ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

বর্তমান বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে অথবা ছোট-বড় পরিসরে বিপুল পরিমাণ দুর্নীতি, অন্যায়, অপরাধ, বিচারহীনতা ও বৈষম্যপূর্ণ পরিস্থিতি প্রায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। ফলে বড় বড় কুকর্ম-অপকর্ম করে পার পেয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে। এই এক সমস্যাই অসংখ্য অপরাধের মাত্রাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

অথচ সামাজিক কিংবা জাতীয় কোনো পর্যায়েই এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কারও কোনো শক্ত পরিণাম নির্ভর অবস্থান অথবা সামষ্টিক প্রতিকারের কোনো আবেদন-নিবেদন পর্যন্ত নেই। কারণ আমরা এখন পা থেকে মাথা অবধি প্রায় সর্বংসহা জাতিতে পরিণত হয়ে গেছি যা আমাদের সম্মিলিত ধ্বংসেরই  নমুনা। তবে সুখের বিষয় হলো, এই অবস্থার মধ্যেও লক্ষ্য করলে দেখা যাচ্ছে অমুক দাতব্য প্রতিষ্ঠান কিংবা তমুক অরাজনৈতিক সংস্থা অথবা কোনো অলাভজনক বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান পথশিশু ও সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জন্য সুস্থ্য শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে এদের অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন করে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার চেষ্ঠা করছে।

নি:সন্দেহে এটি একটি মহৎ উদ্যোগ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বর্তমান অপ্রতিরোধ্য দুর্বার উন্নয়নমুখীসূচকে এসব অবহেলিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উচ্চশিক্ষিত হয়ে কী করবে? ওদেরকে যোগ্যতা কিংবা মেধার ভিত্তিতে কে মানসম্মত চাকরি দেবে?

যেখানে এখন বাংলাদেশের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে সামান্য ‘হেলপার’ পদের জন্য  ২০০০ থেকে ৫০০০ টাকা ঘুষ দেয়া লাগে, সেখানে এই অবস্থায় কে বা কারা এই উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিদের জন্য ভরণ-পোষণের নূন্যতম সম্মানজনক জীবন-যাপনের সমান্তরাল কর্মের যোগান দেবে?

যেহেতু তিনি জন্ম থেকেই দরিদ্ররেখা বরাবর সহাবস্থান করছেন সেহেতু তিনি কখনোই হাজার হাজার টাকা খরচ করে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন বগলদাবা করতে পারবেন না, চাকরির বিনিময়ে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিতে পারবেন না কিংবা যখন এই ‘অযথাই শিক্ষিত’ সত্ত্বাটি গরীবি হালচালের কারণে চেষ্টা এবং অদম্য ইচ্ছা-চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় চাকরির পজিশন অর্জন করতে পারবে না তখন এই উচ্চশিক্ষাই হয়তো হয়ে উঠবে তার অকাল মৃত্যুর নিষিদ্ধ সোপান।

অতএব,  এসব মহান উদ্যোগী প্রতিষ্ঠানগুলো বরাবর আমার নিবেদন হলো, আপনারা সমাজের সীমারেখায় পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষার সুবর্ণ সুযোগ তৈরির পাশাপাশি আধুনিক জীবনমুখী শিক্ষায় অত্যন্ত দক্ষ করে গড়ে ওঠার মত প্ল্যাটফর্মও তৈরি করে দিন। তাতে নিশ্চিতভাবে মহতি কোনো প্রতিষ্ঠানিক  স্বীকৃতি  অর্জিত না হলেও কিছু প্রাণ অকাল মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষা পাবে। এছাড়া এসব ছিন্নমূল মানুষগুলো বিভিন্ন কর্মে দক্ষতা অর্জন করার ফলে অন্ততপক্ষে চোর, ছিনতাইকারী অথবা নির্লজ্জ তৈলতাত্ত্বিকে পরিণত হবেনা।