ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

সকালে কলেজের গেটে একজন বেল বিক্রেতা ডালিতে কিছু বেল নিয়ে বসেছেন। আমি আর এক সহকর্মী যাচ্ছিলাম, উনি বললেন যে, চলেন বেল কিনি। আমি বেল চেনায় তেমন পারদর্শী নই, তবুও গ্রামের ছেলে জন্য হয়তো কিছুটা! উনি দেখতে ভালো এমন একটা বেল নিয়ে বললেন, এইটা ভালো হবে। বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করলাম, কেমন হবে? তিনি ব্যবসায়িক উত্তর দিলেন, তার সব বেলই ভালো।আমি নাকের কাছে নিয়ে শুঁকে দেখলাম যে, তেমন সুঘ্রাণ নেই। এরপর সেটা রেখে অন্য একটা নিলাম (বেশ ঘ্রাণ ছিল)। দু’জন মিলে চেম্বারে ফিরে ভেঙ্গে খেয়ে দেখি খুব সুন্দর বেল (ঘ্রাণ ও স্বাদে)।

তো বেশ ভালো লাগলো তাই আজ অনেকেই কিনলেন সহকর্মীদের। আর বাছাই করে দেয়ার দায়িত্বটা ছিল আমারই! তখনও খেলাম, পরেও খোঁজ নিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, বেশ ভালো ছিল বেলগুলো। নিজের কাছেও ভালো লাগলো, কারণ বেছে দিয়েছি, খারাপ হলে কষ্টই লাগতো।

পরে সহকর্মীকে একটা ফর্মুলাও দিলাম যে, বাইরে দেখে বেল কেনাটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কারণ, বাইরে ভালো হলেও ভেতরে খারাপ হলেই সেটা খারাপ। কিন্তু বাইরে যাইহোক, ভেতরটা ভালো হলেই তো ভালো। আর এ জন্য আপনাকে বেল শুঁকে দেখতে হবে। কারণ, ভেতরে নষ্ট হলে সেটা আপনাকে সুঘ্রাণ দিবেনা। উনি মাথা নাড়লেন আর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করলেন, বেল কেনার পদ্ধতিটা শিখে।

আমার ভেতরেও একটা ভাবনা বয়ে গেলো। আসলেই তো, ভেতরের সৌন্দর্যটাই আসল। বাইরের চাকচিক্য তো মেকি একটা বিষয়, যদি ভেতরটা নষ্ট হয়। এটা প্রায় সব বিষয়ের বেলায়ই সত্যি। আর মহাসত্যি হলো মানুষের জন্য। ভেতরটা নষ্ট যার, তার চেয়ে নিকৃষ্ট আর কে আছে! সে অন্যের জন্য তো বটেই, নিজের জন্যও ক্ষতিকর। তার অন্তরের সুখ থাকেনা, আর পরপারের জিন্দিগিতে তো ওই ভেতরের উপরই ফায়সালা হবে।

আহা, বেলের মতো যদি মানুষের মনটা শুঁকে ভালোমন্দ নিরূপণ করা যেত!