ক্যাটেগরিঃ আর্ত মানবতা

লাকী আখন্দ, ছবিঃ সংগৃহীত

ঘরটা একটু অগোছালো থাক,
উঠোনে অল্প ধূলো,
পাকা দেওয়ালের জ্যামিতি ভাঙতে –
বন্য লতাটা তুলো।

অন্তরে কিছু সংশয় থাক,
ভাষায় কিছুটা দ্বিধা,
কিছু ভুল কিছু কাটাকাটি নিয়ে
জীবনের মুসাবিদা।
—কবিতাঃ খুঁত, কবিঃ প্রেমেন্দ্র মিত্র

জীবনের মুসাবিদাতে বিদায় ঘটার আগে একজন জীবন্ত কীংবদন্তিকে ফিরিয়ে আনার আকুল আবেদন জানিয়ে শুরু করছি তাঁর গল্প।

শিল্প, সাহিত্য-সংস্কৃতি, সঙ্গীতের দেশ বাংলাদেশ। এই দেশে বহু কৃতী মুখের জন্ম হলেও কয়েকজন গুণী তাদের মধ্যে অধিক মাত্রায় আমাদের মনে গেঁথে আছেন। লাকী আখন্দ তেমনি এক নাম। ১৯৫৬ সালের ১৮ই জুন লাকী আখন্দের জন্ম। ৫ বছর বয়সে বাবার মাধ্যমে সংগীতে হাতেখড়ি হয়। এরপর থেকে নিজের মেধা ও যোগ্যতার বলে সাত বছরে বয়সে অর্থাৎ ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত রেডিও, টেলিভিশনে শিশু-কিশোরদের তিনি সঙ্গীতের অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতেন। ১৪ বছর বয়সে তিনি পাকিস্তানের এইচএমভি প্রতিষ্ঠানে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং ১৬ বছর বয়সে ভারতের এইচএমভি প্রতিষ্ঠানের সুরকার হিসেবে কাজ করেন।

১৯৮৪ সালে সারগমের ব্যানারে প্রকাশ পায় লাকী আখন্দের প্রথম একক অ্যালবাম “লাকী আখন্দ” (সেলফ্ টাইটেলড, লেভেলঃ সারগাম-১২০)। ঐ অ্যালবামের উল্লেখযোগ্য কিছু গান হলঃ
‘এই নীল মণিহার’
‘আমায় ডেকোনা’
‘রীতিনীতি কি জানিনা’
‘মামনিয়া’
‘আগে যদি জানতাম’
‘হৃদয় আমার’
‘সুমনা’ ও
‘তোমার স্বাক্ষর আঁকা’

বাংলা সঙ্গীতের ইতিহাসের সাথে লাকী আখন্দ নামটা বেশ ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। সুরকার, গায়ক, সঙ্গীতপরিচালক সবক্ষেত্রেই তিনি সব্যসাচীর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। সঙ্গীতের বরপুত্র হিসেবে খ্যাত, অনুজ হ্যাপি আখন্দের সাথে সঙ্গীতের ভুবন ভাগাভাগি করে চলা শুরু করলেও ১৯৮৭ সালে ছোট ভাই হ্যাপি আখন্দের মৃত্যুতে সঙ্গীতাঙ্গন থেকে অনেকটাই স্বেচ্ছায় নির্বাসনে যান এই শিল্পী। প্রায় এক দশক পরে সঙ্গীতের টানে তিনি আবার ফিরে আসেন এই ভুবনে।

এছাড়াও তাঁর সুর ও সঙ্গীতায়োজনে জনপ্রিয় কিছু গান হলঃ
‘যেখানে সীমান্ত তোমার’
শিল্পীঃ কুমার বিশ্বজিৎ

‘কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে’
শিল্পীঃ সামিনা চৌধুরী

‘আবার এলো যে সন্ধ্যা’
শিল্পীঃ হ্যাপী আখন্দ

‘কে বাঁশি বাজায়রে’
শিল্পীঃ হ্যাপী আখন্দ

‘স্বাধীনতা তোমাকে নিয়ে’
শিল্পীঃ হ্যাপী আখন্দ ও লাকী আখন্দ

‘নীল নীল শাড়ী পড়ে’
শিল্পীঃ লাকী আখন্দ

‘পাহাড়ি ঝর্ণা’
শিল্পীঃ লাকী আখন্দ ও হ্যাপী আখন্দ

‘হঠাৎ করে বাংলাদেশ’
শিল্পীঃ লাকী আখন্দ

এইসব গান ছাড়াও আরো অনেক শিল্পীর জনপ্রিয় গানে তিনি সুর ও সঙ্গীতায়োজন করেন।

সঙ্গীতের রাজপুত্র লাকী আখন্দের মেধা ও গুণের কদর আমাদের বুঝতে সময় লাগলেও পাশের দেশ ভারতের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী অঞ্জন দত্তের বুঝতে মোটেও সময় লাগেনি। আর তাই, তিনি তাঁর সপ্তম অ্যালবাম “হ্যালো বাংলাদেশ, প্রকাশঃ ১৯৯৯” এ লাকী আখন্দকে নিয়ে গান রচনা করেন।

“দু’জনে থাকে দুটো দেশে
দুজনেই গান বেচে খায়
গানে গানে কোন এক মঞ্চে
হঠাৎ দেখা হয়ে যায়
একজন বাজায় গীটার
আরেকজন কীবোর্ডস
একজন গান গেয়ে চলে
আরেকজন দেয় সঙ্গ
মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় গান
সেদিনের সেই জলসায়
একাকার হয়ে যায় ঠিকানা
কলকাতা কিংবা ঢাকায় . . .”

আজ লাকী আখন্দ ক্যানসারের সাথে লড়ে যাচ্ছেন। সঙ্গীতের রাজপুত্রখ্যাত লাকী আখন্দের আজ অর্থ সহযোগিতার প্রয়োজন। তিনি আজ হাত পেতেছেন তাঁর ভক্তকুলের কাছে। যে লাকী আখন্দের সুর ও সঙ্গীতায়োজনে গান গেয়েছেন হ্যাপী আখন্দ, কুমার বিশ্বজিৎ, সামিনা চৌধুরী ও নগর বাউল জেমস সহ দেশের অনেক বড় বড় তারকা, সেই লাকী আখন্দ আজ অসহায়……

আসুন আমরা সবাই মিলে তাঁর পাশে দাঁড়ায়।

লাকী আখন্দের পাশে দাঁড়াতে হলে:
লাকী আখন্দ
ব্যাংকক ব্যাংক, থাইল্যান্ড
একাউন্ট নাম্বার: ১১৩.৪.৯১৮৬৮.৭
উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড
একাউন্ট নাম্বার: এস বি ১৪৭৬
ডাচ বাংলা ব্যাংক
একাউন্ট নাম্বার: ১৬২.১০১.১৩৭৩৫৯

পরিশেষে, ফেরারী পাখিদের কুলায় ফিরিয়ে আনতে না পারলেও লাকী আখন্দকে ফিরিয়ে আনার জন্যে সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

কৃতজ্ঞতাঃ কবি ও কাব্য , সামহোয়্যার ইন ব্লগ
তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া, ইন্টারনেট ও শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন ঘটনা।