ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

ধরুন আপনি কিছু বই পড়তে চাচ্ছেন। কোনভাবে সেই বইগুলো আপনার কাছে পৌঁছে গেল। কেমন হয় ব্যাপারটা?
সবার কাছে বই পৌঁছে যাক নিখরচায়-বিনা বাঁধায়, বইয়ের আলো ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে, এরকম একটা উদ্দেশ্য নিয়ে এ বছরের শুরুতে দেশের এবং বিদেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছেলেমেয়ের উদ্যোগে যাত্রা শুরু করে স্বপ্নচারী। গত একটা বছরে আমরা ৪০০ র মত বই কিনেছি এবং সংগ্রহ করেছি। আমরা জানি সংখ্যাটা খুবই নগণ্য। তাই প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি বইয়ের সংখ্যা বাড়াতে। জনপ্রিয় বইগুলোর পাশাপাশি ভাল মানের ব্যতিক্রমী বইও যোগাড় করতে চাই আমরা এবং সবশেষে চাই সবাই বই নিয়ে পড়ুন।

কিভাবে বই নিবেন এবং ফেরত দিবেনঃ
আমাদের সংগ্রহের বইগুলো সম্পর্কে ওয়েবসাইটে জানতে পারবেন। যে বইগুলো পড়তে চান (সর্বোচ্চ ৫ টি) তার নাম ওয়েবসাইটের ‘অনলাইন বই বুকিং’ পেজে জানান। আমরা চেষ্টা করব খুব দ্রুত আপনার ঠিকানায় কুরিয়ারের মাধ্যমে বইগুলো পৌঁছে দিতে। বইগুলো পড়া হয়ে গেলে আপনি যে কোন কুরিয়ারের মাধ্যমে স্বপ্নচারীর ঠিকানায় বইগুলো ফেরত পাঠাতে পারেন। তবে স্বপ্নচারী-কন্টিনেন্টাল কুরিয়ারের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় আপনি খুব কম খরচে কন্টিনেন্টাল কুরিয়ারের মাধ্যমেও বই ফেরত পাঠাতে পারেন। বই ফেরত পাঠানোর আগে আপনাকে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে। পুরানো বই ফেরত দিয়ে আপনি আবার নতুন বই নিতে পারবেন। স্বপ্নচারীর সংগ্রহে নেই এমন কোন বই পড়তে চাইলে আমাদেরকে জানালে আমরা বইটি কেনার চেষ্টা করব।

খরচ এবং কিছু হিসাবঃ

এই পুরো প্রক্রিয়ায় আপনাকে শুধু কুরিয়ার সার্ভিসের চার্জটুকু দিতে হবে। আর একারণে পাঠকের সুবিধার জন্য কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সার্ভিসের সাথে স্বপ্নচারীর একটি চুক্তি হয়েছে যেন পাঠকের কাছ থেকে ন্যূনতম চার্জ রাখা হয়। ধরুন, আপনি ৫টি বই নিতে চান এবং এজন্য আপনার কাছে বই পাঠানো এবং ফেরত আনা বাবাদ ২০+২০=৪০ টাকা খরচ হল। আপনি যদি ৫ জনের একটা পাঠকচক্র গড়ে তুলতে পারেন তাহলে প্রতিটি বইয়ের জন্য আপনার খরচ হবে মাত্র ১ টাকা ৬০ পয়সা।

তবে যেহেতু স্বপ্নচারীর লাইব্রেরি এলিফ্যান্ট রোডের একজন সদস্যের বাসায় এবং স্বপ্নচারীর কয়েকজন সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, আপনি চাইলে এসব জায়গা থেকে সরাসরি বই নিতে পারেন।

স্বপ্নচারীর আরও কিছু কাজঃ
১ ফরিদপুরের প্রত্যন্ত একটা গ্রামে স্কুলভিত্তিক একটি লাইব্রেরি গড়ে দিচ্ছে স্বপ্নচারী। ইতিমধ্যে সব বই কেনা শেষ এবং নতুন বছরের শুরুতেই বইগুলো পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
২ শেরপুরের একটি গ্রামে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা একটি লাইব্রেরিতে প্রায় প্রতি মাসেই নতুন বই পাঠানো হচ্ছে। বইগুলো পড়া হয়ে গেলে ফেরত আসার পর আবার নতুন বই পাঠানো হওয় যেন ছেলেমেয়েরা সব সময় নতুন বইয়ের স্বাদ পায়।
৩ ঢাকায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের একটি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থীর জন্য একটি করে বই দেওয়া হয়েছে স্বপ্নচারীর পক্ষ থেকে।
৪ এছাড়া ৬ জন দরিদ্র এবং মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য আগামী ১ বছর শিক্ষা সহায়তা বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। (তথাকথিত মেধাবী নয়, আমরা এমন কিছু ছেলেমেয়ে নির্বাচন করছি যারা শত প্রতিকূলতার মাঝেও নিজেদের স্বপ্ন বিসর্জন দেয় নি বরং নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর কিছুটা হলেও রেখেছে)

