ক্যাটেগরিঃ গ্লোবাল ভয়েসেস

 

মেক্সিকোর হুইকোলেস আদিবাসী (উইক্সারিকা নামেও পরিচিত) জনগোষ্ঠী কানাডার একটি খনি প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। এই প্রকল্প আদিবাসীদের একটি পবিত্র স্থানের প্রতি হুমকি বলে তাঁরা দাবি করছে। কানাডীয় খনির ছাড় প্রদানের বিষয়ে তাঁরা তাদের এই উদ্বিগ্নতার কথা কানকুনে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন –সিও পি ১৬ – এ তুলে ধরেছেন। আদিবাসী পরিবেশ নেটওয়ার্ক ব্লগ রেড রোড কানকুন এ ব্লগার বিজেএম লিখেছেন:

উইরিকুটা সংরক্ষিত প্রাকৃতিক এলাকায় কানাডীয় ফার্স্ট ম্যাজেস্টিক সিলভার নামক বহুজাতিক খনি প্রকল্প বাতিলের দাবীতে মেক্সিকান ইন্ডিয়ানদের একটি প্রতিনিধি দল কানকুন এসেছিল। প্রায় মরুভূমির এলাকা রিয়াল দো কাটোরসে থেকে আসা হুকেন্দ্র।

একই বিষয়ে, ডিজিটাল সংবাদপত্র দি এসপেরান্জা প্রজেক্ট এ লেখক ট্রেসি এল. বার্নেট উইক্সারিকাদের এ ভূমির গুরুত্বের বিষয়ে একটি প্রবন্ধ লিখেন। তিনি তাঁর প্রবন্ধে উক্সারিকাদের বার্ষিক তীর্থযাত্রা সম্পর্কে বলেন:

উইরিকুটায় কানাডীয় রৌপ্য খনি পরিচালনাকারীগণ উইরিকুটা জনগোষ্ঠীর সবচাইতে পবিত্র স্থানকে ধ্বংসের মুখে ফেলে দিয়েছে এ কথা জানাতেই আমরা প্রাথমিকভাবে সেখানে ছিলাম। এ সে স্থান যেখানে তাদেঁর প্রথামতে সূর্যের জন্ম হয়েছিল। স্থানটি এক অর্থে তাঁদের দুনিয়ার কেন্দ্র, বার্ষিক তীর্থযাত্রার গন্তব্য, যে তীর্থযাত্রা শত বছর ধরে সম্ভবত: হাজার বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে যে তীর্থযাত্রায় ধারাবাহিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পিতৃপুরুষের আত্মাকে আহ্বান করা হয় এবং সমগ্র গ্রহের শক্তির ভারসাম্য রক্ষা করা হয়। ৬,৩২৬ হেক্টর জমির মধ্যে কানাডার ফার্স্ট ম্যাজেস্টিক সিলভার কর্পোরেশন ২২ টি মাইনিং ছাড়ের অনুমোদন পেয়েছে যা কেন্দ্রীয়ভাবে প্রতিবেশ সংরক্ষণ দ্বারা সুরক্ষিত এবং ইউনেস্কো-স্বীকৃত প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ রিয়াল দো কাটোরসের মধ্যে অবস্থিত।

উইরিকুটা স্থানটিকে মেক্সিকোর আদিবাসী জনগোষ্ঠী উইক্সারিকাদের পবিত্র স্থান দাবী করে অনলাইন সাময়িকী ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রাই একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাঁরা যে সব পদক্ষেপ গ্রহণে আগ্রহী:

উইক্সারিকা জনগোষ্ঠীর কাছে উইরিকুটার পবিত্রতা একটি ব্যাপক উদ্বেগের বিষয়; যদিও তাঁরা প্রায় ৩৫০০ জনকে ছাড়কৃত এলাকায়, ১৬ টি লোকালয় কেন্দ্রে এবং “একাধিক লোকালয়ে” বসবাস করছে মর্মে চিন্হিত করেছে। যদি রৌপ্য খনিটি কাজ শুরু করে তবে প্রত্যেকেই জল সঙ্কটে পড়বে এবং কোম্পানির ব্যবহৃত সায়ানাইডে প্রত্যেকেই অল্প থেকে শুরু করে মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়বে। অনাবৃত সায়ানাইড, ঘোলাদৃষ্টি, তীব্র শ্বাস সংকট, মাথাব্যথা, সাধারণ দুর্বলতাসহ পক্ষাঘাত, হৃদযন্ত্রের বিকলতা এবং মৃত্যু ঘটাতে পারে।

এ সব কারণে উইক্সারিকাগণ বলেন “এই বিধ্বংসী খনি প্রকল্প বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সম্পদের ব্যবহার,এবং আমাদের পক্ষে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক আইনগত সহায়তার পাশাপাশি অহিংস আন্দোলনের নাগরিক প্রতিবাদ জরুরি”

যদি প্রকল্পটি চলমান থাকে তবে যে সম্ভাব্য সমস্যাগুলো হবে তার প্রেক্ষাপট তথ্য –এর উপর কালচারাল সার্ভাইভাল একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে:

এই ব্যাপক প্রকল্পটি যদি চলমান থাকে তবে তার প্রতিক্রিয়াও হবে ব্যাপক। সুরঙ্গের মাধ্যমে বা উন্মুক্তভাবে যে পদ্ধতিতেই তারা আকরিক খনন করুক না কেন খনি থেকে যে এসিড নি:স্বরণ হতে পারে তা শতবর্ষ ধরে পরিবেশ, ভূমি এবং পর্যটনের প্রাথমিক উৎসকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ধূলা, শব্দ, ভূমিধ্বস এবং সড়ক নির্মাণ, ১৬ টি প্রজাতির পাখি বৈচিত্রের হুমকির কারণ হতে পারে। খনির কারণে প্রায় মরুভূমির এ অঞ্চলে জলের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হবে ফলে কৃষকদের চাষের কাজ ব্যাহত হবে। এ আয়তনের খনিগুলোতে একদিনে যে পরিমান জলের ব্যবহার হবে সে পরিমান জল একটি কৃষক পরিবার ২৫ বছর ব্যবহার করতে পারবে। কালচারাল সার্ভাইভাল এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহায়তার জন্য নানাবিধ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে যেমন বলা যায় অনলাইন অ্যাক্টিভিজম বা অনলাইন সক্রিয়তা।

গ্লোবালভয়েস থেকে পুনঃপ্রকাশিত। মূল লেখাটি দেখুন।