ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 
07_Broadcasting-Policy_Information-Minister-Hasanul-Haq-Inu_120814_0072

জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে মঙ্গলবার লেইক শোর হোটেলে আলোচনা অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। ছবি:আসিফ মাহমুদ অভি /বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

 

এই লেখাটির বিষয়বস্তুর সূত্রপাত বেশ কয়েকদিন আগে, তবে শুরু করা যাক বুধবার (২০ আগস্ট) রাত থেকে। এ রাতে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে নিজ কার্যালয় থেকে গ্রেফতার হয়েছেন দৈনিক ইনকিলাবের বার্তা সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ‘মিথ্যা ও বানোয়াট খবর প্রকাশ করে ধর্র্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও পুলিশ বাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি।’ অভিযোগ গুরুতর তবে তদন্তহীন ও আকস্মিক এই গ্রেফতারে সাংবাদিক মহলে সৃষ্ট ‘প্রশ্নবোধক’ চিহ্নটিও বেশ বড়। দৈনিক পত্রিকাগুলোর সম্পাদকদের সংগঠন ‘সম্পাদক পরিষদ’ ইতোমধ্যেই এই গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়েছে। সম্পাদকরা উদ্বিগ্ন, কারণ যে আশঙ্কা থেকে ‘তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি’ আইনকে জন্মের সময় তারা স্বাগত জানাননি সে আশঙ্কাই এখন সত্য হতে চলেছে। অর্থাৎ আইনের অপপ্রয়োগ। উদ্দেশ্য– তথ্য ও বাগস্বাধীনতাকে জিম্মি করে সরকার ও সরকার মহলের স্বার্থ রক্ষা করা।

এখন ফেরা যাক মূল দৃশ্যপটে। এই দৃশ্যপটে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী’ ও ‘বহুদলীয় গণতন্ত্রের’ বাংলাদেশে আবির্ভাব ঘটেছে ‘জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা’ নামক একটি শিশু দানবের। যে কোন ক্ষেত্রে নীতিমালা বা দিকনির্দেশনা বরাবরই প্রয়োজনীয় ও অভিনন্দনযোগ্য। সুনির্দিষ্ট নীতিমালাহীন কার্যক্রম থেকে– তা রাষ্ট্রীয়, সামাজিক বা প্রাতিষ্ঠানিক যাই হোক না কেন, ভাল কোন প্রাপ্তি আশা করা যায় না। তাই নীতিমালাকে মন্দ কোন বিশেষণে বিশেষায়িত করা উচিত নয়। তাছাড়া একটি নীতিমালাতে ভাল-মন্দ দু’য়ের মিশেল থাকাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু তারপরও সদ্য জারিকৃত ‘জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা-২০১৪’-কে বিশেষায়িত করার জন্য ‘শিশু দানব’-কেই উপযুক্ত মনে হয়েছে এর ভবিষ্যত ও লক্ষ্যবস্তু বিবেচনায়।

সরকারের ভাষায় ‘সম্প্রচার মাধ্যমসমূহের সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করণে সরকারের দায়িত্ব’ রয়েছে। সেই বিবেচনায় একটি ‘স্বাধীন, বহুমুখী, দায়বদ্ধ ও দায়িত্বশীল’ সম্প্রচার ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্যই এই সম্প্রচার নীতিমালা। সরকারের এ বক্তব্য সত্য। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেও সংবাদপত্র বা সম্প্রচার মাধ্যমের ন্যুনতম দায়বদ্ধতা ও দায়িত্বশীলতা থাকা প্রয়োজন। প্রায় প্রতিটি উন্নত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর এই দায়বদ্ধতা রয়েছে। সে দায়বদ্ধতা বিবেকের কাছে, নীতি-নৈতিকতার কাছে, সমাজের কাছে এবং ক্ষেত্র বিশেষে আইনের কাছে। তবে এই দায়বদ্ধা কোন ভাবেই দল বা দলীয় সরকারের কাছে নয় এবং তা হওয়া সমীচিনও নয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমাদের দেশে ‘সম্প্রচার নীতিমালা’ নাম দিয়ে যে নিয়ম গণমাধ্যমের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে তা দলীয় সরকারের কাছে দায়বদ্ধতাকেই স্পষ্ট করে তুলে।

