ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, জুলাই ০৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- কনকো-ফিলিপসের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে আধাবেলা হরতালে সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদ নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, বিপ্লবী গণতান্ত্রিক পার্টির নেতা মোশরেফা মিশুসহ অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। হরতালের শুরুতেই তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদকে আটক করা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে।

সাগরের দুটি ব্লকে গ্যাস অনুসন্ধানে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি কনকো-ফিলিপসের সঙ্গে চুক্তি করে সরকার। এতে দেশের স্বার্থ রক্ষা হয়নি দাবি করে ঢাকায় আধাবেলা হরতাল ডাকে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।

রোববার হরতাল শুরুর আগে ভোর সাড়ে ৫টা থেকেই পল্টনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান নেয় পুলিশ। সিপিবি কার্যালয়কেই অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করেছে তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটি।

হরতালের সমর্থনে মিছিল নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করলে সকাল ৭টার দিকে তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ, বাম মোর্চার আহ্বায়ক সাইফুল হককে আটক করে পুলিশ। আধাঘণ্টা পর আনু মুহাম্মদরক সিপিবি অফিসের সামনে পুলিশ নামিয়ে দিয়ে যায়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সরকার জোর করে হরতাল বানচালের চেষ্টা করছে। পুলিশ ও র‌্যাব আমাদের নেতাকর্মীদের নির্যাতন করছে, গ্রেপ্তার করছে। সরকার তার পেটোয়া বাহিনী দিয়ে রাস্তায় যানবাহন চালানোর চেষ্টা করছে। সরকার যে মার্কিন কোম্পানির কাছে দাসখত দিয়েছে, তার প্রমাণই তারা দিচ্ছে।”

আটক নেতা-কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন তিনি।

আনু মুহাম্মদকে ছেড়ে দেওয়ার পর সিপিবি কার্যালয়ের সামনে থেকে র‌্যাব আটক করে দলটির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্সকে।

পল্টন এলাকা থেকে প্রায় ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল অঞ্চলের উপকমিশনার আতিকুর রহমান।

রমনা অঞ্চলের সহকারী উপকমিশনার নূরুল ইসলাম জানান, শাহবাগ এলাকা থেকে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

পল্টন মোড়, বিজয়নগর, শাহবাগ, টিএসসিসহ বিভিন্ন এলাকা জায়গা থেকে আটক নেতাদের মধ্যে রয়েছেন বাসদের রাজেকুজ্জামান রতন, শ্রমিক নেতা মোশরেফা মিশু, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির বহ্নিশিখা জামালী, সিপিবির জলি তালুকদার, জাহিদ হোসেন খান, যুব ইউনিয়নের আসাদুল্লাহ টিটো, শেখ রফিক প্রমুখ।

হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় তা আটকে দেয় পুলিশ। মিছিল থেকে ছাত্র ইউনিয়নের রাজীব কর্মকার, এসআর খান জিতু, তুষার, আবু সায়েম, জাহিদ, এহসান, জিন্নাহ প্রমুখ আটক হয়।

শাহবাগে মিছিলে পুলিশ লাঠি চালালে ছাত্র ইউনিয়ন নেতা অভিনু কিবরিয়া ইসলাম আহত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একটি গাড়ি ভাংচুর করে হরতাল সমর্থকরা।

সকাল ১১টার দিকে টিএসসিতে হরতালের সমর্থনের মিছিল ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি পোড়ানোর পরপরই পুলিশ সক্রিয় হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। সেখান থেকে ঢাকা ইউনিভার্সিটি ফিল্ম সোসাইটর সাবেক সভাপতি ও ছাত্র ইউনিয়ন নেতা রিপন কুমার দাস ধ্র”বসহ সাত জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে দুজন পিকেটার নন বলে ঢাবি শিক্ষার্থীরা জানায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর একেএম সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “নিরাপরাধ কোনো শিক্ষার্থীকে আটক করা হলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে বলে পুলিশের সঙ্গে কথা হয়েছে।”

পুলিশের বাধায় মিছিল বের করতে না পেরে হরতালকারীরা সিপিবি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিচ্ছে। সকাল ১১টার দিকে সেখানে বামপন্থী বিভিন্ন দলের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

বেলা পৌনে ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশে তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির পাশাপাশি আলাদা দাবিতে চরমোনাই পীর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও ঢাকায় আধাবেলা হরতাল ডাকে। সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ কথাটি বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে তাদের এ কর্মসূচি।

দলটির প্রচার সম্পাদক আহমদ আবদুল কাইয়ূম সকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পুলিশের ধরপাকড় ও নির্যাতনে নেতাকর্মীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। গতকাল (শনিবার) দুপুর থেকে দলের পুরানা পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রেখেছে পুলিশ। কার্যালয় থেকে কাউকে বের হতে কিংবা ঢুকতে দিচ্ছে না।”

শনিবার দুপুর থেকে রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে দলের প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সকালে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে হরতালের সর্মথনে মিছিল ও পিকিটিং করার চেষ্টা করেও পুলিশি বাধার মুখে সম্ভব হয়নি বলে জানান প্রচার সম্পাদক কাইয়ূম।

ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা সকালে পোস্তগোলা ও উত্তরায় মিছিল বের করলে তা ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।

আলাদা দাবিতে দুটি সংগঠনের এ হরতালে ঢাকায় পল্টন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ছাড়া অন্য স্থানে পিকেটারদের তৎপরতা চোখে পড়েনি। বাস চলাচল প্রায় অন্য দিনের মতো হলেও রাস্তাগুলোতে প্রাইভেট গাড়ি দেখা যাচ্ছে না। মহাসড়কে রিকশা চলছে। রেল, বিমান ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

রাজধানীর দোকান-পাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই খোলা ছিলো। সচিবালয়সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যালয়েও কাজ চলছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/প্রতিনিধি/কেটি/সিএস/এআরআর/এমআই/১১৩০ ঘ.