ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, জানুয়ারি ০৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে দুই দিনের মধ্যে রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে পাঠানোর জন্য সরকার ও কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

পাশাপাশি তাকে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে, প্রয়োজনে দেশের বাইরে চিকিৎসার সুযোগ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না- সরকার তার কারণ জানাতে বলা হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি মো. মিজবাহ উদ্দিন ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের বেঞ্চ সালাউদ্দিনের স্ত্রী ফরহাত কাদের চৌধুরীর রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেয়।

ফরহাত কাদের চৌধুরী রোববার তার স্বামীকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ চেয়ে রিট আবেদনটি দায়ের করেন।

শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী টিএইচ খান ও খন্দকার মাহাবুব হোসেন বলেন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী হৃদরোগে ভুগছেন। তাকে নারায়ণগঞ্জ কারাগারে রাখা হয়েছে। সেখানে হৃদরোগের কোনো চিকিৎসা নেই।

আবেদনের বিরোধিতা করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, “চিকিৎসার জন্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো আবেদন করেননি।

“তিনি আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালেও এ বিষয়ে কোনো আবেদন করেননি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওই ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে। তাই হাইকোর্টে রিট আবেদন অচল।”

একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্যকে গ্রেপ্তারের জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে যুদ্ধাপরাধ তদন্ত সংস্থা। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাড়ি পুড়িয়ে মানুষ হত্যার মামলায় সংসদ সদস্য সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মুসলিম লীগ নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছেলে সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে একাত্তরে চট্টগ্রামের রাউজানে কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের মালিক নূতন চন্দ্র সিংহকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গণহত্যায় মদদ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

গাড়ি পোড়ানোর মামলায় আটক সালাউদ্দিনকে গত ১৯ ডিসেম্বর যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছিলো ট্রাইব্যুনাল। সে অনুযায়ী গত ৩০ ডিসেম্বর তাকে প্রথম পুরনো হাইকোর্ট ভবনে স্থাপিত ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

সালাউদ্দিনকে তার আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দিতে সেদিন কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়ে তাকে আটক রাখার শুনানি ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর অত্যাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সালাউদ্দিন।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধ বিচারের জন্য আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গত ২৫ মার্চ তদন্ত সংস্থা, আইনজীবী প্যানেল ও বিচারক প্যানেল গঠন করলে বহু প্রতীক্ষিত এই বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের অন্যতম শরিক, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লাকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।