ক্যাটেগরিঃ bdnews24

ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ০৭ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- হরতালের সমর্থনের মিছিল করতে গিয়ে ঢাকাসহ সারাদেশেই বাধা পেয়েছে বিএনপি। বিভিন্ন স্থানে মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিও চালিয়েছে পুলিশ, আটক হয়েছে অনেক। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু এ হরতাল অযৌক্তিক বললেও বিএনপি বলেছে, হরতালে জনগণের স্বতস্ফূর্ত সাড়া মিলছে।

আড়িয়ল বিলে বিমানবন্দর নিয়ে সহিংস ঘটনায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার, পুঁজিবাজারে অস্থিরতার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধসহ কয়েকটি দাবিতে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সোমবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা এ হরতাল ডাকে। এটি এ সরকারের সময়ে বিএনপির চতুর্থ হরতাল।

পুলিশ আগেই বলেছিলো, হরতালে কঠোর অবস্থানে থাকবে তারা। তবে বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার আগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন, হরতালে বাধা হলে আরো কঠিন কর্মসূচি দেওয়া হবে।

সোমবার সকালে হরতালের শুরুতেই নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে জড়ো হতে থাকেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। তবে কয়েক দফায় মিছিল করার চেষ্টা চালিয়ে পুলিশি বাধায় ব্যর্থ হয়ে কার্যালয়ের সামনে ফুটপাতে বসে স্লোগান দিচ্ছেন তারা।

সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তারা একটি মিছিল বের করলে কাকরাইল মোড়ে তাতে বাধা দেয় পুলিশ। দুজনকে আটকও করা হয়। সকাল ১০টার দিকে পুরান ঢাকায় ন্যাশনাল ব্যাংকের সামনে বিএনপির একটি মিছিল পণ্ড করে দেয় পুলিশ। সেখানে আটক করা হয় দুজনকে।

নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পুলিশের একটি রায়ট কার, জল কামান রয়েছে। একটি প্রিজন ভ্যানও রয়েছে কার্যালয়ের ডান পাশে। নয়া পল্টন সড়কের বিভিন্ন গলি ও কাকরাইল মোড়, ফকিরের পুলের মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কার্যালয়ে অভিমুখে বিএনপিকর্মীদের যেতে বাধা দিচ্ছে পুলিশ।

রাজধানীর মহাখালী, শান্তিনগর মোড়, ধানমণ্ডির সায়েন্স ল্যাবরেটরি সড়ক, পুরান ঢাকার আদালত পাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে বিএনপির মিছিল পুলিশ লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করেছে। এতে অর্ধশতাধিক আহত এবং এসব স্থান থেকে অন্তত আট জনকে আটক করা হয়েছে বলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন।

সকাল ৯টার দিকে খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। তখন পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের কিছু সময় তর্কাতর্কি চলে।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস, ফজলুল হক মিলন, ইলিয়াস আলী, ছাত্রদল নেতা সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, আমিরুল ইসলাম খান আলিমের নেতৃত্বে একটি মিছিল রাজারবাগ সড়ক থেকে শুরু করে শান্তিনগরের কাছে কর্ণফুলী গার্ডে সিটির কাছে গেলে পুলিশ লাঠিপেটা করে। সেখানে ছাত্রদলের হাসান, বাবু ও সৈনিক নামে তিন জনকে পুলিশ আটক করে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল পুরান ঢাকার আদালত এলাকায় সকাল ১০টার দিকে মিছিল বের করলে তাতেও লাঠি চালায় পুলিশ। এতে আহত হন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমানসহ কয়েকজন। সেখানে পুলিশ দুজনকে আটক করে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন।

রাজধানীর পরিবাগ থেকে সকাল সাড়ে ৯টায় ছাত্রদলের মিছিল বের হলে তা লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।

মহাখালীতে বিএনপি নেতা আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে মিছিল হলে তাতেও লাঠি চালায় পুলিশ।

সোয়া ১১টার দিকে যাত্রাবাড়ীতে মিছিলে পুলিশ বাধা দিলে কিছু সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। পুলিশের হামলায় চার জন আহত হন বলে বিএনপি সমর্থিত স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার নবীউল্লাহ নবী জানিয়েছেন।

নয়া পল্টনে খোন্দকার দেলোয়ার সাংবাদিকদের বলেন, “দেশব্যাপী ডাকা এই হরতাল স্বতস্ফূর্তভাবে পালিত হচ্ছে।” মিছিলে পুলিশি বাধা এবং গ্রেপ্তারের নিন্দাও জানান তিনি।

অন্যদিকে বিরোধী দলের এ হরতালকে অযৌক্তিক আখ্যায়িত করে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “হরতাল একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। বিরোধী দলের ক্রমাগত অযৌক্তিক ও অপব্যবহারের কারণে হরতাল এখন ‘ভোতা হাতিয়ারে’ পরিণত হয়েছে। তাই বিরোধী দলের উচিত হরতাল প্রত্যাহার করে সংসদে ফিরে যাওয়া।”

নয়া পল্টনে বিএনপি নেতাদের মধ্যে রয়েছেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জয়নুল আবদিন ফারুক, রুহুল কবির রিজভী, আবদুস সালাম, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আবদুল লতিফ জনি প্রমুখ।

বিএনপির সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের মধ্যে রয়েছেন হাবিব উন নবী খান সোহেল, শফিউল বারী বাবু, শিরিন সুলতানা, জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, শাহজাহান মিয়া সম্রাট প্রমুখ।

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও চেয়াপারসনের উপদেষ্টা এমএ কাইয়ুম অবস্থান করছেন। নজরুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ধানমণ্ডিতে ঢাকা জেলার সভাপতি আবদুল মান্নানের বাসায় হামলা চালিয়েছে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা। এছাড়া দিনাজপুর, নরসিংদীসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ আমাদের নেতাদের গ্রেপ্তার করেছে, নির্যাতন চালাচ্ছে।”

হরতালে ঢাকার রাস্তায় গাড়ি চলাচল খুব কম। দোকানপাটও খুব একটা খোলেনি। পুলিশের টহল অন্য হরতালের চেয়ে বেশি দেখা গেছে।

হরতালে দূরপাল্লার বাস চলছে না। তবে মহাখালী থেকে কয়েকটি বাস ছাড়তে দেখা গেছে। ট্রেন ও বিমান চলাচল স্বাভাবিক বলে রেলওয়ে ও বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সকালে সদরঘাট থেকে নয়টি লঞ্চ বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে। তবে যাত্রীর সংখ্যা ছিলো কম।

হরতালের একদিন আগে ঢাকায় নয়টি বাসে আগুন ধরানো হয়। কয়েকটি স্থানে বোমার বিস্ফোরণও ঘটে।

ঢাকার বাইরে হরতালের চিত্রও একই রকম। বিভিন্ন জেলায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা মিছিল করতে গিয়ে পুলিশি বাধার মুখে পড়েছেন।

জয়পুরহাটে বিএনপির মিছিলে পুলিশের লাঠিপেটায় স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফাসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন। রাজশাহী ও হবিগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। ঝিনাইদহে বিএনপির মিছিলে হামলা চালিয়েছে সরকার সমর্থকরা।