ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আরো একটি নির্বাচন (যদিও স্থানীয় পর্যায়ে) হল ইভিএম দিয়ে। সাক্কু জিতলেন এ নির্বাচনে, এবং এ নির্বাচন আংশিক নয় পরিপূর্ণ ভাবেই ইভিএমে নেয়া হল। লক্ষ্যনীয় যে, কম্পারেটিভলি খুব দ্রুতই কুসিক নির্বাচনের রেজাল্ট ঘোষণা করা গেল, আর অবশ্যই তা পারা গেল ইভিএম এর বদৌলতে। অতীতে ভোট গনণার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষায় থাকতে হতো ফলাফল প্রাপ্তিতে, ততক্ষণে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে অনেক সময় সমর্থকদের মধ্যে শুরু হতো হানাহানি, মারামারি।

প্রযুক্তি প্রগতির হাত ধরে চলে। এর অগ্রযাত্রাকে অস্বীকার করার উপায় নেই। মানুষ তার প্রয়োজনেই প্রযুক্তিকে ধারণ করে। দিনের পর দিন এমন সব নিত্যনতুন প্রযুক্তি মানুষ উদ্ভাবন করে চলেছে, যেগুলো তার বর্তমান বা ভবিষ্যতের প্রয়োজন মেটাবে। ৮০ সালের দিকে আমাদের ঘরে একসময় বড়মামার টাইপ-রাইটার মেশিন ছিল, মামা বাসা থেকে রেরোলেই আমরা ভাইবোন সবাই মিলে মেশিনটা ইচ্ছেমতো টিপাটিপি করতাম। এর বদৌলতে একসময় আমাদের প্রায় সকলেরই টাইপিং স্পীড ওঠেছিল ৬০-৭০। মামা বিদেশ গিয়ে আমাদের জন্য একটি ইলেকট্রিক টাইপ-রাইটিং মেশিন পাঠিয়েছিলেন, ওঠাতে মাত্র ১ লাইন মেমোরীতে থাকতো অর্থাৎ ভুল হলে আবার ব্যাক স্পেস দিয়ে শব্দটা সংশোধন করা যেত; এতেই আমরা যারপরনাই খুশি ও অভিভূত। আমাদের এক বড়চাচা ছিল একটু ব্যাকওয়ার্ড টাইপ। তার কথাছিল এসব ইলেট্রিক-ফিলেকট্রিকের মেশিনে করা টাইপে তৈরী ডকুমেন্ট সরকারী-বেসরকারী কোন প্রতিষ্ঠান গ্রহণ করবেনা। আমরা উনার নসীহতমার্কা কথা এককানে শুনে অন্যকানে বের করতাম। একদিন মামা দেশে ফিরে আমাদের শোনালেন এমন এক মেশিনের গল্প যা শুনে আমরা নির্বাক অভিভূত। সামনে নাকি এমন এক মেশিন বেরোবে, যা দিয়ে একাধিক্রমে টাইপ রাইটিং শুধুনয় – তা সেইভ ও করা যাবে দিনের পর দিন, ক্যলকুলেটর, গান শোনা, ছবি দেখা, ফোনকরা, ফটোকপি করা, ছবিতোলা সবনাকি একমেশিনেই সম্ভব। আমাদের বিশ্বাসই হচ্ছিলনা।

আজ যদি কোন বাচ্চাকে কম্পিউটার বা আইপ্যাড নিয়ে এসব গল্পবলি তাহলে তারা আমাদের ব্যাকওয়ার্ড-অতীতের কথা শুনেই আশ্চার্যান্বিত হবে। একজন আধুনিক শিক্ষিত মানুষ কম্পিউটার/ল্যাপটপ ব্যবহার জানেনা ভাবতেই এখন অবাক লাগবে। মানুষ কি পারবে প্রযুক্তির এই উৎকর্ষতাকে অস্বীকার করতে?

তবে একথা অনিস্বীকার্য – প্রযুক্তি তার ইচ্ছায় চলেনা, বরং তা মানুষের সুবিধা ও সহজতর উপায়ে প্রয়োজন মেটানোর অনবদ্য প্রচেষ্ঠায় এগিয়ে চলেছে। এখন ইয়া বড় পিসির ব্যবহার ক্রমেই কমে আসছে, সে জায়গা দখল করে নিচ্ছে হালকা পাতলা ল্যাপটপ বা হালে আইপ্যাড।

ইভিএম নিয়ে কথা হল – বির্তকে বা বিরোধীতায় না গিয়ে এ প্রযুক্তিকে ভালভাবেই পর্যবেক্ষন করা উচিত বিরোধী দল তথা বিএনপি জোটের। সরকার সমর্থন করলেই সবকিছু বাদ দিতে হবে একথা ঠিক নয়। যুক্তিসঙ্গতভাবেই তাই আপনাদের আশংকার উত্তর দিতে হবে। অন্যথায় প্রযুক্তি হাতধরে চলতে অভ্যস্থ হয়ে ওঠা নতুন প্রজম্ম আপনাদেরকে ব্যকডেটেড মনে করবে।

ইভিএম নিয়ে কয়েকটি যৌক্তিক মতামত রাখতে চাই –

ক) অবশ্যই বিরোধীদলের মাঝে দেশে বা বিদেশে তাদের এক্সপার্ট এর অভাব নেই। এক্সপার্ট দিয়ে সহজেই মেশিনটির ভাল-মন্দ যাচাই করে নেয়া যায়।
খ) মেশিনে এমন সিস্টেম রাখতে হবে যা দিয়ে কাউন্টার চেক করা যাবে। বিস্তারিতভাবে বলতে পারি – ধরা যাক মূল ’ইভিএম’ এর সাথে সাপ্লিমেন্টারী মেশিন হিসাবে একাধিক কাউন্টার মেশিনও থাকবে যে মেশিনগুলো অবশ্যই নির্ভুলভাবে গনণা করবে। সাপ্লিমেন্টারী মেশিনগুলোতে পার্সওয়াড সিস্টেম থাকবে এবং এগুলো নিরপেক্ষ স্থান থেকে কিনে যে কোন প্রার্থী পাসওয়ার্ড দিয়ে ইভিএম এর পাশে রাখতে পারবে।
গ) ইবিএম মেশিনের নিরপেক্ষতাকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য উক্ত মেশিনের সার্বিক অপারেশন, ফলাফল প্রদানের যাবতীয় প্রক্রিয়া, টেকনোলজি ইত্যাদি উম্মুক্তভাবে দিনেরপর দিন মিডিয়াতে প্রকাশ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
ঘ) নির্বাচন কমিশনকে বিজ্ঞাপন দিয়ে উম্মুক্ত চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করতে হবে – ‘এ মেশিনের নিরপেক্ষতা খর্ব হচ্ছে’ -কেউ দেখাতে পারবে কিনা?
ঙ) নির্বাচনের আগেই দিনের পর দিন সাধারণ মানুষের জন্য ইভিএম এর মাধ্যমে ডামি ভোট প্রদানের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

পজিটিভ মাইন্ড নিয়ে চিন্তা করলে আরো অনেক পদক্ষেপই নেয়া যায়। মূলতঃ আশঙ্কা দুর করার প্রধান দায়িত্ব নিতে হবে নির্বাচন কমিশনকেই। একপক্ষকে অসন্তুষ্ট রেখে জোর পূর্বক কোন কিছু চাপিয়ে দিয়ে অন্যকিছু করা গেলেও নির্বাচন করা অত সহজ নয়, আর এধরনের এক তরফা পদক্ষেপের নির্বাচন কারো কাছেই গ্রহনযোগ্য হবেনা – যার দায়দায়িত্ব সর্বশেষে নির্বাচন কমিশনকে বয়ে বেড়াতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইভিএম ব্যবহারে স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক এ কামনা করছি।