ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, মে ২৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ৩৩ নেতার বিরুদ্ধে হরতালে গাড়ি পোড়ানোর মামলাটি ‘বানানো’ বলে মনে করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হক।

নেতাদের জামিন শুনানিতে তিনি বলেছেন, “আসামিরা সবাই দেশের শীর্ষ স্থানীয় রাজনীতিক ব্যক্তিত্ব, বয়স্ক; প্রায় সবাই সাবেক সাংসদ, মন্ত্রী, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।”

দ্রুত বিচারের আইনের এ মামলাটির ধারা জামিনযোগ্য উল্লেখ করে ব্যারিস্টার রফিক বলেন, “এ রকম চরিত্রের লোকজন কখনোই পালিয়ে যাবে না।”

হরতালে গাড়ি পোড়ানোর এক মামলায় ৩৩ নেতার জামিনের আবেদন বুধবার দ্বিতীয়বারের মতো নাকচ করে বিচারিক আদালত।

মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিনের শুনানিতে ব্যারিস্টার রফিক বলেন, “পুলিশের এ মামলাটি যে বানানো তা বোঝা যায় এক সঙ্গে কিছু পর্যায়ের সবাইকে আসামি করায়। আসলে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে গোলে হরিবলের খেলা খেলেছে।”

১৮ দলীয় জোট নেতাদের মুক্তির দাবিতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির গণ অনশন কর্মসূচিতেও যোগ দিয়েছিলেন আইনজীবী রফিক।

বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীকে ‘গুমের’ প্রতিবাদে গত ২৯ এপ্রিল বিএনপির হরতালের সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে তেজগাঁও থানায় মামলা হয় ওই রাতেই।

গত ১০ মে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে দেওয়া অভিযোগপত্র গত ২১ মে গ্রহণ করেন বিচারক।

মির্জা ফখরুলসহ মামলার অন্য আসামিরা এ মামলায় আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন। সে সময় হাই কোর্ট তাদের বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। সে অনুযায়ী ১৬ মে তারা মহানগর দ্রুত বিচার হাকিমের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তা নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠায়।

‘যে শর্ত দিন, মেনে নেব’

বুধবারের শুনানিতে অন্য আসামিদের আইনজীবীরাও প্রায় ব্যারিস্টার রফিকের মতো বক্তব্য রেখে জামিন চান।

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, “রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ঘটনার দিন নাটোরে ছিলেন।

কর্নেল অলির পক্ষে মওদুদ আদালতকে বলেন, “অলি আহমেদ সেদিন কক্সবাজারে সপরিবারে অবকাশে ছিলেন।”

তারা এ মামলার ঘটনায় জড়িত নন বলেও উল্লেখ করেন আইনজীবী।

রাজনৈতিক জীবনের উত্থানের ঘটনার বর্ণনা করে গয়েশ্বরের আইনজীবী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ মারাত্মক অসুস্থ। এ অসুস্থতার জন্যই তিনি জামিন পেতে পারেন।”

আমান উল্লাহ আমানের পক্ষে অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন বলেন, “ঘটনার সঙ্গে আমাদের কারো কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। সরকার আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে পারেন, তার ক্ষমতা আছে। দেশের মানুষ রাজনীতিকদের ওপর যতটা আস্থাশীল তার চেয়েও বেশি আদালতের ওপর আস্থাশীল।

“আদালত জামিনের যে শর্ত দিন না কেন, আমরা মেনে নেব।”

এ সময় বিচারক রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য জানতে চান।

‘নির্দেশ দিতে ঘটনাস্থলে না থাকলেও হয় ’

বিচারক প্রশ্ন করেন, এই যে ঘটনার সময় জামিন প্রার্থী অভিযুক্তরা উপস্থিত ছিলেন না, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না এ ব্যাপারে আপনারা কী বলেন।

এর জবাবে সরকারের আইনজীবী (পিপি) আব্দুল্লাহ আবু বলেন, “মামলার তদন্তের কাগজপত্রে উল্লেখ আছে যে তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তারা ঘটনাস্থলের বাইরে বা ঢাকার বাইরে ছিলেন না।”

পিপি খন্দকার আব্দুল মান্নান বলেন, “এ যুগে কোনো ঘটনার নির্দেশ দিতে ঘটনাস্থলে সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও হয়।”

“ঘটনাস্থল থেকে বাস পোড়ানোর সময় তিন জন লোককে হাতেনাতে ধরা হয়। ঘটনার নির্দেশ দাতা হিসেবে তারা সবাই এ অভিযুক্ত নেতাদের নাম বলেছে।”

ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতার পক্ষে শুনানিতে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, “এরা ভেতরে থাকলেও ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে, বাইরে থাকলেও হবে। সুতরাং এদের জামিন দেয়া হোক।”

এ মামলার আসামি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও কামরুজ্জামান রতনকে আগেই গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

এছাড়া বিএনপির আরেক যুগ্ম মহাসচিব মাহাবুবউদ্দিন খোকন উচ্চ আদালতের জামিন পেলেও মেয়াদ শেষে তাকেও কারাগারে পাঠায় বিচারিক আদালত।

এই মামলায় কারাবন্দি নেতাদের মধ্যে আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আ স ম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

এছাড়া এলডিপি চেয়ারম্যান অলি আহমদ, বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, এনপিপি চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলুও কারাগারে রয়েছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/পিবি/জেকে/১৬১৫ ঘ.