ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, জুন ০৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- দ্বিতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট চূড়ায় ওঠা ওয়াসফিয়া নাজরীন তার এ বিজয়কে দেশের নারীমুক্তি আন্দোলনে যুক্তদের উৎসর্গ করেছেন।

এভারেস্ট জয়ী এই নারী শনিবার দুপুর ১টা ২৫মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন। সেখান থেকে রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে গিয়ে একাত্তরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

সাত মহাদেশের সাতটি সর্বোচ্চ চূড়া জয়ের লক্ষ্য নিয়ে অভিযানে নেমে গত ২৬ মে এভারেস্ট জয় করেন ২৯ বছর বয়সি ওয়াসফিয়া।

দেশের মানুষকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিমানবন্দরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এটা আমার একার বিজয় নয়। বাংলাদেশের মানুষ উৎসাহ না দিলে এটা কখনোই অর্জিত হত না।

“আমি আমার এ বিজয়কে দেশের নারীমুক্তি আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রতি উৎসর্গ করছি।”

বিপদসঙ্কুল পথ পেরিয়ে এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার সময় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়ে কখনো নেমে আসার কথা মনে হয়েছে কি না- এ প্রশ্নের জবাবে ওয়াসফিয়া বলেন, “কখনো ফিরে আসি এটা মনে হয়নি। তবে মরে যাব, এমনটা মনে হয়েছিল।”

অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, “ক্যাম্প থ্রি থেকে ক্যাম্প ফোর এ ওঠার সময় ক্যাম্প থ্রি পুরোটাই তুষারধসে ঢাকা পড়ে যায়। একটু আগেই আমরা ওখানে ছিলাম। ওখানে থাকলে মৃত্যু নিশ্চিত ছিল।”

চূড়ায় ওঠার অনুভূতি কেমন ছিল- জানতে চাইলে ওয়াসফিয়া বলেন, “সকাল ৬টা ২৫ মিনিটে আমি যখন এভারেস্টের চূড়ায় উঠি তখন সূর্যোদয় হচ্ছে। ওখান থেকে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় আট হাজার মিটার উচ্চতার মাফালু কুমারুর চূড়া দেখা যাচ্ছিল। এই সৌন্দর্য ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব।”

হিমালয়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় ওঠার আগে গত বছর তিনি আফ্রিকার মাউন্ট কিলিমানজারো এবং দক্ষিণ আমেরিকার অ্যাকনকাগুয়ায় আরোহন করেন।

ওয়াসফিয়া এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার এক সপ্তাহ আগে প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন নিশাত মজুমদার। এরপরই চতুর্থ বাংলাদেশি হিসেবে এই গৌরবের অংশীদার হন ওয়াসফিয়া ।

২০১০ সালের ২৩ মে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন মুসা ইব্রাহিম। তার পথ ধরে সর্বোচ্চ চূড়া জয় করেন এম এ মুহিত ও নিশাত।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এএইচএ/এমএমআর/এমআই/১৬৫০ ঘ.