ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ

 
171311_a70f2

Happy World Toilet Day! Happy ‘’Toiliting’!

‘টয়লেটের প্রতি আমাদের গুরুত্ব, প্রয়োজনিয়তা বা ভালবাসা আমাদের তলপেট কিংবা তার নিম্নাংশে চাপের বর্গের সমানুপাতিক’।

অর্থাৎ তলপেটে চাপ যত বাড়বে টয়লেটের প্রয়োজনিয়তা তত বাড়বে। ওই মুহূর্তে টয়লেট যেন পরম আরাধ্যের কিছু একটা। আর চাপ শূন্য তো প্রয়োজনিয়তাও শূন্য, গুরুত্বও শূন্য। একারণেই হয়ত অফিসে বা মার্কেটে, স্টেশনে বা বিমানবন্দরে, ট্রেনে কিংবা বিমানে পাবলিক টয়লেটগুলো ব্যবহারের পর যাচ্ছেতাই অবস্থা করে অনেকেই বের হয়ে যান। ভাবখানা এমন, ‘আমার কাজ তো আমি সেরেছি, পরেরজন কীভাবে ব্যবহার করবে সেটা নিয়ে আমার মাথাব্যথার কোন কারণ নাই’।

আবার অনেকে আছেন যারা ‘বহে জলবতী ধারা’ গাইতে গাইতে কমোডের আশে পাশে উপরে নিচে চারদিকে জলের ধারা বইয়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কার্য সম্পাদন করে বের হয়ে আসেন বিকার ছাড়া। দেশে কিংবা বিদেশে শিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিত অসংখ্য মানুষ এই বাজে প্র্যাকটিসের সাথে জড়িত। এমনকি বিমানের মত জায়গায় যেখানে মহিলা এবং পুরুষকে একই টয়লেট ব্যবহার করতে হয় সেখানেও এমন কার্য সম্পাদনে তাদের বিবেক কোন বাঁধা দেয় না। ভাবখানা যেন এমন, ‘আমি দাঁড়াইয়া কাজ সারিতে পারিলে তুমি পারিবা না কেন?’

আসেন বিশ্ব টয়লেট দিবসে সবাই টয়লেটের গুরুত্ব বুঝি, নিজে সুন্দরভাবে ব্যবহার করি, অন্যের ব্যবহার উপযোগি রাখি।

এবার টয়লেট নিয়ে আমার বিচিত্র অভিজ্ঞতার কথাঃ
১. রোমে কোন এক ছুটির সকালে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে প্রকৃতি আমাকে এমনভাবে ডাকা শুরু করল যে হন্যে হয়ে টয়লেট খোঁজা শুরু করলাম। যেখানে ছিলাম সেখানেই একটা মেট্রোরেল স্টপেজ। নতুন হয়েছে। একটা অটোমেটেড টয়লেটও খুঁজে পেলাম। ব্যাপারটা এমন, কয়েন ঢুকালে ভেতরে কয়েকবার অটো ফ্ল্যাশ হয়ে টয়লেট পরিষ্কার হবে, দরজা খুলে যাবে, এরপর কাজ শেষ করে বের হয়ে আসার পর আবারো অটো ফ্ল্যাশ হয়ে পরিষ্কার হয়ে যাবে। সব কিছুই ঠিক আছে কিন্তু বিপত্তি বাঁধল কয়েন নিয়ে। ২ ইউরোর কয়েন লাগবে। কিন্তু আমার কাছে ব্যাঙ্ক নোট আছে, কয়েন নেই। মাথার মধ্যে চিন্তার ঝড় বইছে কীভাবে কয়েন পাওয়া যায়। পাশেই দেখলাম একটা ভেন্ডিং মেশিন। ভাবলাম একটা কোক কিনি (সেই মেশিন আবার নোট গ্রহণ করে), চেঞ্জ হিসেবে যে কয়েন বের হবে সেটা দিয়ে টয়লেটে যাব। বিধি বাম। কাছে গিয়ে দেখলাম ভেন্ডিং মেশিন নষ্ট হয়ে আছে। আমার তখন বেগতিক অবস্থা। আশে পাশে কোন দোকান খোলা নেই যে অন্য কোন কিছু কিনে ইউরো ভাঙ্গাব। বেশ দূরে দেখতে পেলাম একটা আইসক্রীম পার্লার। বুঝতে পারলাম, ওখানে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই। এদিকে দৌড়াতেও পারছিনা পাছে এদিক সেদিক কোন কান্ড ঘটে যায়। দাঁতে দাঁতে চেপে আস্তে ধীরে আইসক্রীম পার্লারে গেলাম, কিনলাম এবং মুখে প্রশান্তির ভাব বজায় রেখে এমনভাবে আইসক্রীম খেলাম যেন আহ কী মজার একটা জিনিসই না খাচ্ছি। অথচ ভেতরে তখন ঝড় বইছে। যাই হোক, কোন মতে সেখান থেকে কয়েন যোগাড় করে টয়লেটে গেলাম। বিদেশের বেশির ভাগ জায়গাতেই টয়লেটের পর পানি ব্যবহারের সুযোগ নেই (এজন্য আমাদের বাঙ্গালিদের কত রকম বিকল্প ব্যবস্থা করে যে টয়লেটে যেতে হয়) যাই হোক কর্ম সম্পাদনের সময় দেখি অল্প একটু টিস্যু পেপার বের হয়ে আর বের হয় না। এদিকে হঠাত করে একটা লেখা চোখে পড়ল, একটা নির্দিষ্ট সময় পর টয়লেটের দরজা অটোমেটিক খুলে যাবে, আমার তখন পাগলপ্রায় অবস্থা। অর্ধেক কাজ সেরেই উঠে যাব নাকি টিস্যু পেপার টেনে বের করার চেষ্টা করব না কী করব। যাই হোক, শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল তা না হয় শুধু আমারই জানা থাক।

