ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, মে ২৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বাঙালির হাতে তিনি একইসঙ্গে তুলে দিয়ে গেছেন প্রেমের ফুল, দ্রোহের ফুলকি। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শুক্রবার উদযাপিত হচ্ছে কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৩তম জন্মবার্ষিকী।

কবির লেখা ‘বিদ্রোহী’ কবিতারও ৯০ বছর পূর্ণ হচ্ছে এ বছর। আর তাই, এবার বাংলাদেশ ও ভারত নজরুল জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে যৌথভাবে।

সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবির সমাধিতে ফুল দেন কবি পরিবারের সদস্যরা।

এছাড়া তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচর্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার, ড. আবদুল মঈন খান ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি, মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের নেতৃত্বে বাংলা একাডেমী, নজরুল ইনস্টিটিউট, শিল্পকলা একাডেমী, নজরুল একাডেমি, নজরুল আবৃত্তি পরিষদ, নজরুল সঙ্গীত শিল্পী পরিষদ, জাতীয় জাদুঘর, প্রমীলা নজরুল সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।

পরে সমাধি প্রাঙ্গণে আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে এক স্মরণসভায় কবির জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ। কবির নাতনী খিলখিল কাজীও উপস্থিত ছিলেন এ অনুষ্ঠানে।

১৮৯৯ সালের ২৫ মে (বাংলা ১৩০৬ সালের ১১ জৈষ্ঠ্য) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম।

বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে অসুস্থ কবিকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর বিশেষ সমাবর্তনের মাধ্যমে তাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লেটার্স (ডিলিট) ডিগ্রি দেয়।

১৯৭৬ সালে কবিকে ‘একুশে পদক’ দেওয়া হয়। সে বছরের ২৯ অগাস্ট তৎকালীন পিজি হাসপাতালে মারা যান মানবতা ও বিদ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলাম। জাতীয় মর্যাদায় কবিকে সমাহিত করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তরপাশে।

নজরুলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, “নজরুল সমাজের যে অনির্বাণ প্রদীপ জ্বালিয়েছেন তার আলোকচ্ছটায় দূরীভূত হয়েছে অন্ধকার, প্রতিভাত হয়েছে সোনালী সূর্য। সেই সূর্য আজো আমাদের অনুপ্রাণিত করে সোনালী বাংলাদেশ গড়তে।

“আমি আশা করি নতুন প্রজন্ম নজরুল কর্মের চর্চার মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হবে।”

আলাদা বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “তার অগ্নিঝরা গান ও কবিতা যেমন বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে এ উপমহাদেশের মানুষকে উজ্জীবিত করেছিল, তেমনি পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত করতে এদেশের মুক্তিকামী জনতাকে অনুপ্রাণিত করেছিল প্রবলভাবে।

“জাতীয় কবি অসা¤প্রদায়িক, বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন দেখতেন, তা বাস্তবায়নের জন্য আমরা কাজ করছি। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের কর্ম, চিন্তা ও মননে কবির অবিনশ্বর উপস্থিতি আমাদেরকে নতুন প্রাণশক্তিতে উজ্জীবিত করবে।”

অনুষ্ঠান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে নজরুল জন্মজয়ন্তীতে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করবেন।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের আইন ও বিচার এবং সংখ্যালঘু স¤প্রদায় বিষয়ক মন্ত্রী সালমান খুরশিদ।

এ আয়োজনে বাংলাদেশ অংশের দুদিনের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা হবে শিল্পকলা একাডেমীতে। দুদিনের এ অনুষ্ঠানমালা বিকাল থেকে শুরু হয়ে চলবে রাত পর্যন্ত।

এ ছাড়া ছায়ানট দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। নৃত্য-গীত, কবিতা পাঠ ও বক্তৃতা দিয়ে সাজানো হয়েছে এসব অনুষ্ঠান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসআই/জেকে/১০১২ ঘ.