ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

অফিস এর কাজে চট্রগ্রাম গেলাম এবং ওইখান থেকে পরের দিন কক্সবাজার। অবশেষে গত ০৬.০৫.২০১৫ তারিখে ঐদিন রাত ৮.৪৫ মিঃ এর টিকেট করলাম শ্যামলি পরিবহনে। আমার ম্যানেজার আমাকে বললেন যে স্যার শ্যামলি পরিবহন এ যান, এদের সার্ভিস ভাল। আমি কিন্তু কক্সবাজারে এর আগেও শ্যামলি পরিবহনে যাত্রা করেছি। তখন আমার কাছে ভালই লেগেছিল। যাই হোক, টিকেট নিয়ে হোটেল এ গিয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে ৮.৩০ মিনিটে শ্যামলি পরিবহন এর কাউন্টারে গেলাম। ৮.৫০ মিঃ এ গাড়ি ছাড়ল। গাড়ি ছুটতে থাকল চট্রগ্রাম এর উদ্দেশে অতঃপর ঢাকা। কিছুদুর আসার পর বুঝলাম গাড়ির গতি ১৩০-১৪০ কিঃমিঃ প্রতি ঘণ্টা এর নিচে হবে না। ভয়ে ভয়ে বসে থাকলাম এবং সৃষ্টিকর্তাকে ডাকতে থাকলাম। 7219
হটাৎ করে গাড়িতে ব্রেক। আমরা সবাই একসাথে চিৎকার করে উঠলাম। পরে শুনতে পারলাম যে একটা ছাগল সামনে পরে যাওয়ার কারনে ড্রাইভারকে ব্রেক করতে হয় ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও। যাই হোক, মাঝে মাঝে গাড়ি রাস্তার এই পাশে তো আর একবার অপর পাশে। এই ভাবেই চলতে থাকলো আমাদের শ্যামলি পরিবহন এর ড্রাইভার এর গতির খেলা। চট্টগ্রাম পৌঁছার ঠিক আগে এসে, হুট করে গাড়ি কন্ট্রোল লেস হয়ে গেল। গাড়ির এক সাইডের চাকা উপরে উঠে গেল। গাড়ি পরতে পরতে কন্ট্রোল হল। তবে আমরা আরেকবার সমস্বরে চিৎকার করে উঠলাম। কেউ কেউ ড্রাইভারকে গালাগালি করা শুরু করল। কিন্তু ড্রাইভারের এতে কোন প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না। তিনি যথারীতি একই স্পিডে গাড়ি চালাতে থাকলেন।

হোটেল বিরতি এর জন্য গাড়ি কুমিল্লা এর তাজমহল হোটেল কমপ্লেক্সে থামলে আমি গাড়ির সুপারভাইজারকে বললাম যে, এই গতির সাথে তো শুধু ড্রাইভার এর জীবনই জড়িত না, এতোগুলো যাত্রীর বাঁচা মরা জড়িত। সুপারভাইজার বলল, এটাতে আমার কিছু বলার নাই আপনারা ড্রাইভারকে বলেন। ড্রাইভারকে বলতে গেলে উনি বললেন যে, আমাকে যেন অন্য একটা গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়, অথবা আমি যেন চুপচাপ বসে থাকি। পরে সুপারভাইজার আমার কাছে এসে বলল যে, আপনি আমাদের হেড অফিসে গিয়ে কমপ্লেইন করেন। উনিই আমাকে বললেন যে, গাড়ির ড্রাইভার এর নাম মিঃ ছাবের, গাড়ির নাম্বার: ঢাকা মেট্রো ব ১৪২০১১। অবশেষে গাড়ি থেকে নেমে শ্যামলি পরিবহন এর হেড অফিস এর দিকে না গিয়ে আমার বাসার দিকে রওনা করলাম, আর ভাবতে থাকলাম- জীবন না গতি, কোনটা বড়?