ইউরোপে বহুল ব্যবহৃত পোর্টেবল টয়লেট 'টই টই'

[ইউরোপে বহুল ব্যবহৃত পোর্টেবল টয়লেট ‘টই টই’]

২. একবার জার্মানির হাইডেলবার্গে গিয়েছি, জার্মান ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টারে একটা ইন্টারভিউ ছিল। কয়েকদিন ছিলাম। যেদিন চলে আসব তার আগের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আমার এক ছোট ভাই আরও কয়েকজন বাঙালিকে নিয়ে একটা ছোট খাট গেট টুগেদারের ব্যবস্থা করেছে। এক পর্যায়ে আবারও প্রকৃতির ডাক। গেলাম টয়লেটে। কিছুক্ষণ পর টয়লেটের বাতি নিভে গেল। আমি তো কিছুই বুঝতে পারছিনা। ভাবলাম কেউ হয়ত বাইরে থেকে ভুলে সুইচ বন্ধ করে দিয়েছে। বাধ্য হয়েই টয়লেটের ভেতর থেকে ওকে ডাকলাম। ও বলল, ভাইয়া, হাতটা তুলে উপরের দিকে একটু নাড়ান। অতঃপর বুঝলাম, সেন্সর লাগানো। কোন নাড়াচাড়া না হলে বাতি নিভে যায়। অগত্যা কী আর করা। বসে বসে একটু পর পর স্কুলে রোল কলের মত করে হাত উপরে উঠাই। যেন বাতিকে বলা, ‘আমি আছি ভাই’

৩. সুইজারল্যান্ড থেকে একবার ট্রেনে ইতালি ফিরছি। মাঝে ট্রেন পরিবর্তন করতে হবে। স্টেশনে নামলাম। ছোট, ছিমছাম একটা স্টেশন। ভাবলাম, পরবর্তী ট্রেনে ওঠার আগে একটু ফ্রেশ হয়ে নেই। ঢুকে স্তব্ধ হয়ে গেলাম। এত পরিচ্ছন্ন সবকিছু, অদ্ভুত মোলায়েম আলো পুরো ওয়াশরুমে। চমৎকার ঘ্রাণ। আমি যেন মোহাচ্ছন্ন হয়ে গেলাম।এয়ারপোর্ট কিংবা স্টেশন কোথাও এত সুন্দর ওয়াশরুম আমি কখনও দেখিনি। ওদের দেশটা যেমন ছবির মত সুন্দর, সেই ওয়াশরুমটাও যেন ঠিক তাই। স্টেশনটার নাম আমি ভুলে গেছি কিন্তু মনে আছে ইন্টারলেকেন থেকে মিলান ফেরার পথে কোন এক স্টেশন ছিল সেটা।

৪. বিদেশের থ্রি স্টার কিংবা ফোর স্টার হোটেলরুম গুলোতে একটা মিনিবার থাকে যেখানে রুমের মধ্যেই বোতলজাত পানি, জুস কিংবা বিয়ারের বোতল রাখা থাকে (ফাইভস্টার হোটেলে কী থাকে আমার জানা নেই কারণ কখনও থাকার সৌভাগ্য হয়নি) এছাড়াও বাথরুমে বেসিনের কাছে গ্লাস থাকে যদি পানি শেষ হয়ে গেলে বা চাইলে কেউ ট্যাপের পানি খেতে পারে। সেদিন এক বন্ধুর কাছে ভয়ঙ্কর এক ঘটনা শুনলাম। কোন এক দেশে একজন গেছে। টয়লেটের কাজ শেষ করার পর পরিষ্কার যা করার টিস্যু পেপার দিয়ে করতে হবে। এটা কোনভাবেই সে মানতে পারছেনা। অতঃপর কী আর করা। সেই গ্লাসে পানি নিয়ে বদনা হিসেবে ব্যবহার করেছে। এই ঘটনা শোনার পর আমি কানে ধরেছি, যত ভাল হোটেলই হোক না কেন আর গ্লাস যত পরিষ্কারই হোক না কেন হোটেল রুমের গ্লাস আর জীবনে ব্যবহার করব না। কে জানে আমার পানি খাওয়ার সেই গ্লাস অন্য কারও বদনা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে কিনা।