ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

আজও মনে পড়ে রহিমার মার কথা, যে তার ৩ বছরের মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ডাক্তারদের কাছে হাত জোড় করে বলছিল “ডাক্তার সাব, আমার মেয়েটাকে আপনি বাঁচান।” বাঁচে নি মেয়েটা, বেঁচে যায় নি তার আশা। টাকার কাছে বিক্রি ডাক্তার কি গরীবের আর্তনাদ আর কষ্টের হাহাকার বুঝে!
মনে পড়ে, সেই পিচ্চি রাজুর কথা। বাবা-মা মারা যাবার পর কোথাও ঠাই হয় নি, বাবা-মার সম্পত্তির সব কিছু আত্মীয়রা মেরে দিয়েছিলো। বিনিময়ে তাদের সাথে ছেলেটাকে রাখেও নি, এখন সে এতিমখানায় তার মতো বাবা-মা মরা ছেলেদের সাথে থাকে !

মনে পড়ে, ফেলানীর কথা। যাকে বিএসএফ এর সদস্যরা কাঁটাতারে ঝুলিয়ে মেরেছিল। সেও তো একটা মানুষ, গুলি করে মেরে ফেলা কোন মানবতার মধ্যে পড়ে আমার জানা নেই। যেখানে কিছুদিন পর একটা হাতির জন্য এতো সংবাদ, খুঁজাখুঁজি। ফেলানি, তুমি যদি মানুষ না হয়ে হাতি হতে, তাহলে হয়তোবা অন্তত তোমাকে মরতে হতো না !
মনে পড়ে রাজনের কথা, যাকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে তা আবার ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েছিল মানুষরূপী সেই জানোয়ারগুলো। কি-ই বা কোন সম্পত্তি সে চুরী করতে পারে কিংবা পারতো?! কয়েক’শ? নাহয় ধরলাম কয়েক হাজার টাকা?! আমার বড় অবাক লাগে, যেখানে প্রতিনিয়ত হাজার কোটি টাকা ভদ্রবেশেই চুরী করে ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা, সেখানে তাদেরকে ধরাছোঁয়াও করে না। আর রাজন তো একটা বাচ্চা !

আজও মনে পড়ে তনুর কথা, যাকে ধর্ষণের পর মেরে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু কঠুর হুমকির মুখে বাবা-মা বলতে বাধ্য হয়েছিলেন,”ধর্ষণ নয়, ভাল্লুকের আক্রমণে মারা গেছে তনু!!”

আমার আজও মনে পড়ে, আজও মনে পড়ে। আমি যে ভূলতে পারি না, চাইলেও না! আমার বিবেকে আজ নাড়া দেয়, এ কেমন সমাজে থাকি আমরা, এ কোন বেড়াজালের মধ্যে আটকা পড়ে আছি আমরা। তাহলে কি আদৌ আমরা মানুষ  হতে পেরেছি?

নাকি পারিনি.?