ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

প্রিয় নীলা,

এটা না কোনো প্রেমপত্র, আর না কোনো আদেশ। এটা আমার নিজের জন্য নিজেরই নসিহত বলতে পারো। দুনিয়ার জিন্দিগী অনেক ছোট আর তার ধোঁকা অনেক বড়। বড় তার চাক-চিক্কের দিকগুলো, যা কিনা ধোঁকার অস্ত্র বা ফাঁদ হিসাবে সে ব্যবহার করে থাকে! আজ মানুষ যে স্বপ্ন সাজায় দুনিয়ার জন্য তা নিছকই একটা ঘোর। কারণ, চাওয়া পুরাপুরি কখনই পূরণ হবেনা কবরের মাটি ছাড়া। তাই মানুষ যা চায় তা পেলেই সে পূর্ণ সুখী, এমনটা ভাবা ভুল।

পক্ষান্তরে যে আখিরাতকে লক্ষ্য বস্তু বানায়, দুনিয়া হাতজোড় করে তার পায়ের কাছে আসে, ধরা দেয়। আমি একথা বলছি না যে, দুনিয়ার বড় বড় চাওয়া তার পূরণ হয়। আমি একথা বলছি যে, সে প্রকৃত দিলের সুখ লাভ করে, যা বাকিরা বুঝতে পারেনা। আর দিলের সুখই প্রকৃত সুখ। পক্ষান্তরে, দুনিয়ার পোস্ট পজিসন আর ডিগ্রী হলো চোখের সুখ, যা অন্যেরা দেখে আর আফসোস করে যে কেন অমন হতে পারলাম না! কিন্তু, যার মত হতে চাচ্ছে সেই জানে সুখ তার কত অচেনা!

আর দ্বীনের মেহনত ছাড়া এগুলো অন্তরে বসবেই না, এমন কি মেহনতের অভাব হলেই তা দিল হতে বেড় হয়ে যায়। কালো চশমায় সাদা জিনিসও কালো দেখায়, আর চশমা পড়ে চোখ যতই ভালো থাক, কালো কে সাদা বললেও মন তা সায় দিবেনা। কারণ, সে দেখতেছে কালো। তাই চশমা খুলে দেখলে সব পরিষ্কার, মনও মানবে। দ্বীনের মেহনত করেই কেবল দুনিয়ার নামের ধোঁকার চশমা খোলা সম্ভব। নতুবা, মুখে যতই বলি, দিল তা মানবেনা। মন তো বলে অমুক অমুক বড়ই কামিয়াব হয়ে গেছে, অমুক পোস্টে আছে, অমুক দেশে গেছে। অথচ এক ওয়াক্ত নামাজ কাজা (মাইন্ড ইট, ত্যাগ না) করলেই এক হুক্বা জাহান্নামে জ্বলতে হবে! আর বাদ দিলে ৮০ গুণ বেশি। এখন দেখো, ঐ সব অর্জন তাদের কত বড় বড় ক্ষতির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে, কিন্তু তার জন্য কোনো অনুশোচনাই নাই। তাহলে, কিভাবে তারা স্বার্থক হলো? ওটা হলো নজরের ধোঁকা।

শেষ কথা হলো তাবারানী শরীফের এই হাদিসখানা: “আল্লাহ যার সাথে কল্যাণের ওয়াদা করেন, তাকে দ্বীনের বুঝ দান করেন এবং হক কথা বলার তাউফিক দেন।”

তাই, কাউকে কিংবা কারো দুনিয়াবী পজিসন দেখে হতাশ হওয়া চাইনা। দুনিয়া সর্বদাই হাত ছাড়া হবার আসবাব। দোআ চাই, দুই জগতের কল্যাণের দোআ। আল্লাহ আমাদের সবাই কে দ্বীনের সহিহ বুঝ দান করুন। আমীন।