ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

ঢাকা, জুলাই ২ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- কনকো-ফিলিপসের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিলের দাবিতে রোববারের হরতালের সমর্থনে মিছিল থেকে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এদিকে তিতুমীর কলেজে হরতালের পক্ষে প্রচারপত্র বিতরণের সময় ছাত্রলীগের কর্মীরা জাতীয় কমিটির দুই সদস্যকে পিটিয়ে আহত করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন কমিটির নেতারা।

শনিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তেল-গ্যাস কমিটির সমাবেশের পর সন্ধ্যায় আজিমপুর থেকে একটি প্রচার মিছিল বের হলে পলাশী মোড় এলাকায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

লালবাগ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. রাজ্জাক জানান, গ্রেপ্তার তিনজনের নাম বাসুদেব বিশ্বাস, সাব্বির আহমেদ ও মানিক ঘোষ।

এছাড়া খিলগাঁও এলাকায় কমিটির আরেকটি প্রচার মিছিল পুলিশি বাধায় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

বঙ্গোপসাগরের দুটি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি কনকো-ফিলিপসের সঙ্গে করা উৎপাদন-বণ্টন (পিএসসি) চুক্তি বাতিলের দাবিতে রোববার ভোর ৬টা থেকে রাজধানী ঢাকায় অর্ধ দিবস হরতাল ডেকেছে তেল-গ্যাস কমিটি। হরতালের সমর্থনে গত ২০ জুন থেকে প্রতিদিন সভা ও সমাবেশ করে আসছে সংগঠনটি।

এর অংশ হিসেবে শনিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা খান আসাদুজ্জামান মাসুম বলেন, “তিতুমীর কলেজে লিফলেট বিতরণকালে ছাত্র ইউনিয়ন এবং ছাত্র ফেডারেশনের দুই কর্মীকে পিটিয়ে আহত করেছে ছাত্রলীগের কর্মীরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে লিফলেট ও পরিচয়পত্রও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।”

জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, “মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ি, তিতুমীর কলেজসহ নানা জায়গায় নির্যাতন হলেও আমরা আমাদের মতামত প্রচার করে যাব। আগামীকাল আবার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

সমাবেশ শেষে একটি প্রচার মিছিল প্রেসক্লাবের সামনে থেকে পল্টন মোড় ঘুরে আবার প্রেসক্লাবের সামনে ফিরে আসে।

অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বজলুর রশীদ ফিরোজ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির রুহিন হোসেন প্রিন্স, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের রাজেকুজ্জামান রতন সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

সংস্কৃতি মঞ্চের সংহতি

কনকো-ফিলিপসের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের দাবিতে জাতীয় কমিটির কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়ে সমাবেশ করেছে সংস্কৃতি মঞ্চ।

বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এই সমাবেশ থেকে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে উপস্থিত ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিয়াস করিম হরতালে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “এই হরতাল জনগণের ক্ষমতার আওয়াজকে উচ্চকণ্ঠে তুলে দেওয়ার হরতাল।”

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাসিমা আখতার হোসাইন এবং জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।

সমাবেশ শেষে টিএসসি থেকে একটি মশাল মিছিল নীলক্ষেত, কাঁটাবন, জাদুঘর হয়ে আবার টিএসসিতে ফিরে আসে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমএমআর/জেকে/০০০৯ ঘ.