কথিত এই সম্প্রচার নীতিমালার ৫.১.৩ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোন ব্যক্তির ব্যক্তিগত বা গোপনীয় বা মর্যাদাহানিকর তথ্য প্রচার করা যাবে না।’ আপাতদৃষ্টে মনে হবে এই ধারা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও সাদামাটা। কিন্তু যে ব্যক্তির ‘মর্যাদাহানিকর’ তথ্য প্রচার করা যাবে না, তিনি কে? তিনি যদি কোন ‘কালো বেড়াল’ হন, কিংবা তার গাড়িতে যদি বস্তাভর্তি সত্তর লক্ষ টাকা পাওয়া যায়, কিংবা তার মেয়ের জামাই যদি খুনের মত কোন অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত থাকেন, কিংবা তার যদি কোন ‘মিনি আদালত’ থাকে, কিংবা তিনি যদি সরকারি জমি দখল করে ব্যক্তিগত লাইব্রেরি তৈরি করেন, কিংবা তিনি যদি প্রকাশ্য জনসভায় ধুমপান করে সাংবাদিকদের গালিগালাজ করেন আর সে সংবাদ গণমাধ্যমে প্রচারিত হবার পর যদি দাবি করেন এটা তার জন্য মর্যাদাহানিকর– তখন কী হবে?

এই নীতিমালার ৫.১.৫ ধারায় বলা হয়েছে, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত কোন সংস্থা এবং অপরাধ রোধ, অনুসন্ধান ও তদন্ত, এবং অপরাধীদের দন্ড প্রদানের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের প্রতি কটাক্ষ, বিদ্রুপ বা তাদের পেশাগত ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে পারে এমন কোন দৃশ্য প্রদর্শন বা বক্তব্য প্রচার করা যাবে না।’ কোন সংবাদপত্রই এধরনের বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কটাক্ষ বা বিদ্রুপ করেছে বলে আমাদের জানা নেই। কিন্তু সেই কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকাকালীন যদি ৬ কোটি টাকার বিনিময়ে সাতজন ব্যক্তিকে হত্যা করে কোন নদীতে ফেলে দেন, কিংবা কোন ঝুট ব্যবসায়ীকে থানায় ধরে এনে সারারাত নির্যাতন করে স্ত্রী-সন্তানের সামনে হত্যা করেন, কিংবা রাস্তায় দাঁড়িয়ে বাস-ট্রাক চালকদের কাছ থেকে টোকেনের মাধ্যমে চাঁদা আদায় করেন, কিংবা সেই কর্মকর্তা যদি কোন তদন্তে গিয়ে টাকার বিনিময়ে অপরাধীকে নির্দোষ বলে ঘোষনা দেন, কিংবা এই বাহিনীর সদস্যরা যদি রাতের আঁধারে বিরোধী দলের অফিসে ঢুকে ভাঙ্গচুর করেন, কিংবা সেই কর্মকর্তা যদি কোন এক একুশ তারিখে গ্রেনেড হামলার জন্য অপরাধীদের সহযোগিতা করেন, কিংবা সেই কর্মকর্তা যদি পাচারের উদ্দেশ্যে নিজ বাড়িতে ৮-১০টি শিশুকে লালন-পালন করেন আর সে সংবাদ ও দৃশ্য যদি কোন মাধ্যমে প্রচারিত হয় এবং তিনি যদি সেই দৃশ্য ও সংবাদকে মিথ্যা ও মর্যাদাহানিকর দাবি করেন– তখন কী হবে?

