ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, জুন ১০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- প্রভাবশালী ব্রিটিশ সাময়িকী দি ইকনোমিস্টে সম্প্রতি বাংলাদেশকে নিয়ে প্রকাশিত দু’টি প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সরকার।

সেই সঙ্গে প্রতিবেদন দু’টির প্রতিবেদকের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সংশয়ও প্রকাশ করা হয়।

শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়, “গত কয়েকবছর ধরে আপনার স্বনামধন্য সাময়িকীতে বিশেষ করে বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মান ও ব¯‘নিষ্ঠতার ক্রমাবনতি দেখে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত।”

লন্ডন ভিত্তিক ইকোনমিস্টের ২৬ মের অনলাইন সংস্করণে ‘লিডারস’ ও ‘এশিয়া’ বিভাগে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে ওই দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

‘পলিটিক্স ইন বাংলাদেশ: ব্যাংগড অ্যাবাউট’ প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে ‘বিপজ্জনক পথে’ নিয়ে যা”েছন। আর ‘বাংলাদেশস টক্সিক পলিটিক্স: হ্যালো দিল্লি’ প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে ধ্বংসের হাত থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ঠেকাতে ভারতকে পদক্ষেপ নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়।

‘হ্যালো দিল্লি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, “শেখ হাসিনা সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা তার ক্ষমতা জোরদার করতে এবং তার শত্রুদের ঘায়েল করতে ব্যবহার করছেন।”

বাংলাদেশের এই পরি¯ি’তে ভারতের নাক গলানোর যুক্তি তুলে ধরে এতে বলা হয়, “বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা যখন জনগণের ভাগ্য নিয়ে কোনো আগ্রহই দেখা”েছ না, তখন বাইরের কাউকেই এগিয়ে আসতে হবে।”

“এখন ঢাকার ওপর প্রভাব আছে ভারতের। ভারত তার নিকটতম প্রতিবেশী দেশে কার্যকর গণতন্ত্র চাইলে এখনই সময় জোর গলায় মতামত জানানোর।”

দুটি প্রতিবেদনেই বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর ‘নিখোঁজ’ হওয়া, বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সরকারের পদে পদে হেনস্তা করার চেষ্টার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, “ইইউ প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ইউনূসের পক্ষে দাঁড়ানোর পরও সরকার গ্রামীণ ব্যাংককে ধ্বংসের জন্য কাজ করে যা”েছ।”

‘ব্যাংগড অ্যাবাউট’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সৌদি কূটনীতিককে গুলি করে হত্যা, ট্রেড ইউনিয়ন নেতাকে নির্যাতন করে হত্যা, দুর্নীতি নিয়ে অনুসন্ধান করায় সাংবাদিক দম্পত্তিকে নৃশংসভাবে হত্যা-গত কয়েক মাসে বাংলাদেশে রহস্যজনক বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ড হয়েছে।

জানুয়ারিতে ‘অদ্ভুত’ এক সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টার সুযোগে সরকার সেনাবাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, আগামী নির্বাচনের ১৮ মাস আগে বাংলাদেশের রাজপথ এখন উত্তপ্ত। এর মধ্যেই মানুষের জীবন খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, লোডশেডিং আর বেহাল সড়কে পর্যুদস্ত।

এ পরি¯ি’তিতে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের দীর্ঘ দিনের মিত্র ভারত এখন বিএনপির দিকেও ঝুঁকছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে তাকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। খালেদা জিয়াও ভারতকে “বন্ধু’ বলে সম্বোধন করে তার ভারত বিদ্বেষী অব¯’ান বদলাতে চাইছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই প্রতিবাদ লিপিতে আরো বলা হয়, ওই দু’টি প্রতিবেদনে বর্তমানের বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রতিবেদকের শুধু অতিমাত্রায় অজ্ঞতাই প্রতিফলিত হয়নি, বরং তা ভুল তথ্যে পরিপূর্ণ এবং প্রতিবেদন দু’টিতে অযথার্থ উপসংহার টানা হয়েছে।

এই দু’টি প্রতিবেদনে ইকনোমিস্ট বাংলাদেশের জনগণের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে এবং নগ্নভাবে বিদেশি হস্তক্ষেপকে উস্কে দিয়েছে।

ইকনোমিস্টের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ১৭ কোটি দরিদ্র মুসলমান রয়েছে।

ভবিষ্যতে প্রতিবেদন লেখার আগে সাময়িকীটিকে বিষয় সম্পর্কে ভালভাবে জেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় প্রতিবাদলিপিতে।

“আমরা আপনাদের প্রতিবেদকদের প্রতি আহ্বান জানা”িছ, ভবিষ্যতে প্রতিবেদন তৈরির আগে বাংলাদেশের জনসংখ্যার পরিসংখ্যান সম্পর্কে তারা যেন ভালভাবে জেনে নেন।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনকে উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, সা¤প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

গত বছর নিউ ইয়র্কে প্রেসিডেন্ট ওবামা শেখ হাসিনাকে বলেছিলেন, “… নারীর ক্ষমতায়ন এবং সন্ত্রাস দমনে আপনি এবং আপনার সরকার চমৎকার কাজ করছে।”

“কোনো প্রমাণ ছাড়াই সাংবাদিক হত্যা এবং তাদের উপর হামলার জন্য সরকারকে দায়ী করা- ইকনোমিস্টের একটি বিদ্বেষপূর্ণ কাজ এবং সাত্যিকার অর্থেই দুর্বল সাংবাদিকতার উদাহরণ।”

বিডিনিউ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএসজেড/ডিডি/এইচএ/০০৩৩ ঘ.