ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

জীবন এক যুদ্ধক্ষেত্র। পাওয়া ও না পাওয়ার গল্প নিয়ে শেষ হতে যাচ্ছে এই বছর, আসছে নতুন বছর। মানব জীবনটা যেনো এক অদ্ভুদ পরীক্ষার ক্ষেত্র যেখানে প্রতিনিয়ত মানুষকে তার প্রমাণ দিতে হয়। কখনও পরিবারের কাছে, কখনও নিজের কাছে, কখনও সৃষ্টিকর্তার কাছে, কখনও প্রেমিক-প্রেমিকার কাছে। মানুষের ব্যক্তি জীবনে চাওয়ার পাশাপাশি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনেও চাওয়ার অনেক বিষয় থাকে। কারণ রাষ্ট্র ও ব্যক্তি জীবনের রয়েছে যোগসূত্র।তবে চাওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে তরুণদের বেশি থাকে।পড়াশোনার পরই আপন গতিতে চলে আসে বেকারত্ব।তাই বেকারত্ব ঘুচাতে তরুণদের চলতে হয় বিদ্যুতের মতো।এবং বিভিন্ন মানদণ্ডে মাপতে হয় নিজেদের।মানদন্ডে জয়ী হলে সফলতার সূর্য অন্যদিকে বিফল হলে অন্ধকার।এবং সাথে সাথে জীবনের আকাশ হয়ে ওঠে মেঘাচ্ছন্ন। তরুণদের জন্য বর্তমান সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁস। তবে চলে যাওয়া ২০১৭ সাল মানুষের মনে বেশ দাগ দিয়ে গেছে ”প্রশ্ন ফাঁসের বছর” হিসাবে।

অন্যান্য বছর হরতাল, হত্যা, পেট্রোল বোমায় মানুষের জীবন নিরাপত্তাহীনতার জালে আবদ্ধ থাকলেও এ বছরটা ”প্রশ্ন ফাঁসের বছর” বললে মোটেও অপরাধ হবে না বলে মনে করি। এ বছরটি ”প্রশ্ন ফাঁসের বছর” হিসাবে স্বগৌরবে অবস্থান করে নিয়েছে বলে মনে করা মোটেও অনুুউচিৎ হবে না। গ্রামের ৬০ বছরের বৃদ্ধরা যারা কখনও ইন্টারনেট ও ফেসবুকের নামই শোনেনি বা ফেসবুক কি,ফেসবুকের রং কেমন জানে না তারাও চলতি পথে জিজ্ঞাসা করে ফেসবুকে নাকি পরীক্ষার প্রশ্ন পাওয়া যায়। হয়ত তার পরিবারের অতি আদরের কোন অধিকতর জুনিয়র পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে বলে তার এই অনুসন্ধান।

Cartoon-Education-Minister

সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম

বছরটি আমাদের হৃদয়ে ’প্রশ্ন ফাঁসের বছর’ হিসাবে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে থাকবে।সামনের অন্য কোন বছরের জন্য মানদণ্ড হিসাবে লিপিবব্ধ হয়ে থাকবে। তবে গণমাধ্যম অনেক ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করি এমন একটি বছরকে তাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে লিপিবদ্ধ করার জন্য। গণমাধ্যম তার ভূমিকা পালন করলেও রাজনৈতিক কথা চলাচালি বরাবরই নদীর স্রোতের মতো।