নীতিমালার ৫.১.৯- এ বলা হয়েছে, ‘জনস্বার্থ বিঘ্নিত হতে পারে এমন কোন বিদ্রোহ, নৈরাজ্য এবং হিংসাত্মক ঘটনা প্রদর্শন পরিহার করতে হবে।’ বিদ্রোহ, নৈরাজ্য বা হিংসাত্মক ঘটনা– এগুলো কি কোন সংবাদ নয়? আর এক্ষেত্রে ‘জনস্বার্থ’ নামক সুন্দর শব্দটিই সবচেয়ে ভয়াবহ। কারণ আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশের প্রতিটি সরকারই তার বিরুদ্ধে যে কোন প্রতিবাদকে ‘জনস্বার্থ বিরোধী’ মনে করে। ২০০৭ সালে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সেনা সদস্যদের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের যে সংঘর্ষ হয়েছিল তাতে ছাত্রদের প্রতি পুরো জাতির সহানুভূতি থাকলেও তৎকালীন সেনাপতি মঈনউদ্দিন আহমেদের নিয়ন্ত্রনাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার এই ঘটনাকে ‘জনস্বার্থ বিরোধী’ আখ্যা দিয়েছিল এবং সংঘর্ষের দৃশ্য প্রচার করার জন্য চব্বিশঘন্টার একটি টিভি চ্যানেলকেও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। অথচ দিন কয়েক আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে এক নিরাপরাধ কৃষ্ণাঙ্গ যুবক নিহত হবার পর সহিংস প্রতিাবাদের যে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে তা পুলিশ প্রশাসনের কাছে ‘জনস্বার্থ বিরোধী’ হলেও সে দেশের গণমাধ্যমকে এই সহিংসতার দৃশ্য প্রচারে কেউ বাধা দিয়েছে বলে জানা যায়নি। অথচ এটা আমাদের দেশে ঘটেছে। তাছাড়া, বহুদলীয় গণতন্ত্রের এই দেশে সরকার বিরোধী দলগুলো গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের উদ্দেশ্যে যদি রাজপথে নামে এবং যদি যথারীতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের উপর ককটেল হামলার অভিযোগ করে জনতার সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় আর সে দৃশ্য যদি কোন প্রচার মাধ্যম প্রচার করে– তখন কী হবে?

জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার ৩.২.২-এ বলা হয়েছে, ‘আলোচনামূলক অনুষ্ঠানে (টক শো) কোন প্রচার বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য বা উপাত্ত দেয়া পরিহার করতে হবে।’ রেডিও বা টেলিভিশনের কোন অনুষ্ঠানে অসত্য বা বিভ্রান্তিকর কোন তথ্য উপস্থাপিত হোক তা কেউই প্রত্যাশা করে না। কিন্তু কোন তথ্যটি সত্য আর কোন তথ্যটি অসত্য তা নির্ধারণের জন্য আলোচকরা কার দারস্থ হবেন? সরকারের? তা করা যেতে পারে তবে সেক্ষেত্রে একমাত্র বিটিভি ছাড়া দেশে আর কোন প্রচার মাধ্যমের প্রয়োজন থাকে কী? আর তা যদি না হয় তবে আলোচকরা যে উৎস থেকে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করবেন তা যদি সরকারের বিরুদ্ধে যায়, আলোচকরা যদি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য দেখিয়ে দাবি করেন সরকারের হাতেই বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি, কিংবা তারা যদি দাবি করেন শত বছরের যৌনপল্লী উচ্ছেদের পেছনে সরকার মহলের হাত আছে, কিংবা তারা যদি দাবি করেন কোন একটি সেতু নির্মানে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে, কিংবা পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পেছনে সরকার দলের কোন এক সংগঠনের নেতাকর্মীদের হাত রয়েছে এবং এ বক্তব্য যদি টিভি পর্দায় প্রচারিত হয়– তখন কী হবে? আমাদের দেশে সরকার বিরোধী প্রতিটি তথ্য-উপাত্তই তো অসত্য! মিথ্যা তথ্য দেয়ার জন্য আলোচককে কি গ্রেফতার করা হবে, নাকি টিভি চ্যানেলটাই বন্ধ করে দেয়া হবে?

