ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

সেই কবে পড়েছিলাম Newspaper  is ‍a store  house of knowledge আজও ভুলিনি কারণ, এমন একটা বাক্য সহজেই ভুলা কারও পক্ষে খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।যেটা জ্ঞানের ভাণ্ডার সেটা ভুলা বা অস্বীকার করা কারও বুকের পাটা আছে কি? কিন্তু কালের বিবর্তনে আজ সেটা ভুলে যেতে বসেছি।আজ যেন এই বাক্যটির সাথে,এই সময়ের গণমাধ্যমের মিল আছে কি? সেটা অনুধাবন করা খুব কঠিন কাজ বলে আমার মনে হয়। যেন এই একটি বাক্য আজ পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে।সেটি একটি নয় দুটোতে একটা হলো Newspaper is a store house of politics অপরটি হলো Newspaper is a store house of entertainment. গণমাধ্যম আজ সেই সাধারণ মানুষের কন্ঠ ভুলে যেতে বসেছে, তাই পাতিনেতার যুক্তিহীন কথায় গণমাধ্যম আজ ভরপুর।পাতিনেতার রাজনীতির চেয়ে, গণমাধ্যম তার খুব প্রিয় কারণ সারাদিন শেষে টিভিতে বদন খানি দেখা গেলে কার না ভাল লাগে। কিছু টিভি চ্যানেল এর খবর যেন রাজনীতি ও রাজধানী কেন্দ্রীক।পাতি নেতার যুক্তিহীন কথায় যেমন নিজে গরম হয়,তেমন দল গরম হয়,তেমন দেশ গরম হয়।ফলাফল মিডিয়া তার পিছনে ছুটে চলে বিদ্যুৎ বেগে জানিনা এটার কোন সুরাহ হবে কি না, সেটা হয়ত সবারই অজানা। সংবাদপত্র,সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা একটি রাষ্টের চরম সম্পদ বলে সবাই মনে করে। কারণ এই তিনটি ছাড়া কোন জাতি তার চলার পথ সহজ করতে পারে বলে আমার মনে হয় না ।কিন্তু কি দেখি আমরা ব্যাঙের ছাতার মতো আজ ছেয়ে গেছে অনলাইন পত্রিকা, সেখানে খবর ছাপা হয় যৌনতা,খেলা আর রাজনীতি,কারণ পত্রিকার কাটতি দারুন ভাবে বেড়ে চলে।কিন্তু সেটা কি সাংবাদিকতার স্বাধীনতা? সাংবাদিকতার মূলনীতি? সেটা আমাদের মনে প্রশ্ন থেকে যায় অনাবরত। গণমাধ্যম যেন আজ রাজনীতির হাতিয়ার যার পক্ষে গণমাধ্যম সরব আছে তার রাজনীতির সুবিধা বেশি।যার বদন খানি যত বেশি দেখা যাবে সে ততবেশি দামি ব্যক্তি।আজ তরুণ প্রজন্ম সময়ের সাথে গণমাধ্যম এ চোখ রাখে কিন্তু গণমাধ্যম কি ভূমিকা রাখে? কয়টি গণমাধ্যম বিজ্ঞানের কথা লেখে,কয়টি গণমাধ্যম ভাল প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেটা একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের কাজে লাগে,কয়টি গণমাধ্যম শিল্পকলার খবর লেখে সেটা প্রশ্ন করে উত্তর পাওয়া অনেক সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে বলে হলপ করে বলা যায়।

