজাফফরের দায়িত্ব পালনের কথা স্মরণ করেন এবং প্রয়াতের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানান।

অধ্যাপক মোজাফফরের দীর্ঘ দিনের কর্মসঙ্গী টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তার মৃত্যুর শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।

“তিনি গণমানুষের প্রতি দরদ থেকে আজীবন সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে গেছেন।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমএইচসি/এনআইএইচ/এএসটি/আরএ/১১০৮ ঘ.