প্রচার মাধ্যমের উপর নাজিল হওয়া এই নীতি মালার ৫.১.৭ ধারায় বলা হয়েছে, ‘একটি বন্ধুভাবাপন্ন বিদেশী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এমন দৃশ্য ও বক্তব্য প্রচার করা যাবে না যার ফলে সে রাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সুসম্পর্ক নষ্ট হয়।’ আপাত দৃষ্টিতে এ ধারাতে কোন অসঙ্গতি নেই। এমন একটি ধারা সম্প্রচার নীতিতে থাকতেই পারে। যদিও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে রাষ্ট্রের কোন স্থায়ী বন্ধুর কথা স্বীকার করা হয় না তবুও বন্ধু রাষ্ট্রের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যগুলো অলিখিতভাবে হলেও এ নীতি মেনে চলে। অর্থাৎ নিজ দেশের স্বার্থ সিদ্ধিতে সহযোগিতা করে এমন কোন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিতান্ত বাধ্য না হলে তারা সংবাদ প্রচার করে না। যেমনটা দেখা যায় ইসরাইলের ক্ষেত্রে। ইহুদী রাষ্ট্র ইসরাইল নিরিহ ফিলিস্তিনে গণহত্যা চালালেও কোন পশ্চিমা গণমাধ্যই সেটাকে অপরাধ হিসেবে প্রচার করে না। কিন্তু আমাদের কোন বন্ধুরাষ্ট্র যদি আমাদেরই কোন এক কিশোরীকে কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলিয়ে রেখে অমানবিকভাবে হত্যা করে, কিংবা কোন বন্ধুরাষ্ট্রের সীমান্তরক্ষীরা যদি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আমাদের কোন নাগরিককে হত্যা করে, কিংবা কোন বন্ধুরাষ্ট্র যদি আমাদেরকে পানির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, কিংবা কোন বন্ধুরাষ্ট্র যদি আমাদের ভূখন্ডকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করেও প্রাপ্য শুল্ক থেকে বঞ্চিত করে এবং এই সংবাদ ও দৃশ্য কোন গণমাধ্যমে প্রচারিত হবার পর ঐ বন্ধুরাষ্ট্রটি যদি অসন্তুষ্ট হয়– তখন কী হবে?

উপরের সবগুলো প্রশ্নের জবাব একটিই। জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা নামক আজকের এই ‘দানব শিশু’ দিনে দিনে একটি পরিপূর্ণ দানবে পরিণত হবে। আর আমাদের মত নব্য ও অপরিপক্ক গণতন্ত্রের দেশে সে প্রতিটি সরকারের স্বার্থ রক্ষা করবে। এর জন্য যদি কোন ব্যক্তিকে কিংবা কোন প্রচার মাধ্যমকেও বলি দিতে হয় তাতেও সে কুন্ঠিত হবে না। ফলে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ ও সমাজের দর্পন হিসেবে পরিচিত সংবাদপত্র হয়ে যাবে প্রতিটি সরকারের ‘দৃষ্টি ও বাকশক্তিহীন’ পোষা প্রাণি। অর্থাৎ কার্যত দেশের সবগুলো প্রচার মাধ্যম সম্মিলিতভাবে বিটিভিতে পরিণত হবে। আর বিটিভি জিনিসটা কী আমরা সবাই জানি।

এমন আশংকা থেকেই এদেশের প্রতিটি বিবেক সম্পন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন বিরোধীতা করেছে কথিত জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার। টিআইবি এই নীতিমালাকে আখ্যা দিয়েছে সংবিধান বিরোধী হিসেবে আর সুশাসনের জন্য নাগরিক বা সুজন একে বলেছে, বাগস্বাধীনতা হরণের জন্য ‘একটি রাজনৈতিক নীলনকশা।’ আর দৈনিক পত্রিকাগুলোর সম্পাদকদের সংগঠন ‘সম্পাদক পরিষদ’ এই নীতিমালা বাতিলের দাবি তুলেছেন। তবে এই নীলনকশা বাতিলের দাবি শুধু টিআইবি, সুজন বা সম্পাদক পরিষদের নয়, চিন্তা ও বাগস্বাধীনতায় বিশ্বাসী দেশের প্রতিটি নাগরিকের।