সংবাদপত্র সমাজের আয়না, সাংবাদিকরা সমাজের শিক্ষক, যাদের মাধ্যমে  দেশকে জানতে পারি ,সমাজকে জানতে পরি ,মানবতা শিখতে পারি আরও অনেক কিছু নয় কি? এর রকম দায়িত্ব যাদের উপর আছে,তাদের সবসময় নিজেকে প্রশ্ন করা দায়িত্ব পড়ে নয় কি? সাংবাদিক বিহীন সাংবাদপত্র চলে না,সংবাদপত্র বিহীন দেশ চলে না।তাইতো বলতে শোনা যায় সরকার বিহীন দেশ চলে কিন্তু সংবাদপত্রহীন দেশ চলা সম্ভব নয়। তাই সংবাদপত্রের জন্ম যত সহজ কিন্তু বেঁচে থাকা অনেক কঠিন।আজ বাংলাদেশের গণমাধ্যম গুলো রাজনীতির লেজ ধরে বসে আছে কিন্তু কেন? সেটা কি রাজনীতিকে আরও উসকে দেয়না? গণমাধ্যমে কেন সব রাজনৈতিক নেতার কথা আসবে, কেন সবার কথা প্রধান্য পাবে ? আমরা জাতি হিসাবে অনেক নীচু মনের সেটা বিজ্ঞ লোকেরা বলে থাকে এজন্য বিজ্ঞান,সাহিত্য,শিল্পকলার কথার চেয়ে রাজনীতির কথা শুনতে পছন্দ করি আর সেটা গণমাধ্যম গুলো আমাদের সামনে হাজির করে। বাংলাদেশের যেখানে শতকরা ৮০% মানুষ কৃষির সাথে জড়িত সেখানে  কৃষির সংবাদ একেবারে প্রধান্য পায় না বলে আমরা জানি।কৃষক এর কণ্ঠ  আজ সংবাদপত্রে স্থান পায় না,তাদের চাওয়া,পাওয়া জনগন জানতে পারে না। সেটি কি গণমাধ্যমের লক্ষ্য রাখা দরকার নয় কি? সেটা হয়ত একেবারে উত্তর বিহীন প্রশ্ন থেকে যাবে বলে আমার ছোট মাথায় অনুধাবন করে।আজ কিছু সংবাদপত্র যৌনতা বিষয়ক খবর প্রকাশ করে অলাইন এ যাতে পাঠক তাদের পেজ ভিজিট করে এটা একটা সংবাদপত্রের নীতি হতে পারে না। সেটা হয়তবা একটা শিশুও উত্তর দিতে পারবে। আজ তরুণ সমাজ সময়ের সাথে সাথে বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির খবর পাওয়ার জন্য তাদের কে প্রস্তুত রাখে কিন্তু সেখানে খেলা,শোবিজ,রাজনীতিতে ভরপুর।টিভি অন করলেই কিছু উপস্হাপক বাংলা না ইংলিশ বলে সেটা অনেকক্ষণ পরে ধরা যাবে।মনে হয় বাংলা আর ইংলিশ মিলে পৃথিবীতে তৃতীয় ভাষার জন্ম খুব নিকটে।

রাজনীতিকে উসকে দেওয়ার জন্য টিভি চ্যানেল গুলো দারুন ভূমিকা রাখে যেন একে অপরকে উত্তর দেওয়ার উত্তরপত্র।রাজনৈতিক নেতারা টিভি চ্যানেল এর মাধ্যমে একে অপর কে উত্তর দিয়ে থাকে। প্রত্যেক গণমাধ্যম গুলোর অনলাইল শাখা আছে এবং তার সাথে আছে সামাজিক যোগাযোগ সাইট সেখানে যৌনতা ও ভিত্তিহীন সংবাদ শেয়ার করা হয় তাদের কাটতি বাড়ানোর জন্য কিন্তু সেটা প্রসার খুব দ্রত হলেও স্থায়ীত্ব একেবারে শূন্য বলে আমরা জানি।আমরা জানি বাংলাদেশের  সাংবাদিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা একেবারে কম,এবং নিউজ রুমে গেলে সেটা হয়ত কাঁটছাট হয়ে যায় সেটা আমরা অনেকেই জানি।

অনলাইন পত্রিকার অবস্থা আরও খারাপ।বাংলাদেশের কয়েকটি অনলাইন পত্রিকা বাদে সবগুলো পত্রিকা কুম্ভিলক এর মত আচরণ করে এবং অযৌক্তিক খবর পরিবেশন করে।

সবশেষে বলতে পারি সংবাদপত্র হোক বিজ্ঞান,শিল্পকলায় সমৃদ্ধ।পরিবর্তন হোক ‍যুবসমাজ,পরিবর্তন হোক সমাজের,পরিবর্তন হোক রাষ্টের। প্রগতিশীলতার আর্বিভাব হোক, সমাজ হোক শান্তিময়।

লেখকের ফেসবুক পেজ https://www.facebook.com/biplob.mallik