তবে আমরা জানি প্রশ্ন ফাঁস গ্রামের কোন দিনমজুর বা কৃষক করে না। করে না কোন নিম্নব্ত্তি মানুষ। করে তারা যাদের ঝুলিতে আছে বড় বড় ডিগ্রি অথবা যারা ডিগ্রি নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।সুতরাং বলা চলে গ্রামের একজন কৃষক ও দিনমজুর তাহলে নিশ্চয় এই মুখোশ পরা মানুষদের চেয়ে অনেক সম্মানী ও গুরুত্বপূর্ণ।যখন একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত থাকে তখন লজ্জায় আমাদের মাথা নিচু হয়।যখন একজন শিক্ষক জড়িত থাকে তখন আমরা আহত হই। আমরা স্থির হয়ে যাই যে যিনি আমাকে শিক্ষা দিচ্ছেন তিনি প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত! শিক্ষকতার পেশাটা অনেক সম্মানীয়। তাই যারা নিজেদের মনে করেন এই পেশার সাথে আপনার বসবাস যায় না তাদের আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার এই পেশায় আসবো কিনা। মানুষ কর্মজীবনে যত বড়ই হোক না কেন শিক্ষকের জন্য তার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকে নিজের এক অন্য রকম জায়গায়। প্রশ্ন ফাঁসকারী একজন শিক্ষক হাজার হাজার ছাত্রের কাছে এক গভীর কালিমা।তাই আপনারা যারা শিক্ষক নিশ্চয় সবসময় মনে করা দরকার আমি কে এবং আমার কাজ কী?

08_Anti+Corruption+Human+Chain_Nahid_Md+Pramanik_100317_0028

আমরা সবাই জানি বাবা-মার পরেই তারা আমাদের অভিভাবক। তাদের শাসন ও ভালোবাসা আমাদের মানুষের মতো মানুষ হতে সাহায্য করে। ভাবতে খুবই অবাক লাগে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র যখন প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত থাকে। তারা নিশ্চয় জানে কত পরিশ্রম করে একজন ছাত্র ভর্তি পরীক্ষায় নিজের স্থান করে। দিন রাত পরিশ্রম করে তারপর একটি সিট তাকে পেতে হয়। এটা যদি ওই ছাত্র না বোঝে তাহলে আমরা সহজে ধরে নিতে পারি ওই ছাত্র বিনা পরিশ্রমে এসেছে। নিশ্চয়ই কোন অন্ধকারে কেউ টাকার বিনিময়ে উত্তর গিলিয়ে পরীক্ষায় পাঠিয়েছে। যেভাবে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে তাতে একজন শিক্ষক যখন ক্লাস রুমে প্রবেশ করবে। তখন তার অবচেতন মন হয়ত ধারণা করতে পারে আমার সামনে হয়ত অনেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে এই ক্লাস রুমে প্রবেশ করেছে।এই সন্দেহের ঔষধ পৃথিবীর কোথাও নেই।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি পাঁচ হাজার আসন থাকে সেখানে যদি প্রতি বছর এক হাজার প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে ভর্তি হয় তাহলে চার বছরে সেখানে চার হাজার অযোগ্য ছাত্র অবস্থান করে। এছাড়াও রয়েছে মাস্টার্স এর ছাত্ররা। তাহলে আমরা নিশ্চয়ই বলতে পারি সেই প্রতিষ্ঠান কাদের দখলে থাকবে এবং সেখানে মেধাবী ছাত্রদের টিকে থাকা কত কঠিন হবে। গ্রামের অনেক দরিদ্র ঘরের সন্তান যারা হয়ত মেধার জোরে সামনের দিকে আসতে চায় কারণ তাদের মামা খালু নেই। কিন্ত প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার কারণে তাদের সেই আশা যেন নিরাশায় পরিণত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

অন্যদিকে যে অভিভাবকরা তার সন্তানের পরীক্ষার জন্য ফাঁস হওয়ার প্রশ্ন খোঁজে নিশ্চয় তারা বড় ধরনের চোর নিশ্চিত বলা যায়।এজন্য হয়ত গুনীজনরা বলে সেই শিক্ষা নিশ্চয় একদিন সেই অবিভাবকদের আঘাত দিবে যারা ফাঁস হওয়া প্রশ্নের জন্য হন্যে হয়ে সারারাত জাগে।তাই এই নতুন বছরে এই দেশ অর্থনীতি, রাজনীতি, প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে যাক সেটা চাওয়ার আগে আমি চাই প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া বন্ধ হোক।

শুভ কামনায় আমি বিপ্লব মল্লিক।সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা।