ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আমার আগের লিখায় আমি সাইকোপ্যাথি কি তা নিয়ে সংক্ষেপে লিখেছিলাম। সাইকোপ্যাথদের অন্যতম চারিত্রিক লক্ষন হল এরা মানুষের দূঃখ ও কষ্ট দেখেও নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য কোন সহানুভূতি দেখায় না। রবার্ট হেয়ারের মতে সাইকোপ্যাথিদের এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট তাদের কঠোর হও্য়ার উদ্দীপনা দেয়।
আসুন সমাজে কিছু সাইকোপ্যাথি লক্ষন খুঁজে বেড়াই:

সাইকোপ্যাথ ও রাজনীতিবিদ:
আমাদের জাতির জনক ও উনার পরিবারবর্গের সবাইকে হত্যা করা হল। ১৫ই অগাস্টের সেই কাল রাত। ঘটনাটি বহুবার টিভিতে দেখেছি। আবেগপ্রবণ হয়ে ঘাতকদের গালমন্দও করেছি। এখন দেখুন এই সব ঘাতকেরা কিন্তু বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আয়েশে সংসার করছে। ছেলে মেয়ে মানুষের মত মানুষ করেছে। সমাজের কাছে উনারা অনেকেই একজন খুব ভাল মানুষ। কিন্তু সাইকলোজির ভাষায় উনারা একজন ক্রিমিনাল সাইকোপ্যাথ। কিভাবেঃ

ক) নিজ স্বার্থ হাসিল করাঃ পৃথিবীর অনেক দেশেই চায়নি বাংলাদেশ একটি ইসলামিক রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে উঠুক তথা একজন মুসলিম নেতার ডাকে সারা দেশ এভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকুক। অনেক রাষ্ট্র এখনো আমার দেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। সেই সব রাষ্ট্রের যোগান দেওয়া টাকাই খুনিদের লালসায় ভরে তুলে। খুনিদের স্বার্থ ছিল টাকা এবং উন্নত দেশের নাগরিকত্ব। আমরা সবাই টাকা চাই, আমরা সবাই বিদেশে নাগরিকত্বও চাই কিন্তু খুনিদের সাথে আমাদের পার্থক্য হল আমরা খুন করে এসব চাই না। জাতির জনককে খুন করে পিশাচেরা তাদের স্বার্থ হাসিল করেছে।

মুজিব খুনি কুকরদের বিচার চাই

খ) সামাজিক ভাবে চতুর, পরনির্ভরশীলতা, উচ্চবিলাসীতা, সামাজিক সহানুভবতা নিজ স্বার্থে ব্যাবহার করা, অনুশোচনা ও অনুতপ্ত বিহীন ভাবে নির্বিকারে অন্যায় করা এবং স্বীয় সুখের মৌবাদিত্ব করা: খুনিরা সামাজিক ভাবে চতুর বলেই সবকিছুর আড়ালে গা ঢাকা দিয়ে ৪০ বছর পার করতে পেরেছে। এদের সবাই উচ্চবিলাসী তাতে আমার এবং আপনাদেরও কোন সন্দেহ নাই। খুনিদের অনেকেই দাবি করে দেশের জন্য এবং বাকশালকে নির্মল করার জন্য এ খুন তারা করেছিল। তাহলে ছোট শিশুটি কি দোষ করেছিল ? উনি কোন বাকশালের নেতা ছিলেন ? খুনিরা বাকশালের কয়েকটি ঘটনাকে নিজের ডিফেন্সে কাজে লাগাতে চেয়েছিল। বাকশালের বিরুদ্ধে যে সহানুভূতি জাতির ছিল, সেই সহানুভূতি এসব সাইকোপ্যাথিরা কাজে লাগাতে চেয়েছিল। সাইকোপ্যাথিরা পাপ করার সময় নির্দ্বিধায় ঠাণ্ডা মাথায় পাপ করে এবং ছোট বা বড় মাপের পাপ/ফৌজদারি অন্যায় করে যেতে পারে।
আসুন আমরা এসব সাইকোপ্যাথিদের সমাজ থেকে নির্মূল করি।