আপনি কিভাবে স্বপ্নচারীর পাশে দাঁড়াতে পারেনঃ
আমরা সবচেয়ে বেশি খুশি হব যদি আপনি সরাসরি বই নিয়ে পড়েন। তাহলেই না আমাদের কষ্ট সার্থক হবে। এছাড়া আপনার ভাল লাগা কোন বইয়ের নাম আপনি recommend করতে পারেন যেন স্বপ্নচারীর সংগ্রহে বইটি রাখা হয় এবং অন্য পাঠকরা পড়তে পারেন। আপনি যদি বই নাও পড়তে চান তাহলে আপনার আশে পাশে বই পড়ে বিশেষ করে স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের যাদের বই কেনার সামর্থ্য কম তাদেরকে স্বপ্নচারীর কথা বলতে পারেন। আপনার এলাকায় বা গ্রামে আপনার নিয়মিত যাতায়াত থাকলে সেখানকার স্থানীয় লাইব্রেরির সাথে স্বপ্নচারীকে সম্পৃক্ত করতে পারেন যেন লাইব্রেরির পাঠকরা নিয়মিত নতুন বইয়ের স্বাদ পান। এছাড়া আপনার পুরানো ধূলি ধূসরিত কোন বই যা হয়ত আর পড়া হবে না, এরকম কোন বই আপনি স্বপ্নচারীতে দিতে পারেন বা চাইলে বিক্রিও করতে পারেন। আর সবশেষে যে কোন তথ্য বা পরামর্শ দিয়ে অবশ্যই স্বপ্নচারীকে সাহায্য করতে পারেন।

কি লাভ আমাদেরঃ

অনেকের মনেই এই প্রশ্নটা আসতে পারে নিজেদের অর্থ সময় নষ্ট করে এরকম করে সবাইকে বই বিলিয়ে কী লাভ আমাদের? তাদের প্রতি আমার প্রশ্নঃ জগতের সব কিছুই কি লাভ ক্ষতি দ্বারা নির্ধারিত হয়? তারপরেও বলব কিছু লাভ আছেঃ গ্রামের একটা স্কুলের ছেলেমেয়েদের লাইব্রেরি গড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা বলার পর তাদের যে উচ্ছল আনন্দ, ছোট ছোট ছেলেমেয়ে যাদের বই কেনার তেমন সামর্থ্য নেই তাদেরকে বই কিনে দেওয়ার পর যে উচ্ছাস কিংবা হয়ত স্বপ্নচারীর কাছ থেকে নেওয়া কোন বই পড়ার সময় আপনার মুখের এক চিলতে হাসি এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু হয় বলুন? এগুলোই যে আমাদের বেঁচে থাকার অনেক বড় উপকরণ। তাছাড়া আমার ব্যক্তি অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয় যে মানুষটা অনেক বই পড়ে সে আর যাই হোক একটা পশু হতে পারেনা। আমাদের চারপাশে মাঝে মাঝেই কেমন যেন পশুর অস্তিত্ব টের পাই। বইয়ের কল্যাণে কিছু পশু বিলীন হয়ে যাক, হোক না তাতে আমাদের কিছু অর্থ আর সময়ের অপচয়……

দেশের বাইরে যারা অবস্থান করছেন তারা ইচ্ছা করলে আমাদের সংগৃহীত ই-বই পড়তে পারবেন একটি মাত্র লিঙ্কের মাধ্যমে। আগ্রহী হলে নিচের নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পারেন।

ফেসবুকে বই এবং স্বপ্নচারীর কার্যক্রম সম্পর্কে আপডেট পেতে হলে নিচের পেজটি visit করতে পারেন।

আর যদি সত্যিকার অর্থেই স্বপ্নচারীর সাথে কাজ করতে চান তাহলে নিচের গ্রুপে যোগ দিতে পারেন।