ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, মে ৩১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম কার্যালয়ের সামনে সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা ও ছুরি মারার কথা স্বীকার করেছেন সাভার থেকে গ্রেপ্তার দুই যুবক।

ইমরান মোল্লা (২০) ও ইয়াকুব আলী (২২) নামের এই দুই যুবককে সাভার থেকে গ্রেপ্তার করার পর বৃহস্পতিবার সকলে উত্তরায় র‌্যাব-১ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়।

ইমরান বলেন, “সৌরভের টেলিফোন পেয়ে পাশের একটি চায়ের দোকান থেকে চাকু নিয়ে আমি ছুটে যাই এবং দুইজনকে কুপিয়ে সৌরভকে ছাড়িয়ে আনি।”

ছুরির আঘাতে গুরুতর আহত সহ সম্পাদক নেওয়াজ মোহাম্মদ রিফাত ও প্রতিবেদক সালাহউদ্দিন ওয়াহেদ প্রীতম ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিসাধীন। একই হাসপাতালে ভর্তি আছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের অফিস সহকারী রুহুল আমিন।

গত ২৮ মে রাতে মহাখালীর আমতলীতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম কার্যালয়ের নিচে এই অনলাইন সংবাদপত্রের সংবাদ কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। ওই তিনজন ছাড়াও অন্তত ১০ জন আহত হন ওই হামলায়।

ঘটনার পরদিন মহাখালী এলাকা থেকে জাহেদুল ইসলাম সৌরভ, সুমন ও মীর হোসেন নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ, যাদের মধ্যে সৌরভ হামলায় জড়িত থাকার কথা ইতোমধ্যে স্বীকার করেছেন।

ইমরান ও ইয়াকুব র‌্যাব কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, কাইয়ুম এবং মিলন নামে ‘দুই বড় ভাই’ এর ছায়ায় তারা মহাখালী চলাফেরা করেন।

ইমরানের দাবি, গত ২৮ মে রাতে সৌরভের ফোন পেয়ে তাকে ‘ছাড়িয়ে আনতে গিয়েই’ ওই হামলার ঘটনা ঘটে।

সৌরভকে উদ্বৃত করে ইয়াকুব সাংবাদিকদের বলেন, “রাস্তায় পানি থাকায় সৌরভ ফুটপাত দিয়ে সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় একজন তাকে বাধা দেয়। এসময় কথাকাটাকাটি থেকে হাতাহাতি হয়। পরে সৌরভকে তারা ধরে রাখে।”

ইয়াকুব জানান, তিনিও ইমরানের সঙ্গে গিয়ে রড দিয়ে মারধর করে। ওই সময় তাদের সাথে আরো ৯/১০ জন ছিল।

তার দাবি, মারধর করার পরই তারা জানতে পেরেছেন যে যাদের ছুরি মারা হয়েছে তারা সংবাদকর্মী।

ইমরান সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার পরপরই তারা শ্রীপুরে যান। সেখান থেকে তারা সাভারে আসেন। সেখান থেকে রংপুর যাওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই ধরা পড়েন।

ইমরান ও ইয়াকুব দুজনেই দাবি করেছেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নন। এলাকার বড় ভাইয়েরা যখন মিছিলে ডাকে, তখন তারা যান। আওয়ামী লীগ-বিএনপি দুই দলের মিছিলেই তারা গিয়েছেন।

ইমরান বলেন, মহাখালীর আমতলি এলাকায় যুবলীগের অফিসের সামনে তারা আড্ডা দেন। একবার ইয়াবা বিক্রি করতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।

গ্রেপ্তার হওয়ার পর ২৯ মে সৌরভ সাংবাদিকদের সামনে দাবি করেন, তিনি যুবলীগের কর্মী এবং তিতুমীর কলেজের ছাত্র। অবশ্য যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মির্জা আযম ওই দাবি উড়িয়ে দিয়েছিলেন।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল রাশিদুল আলম সাংবাদিকদের জানান, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম কার্যালয়ে হামলার ঘটনার পর থেকে র‌্যাব বিষয়টি অত্যান্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে তদন্ত শুরু করে। চিহ্নিতদের গ্রেপ্তার করতে র‌্যাবের একাধিক ইউনিট মাঠে নামে। টানা দুই দিন নজরদারি চালিয়ে সাভার থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

“ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরো কয়েক জনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য আমরা কাজ করছি। অল্প সময়ের মধ্যেই ভাল ফল পাওয়া যাবে বলে আশা করছি আমরা”, বলেন এই র‌্যাব কর্মকর্তা।

রাশিদুল আলম বলেন, “সাংবাদ কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা একে অপরের পরিপূরক। হামলার ঘটনার পর র‌্যাব অত্যান্ত দ্রুততার সাথে মাঠে নামে, অল্প সময়ের মধ্যে প্রধান আসামিকে (সৌরভ) গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।”

ইমরান ও ইয়াকুব সম্পর্কে এই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, তারা দুজনই বখাটে সন্ত্রাসী। যে ডাকে তার হয়েই তারা কাজ করে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম সোহায়েলসহ কয়েকজন কর্মকর্তা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এলএইচ/জেকে/১৭১৫ ঘ.