ক্যাটেগরিঃ bdnews24

 

কায়রো, ফেব্রুয়ারি ৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/রয়টার্স/বিবিসি)— মিশরে বিরোধীরা রোববার সরকারের সঙ্গে বৈঠককে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করলেও আমূল রাজনৈতিক পরিবর্তনের ব্যাপারে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে।

বিবিসি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর মুসলিম ব্রাদারহুডসহ সব বিরোধী পক্ষ সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

বৈঠকের পর মোহাম্মদ এল বারাদির ‘ন্যাশনাল এসোসিয়েশন ফর চেঞ্জ’ দলের সমন্বয়ক মুস্তফা নাগর বলেছেন, বৈঠকটি সাধারণভাবে ইতিবাচক হয়েছে। কিন্তু এটি কেবল একটি প্রক্রিয়ার সূচনামাত্র।”

ওদিকে, মুসলিম ব্রাদারহুডের ঊর্ধ্বতন সদস্য আব্দুল মোমেন আবুল ফেতৌ বলেছেন, বৈঠকে সরকার সুমনোভাবের পরিচয় দিলেও বিরোধীদের দাবি মেনে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।

এর আগে মিশরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে কাজ করার জন্য একটি কমিটি গড়ার সরকারি প্রস্তাবে বিরোধীপক্ষ সম্মত হয়েছে।

বিচারবিভাগীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সমন্বয়ে এ যৌথ কমিটি গড়তে একমত হয় বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা। যার কাজ হবে সাংবিধানিক সংস্কারের পরামর্শ দেওয়া।

প্রভাবশালী বিরোধীদল মুসলিম ব্রাদারহুডসহ অন্যান্য বিরোধী সদস্যদের সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট সুলেইমানের বৈঠকে এ মতৈক্য হয়।

ওদিকে, রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, আলোচনার জন্য একটি খসড়া পথপরিক্রমা তৈরিতে একমত হয়েছে দুপক্ষ।

মন্ত্রিসভার একজন মুখপাত্র বলেন, ” সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা, সুশীল সমাজ এবং বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের পরিষদ আজ ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেছে এবং একটি খসড়া রোডম্যাপ তৈরিতে একমত হয়েছে।”

কিন্তু বৈঠকের পর দেওয়া বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের ক্ষমতায় আসীন থাকারই ইঙ্গিত মিলেছে।

বৈঠকে যুব কর্মীদের দাবি উপেক্ষিত হয়েছে। যারা মোবারকের ৩০ বছরের শাসনাবসানের জন্য বিক্ষোভ করে আসছে।

ফলে কায়রোর তাহরির চত্বরে মোবারকের বিরুদ্ধে একাট্টা হওয়া জনতা আবার ক্ষেপে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আব্দুল মোমেন বলেন, আমরা চাই প্রেসিডেন্ট মোবারক সংবিধানের ৭৬, ৭৭ অনুচ্ছেদ সংশোধনের জন্য একটি প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রি জারি করুক, পার্লামেন্ট ভেঙে দিক, সব রাজবন্দিকে মুক্তি দিক এবং জরুরি অবস্থার অবসান ঘটাক।

তা না হওয়া পর্যন্ত রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভ চলবে। আর এর মধ্যেই আলোচনাও চলতে থাকবে।

সরকার বৈঠকের পর যে বিবৃতি ইস্যু করেছে তাতে বলা হয়েছে, দুপক্ষ সাংবিধানিক সংস্কার কমিটি গড়তে একমত হওয়া ছাড়াও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় জরুরি অবস্থা তুলে নিতে একমত হয়েছে।

মিশরে সংকট মোকাবেলায় উপায় খুঁজতে রোববার প্রভাবশালী বিরোধীদল মুসলিম ব্রাদারহুডসহ অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ওমর সুলাইমান।

বৈঠকে জনদাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারকে আহ্বান জানায় ব্রাদারহুড। মিশরে নিষিদ্ধ ঘোষিত দল ব্রাদারহুডের সঙ্গে সরকারের এটাই প্রথম আলোচনা।

এ দলটি ছাড়াও আলোচনায় অংশ নিয়েছে ওয়াফদ ও তাগাম্মু পার্টিসহ অন্যান্য আরো বেশ কয়েকটি দল ও আইন বিশেষজ্ঞরা।

তাছাড়া, শীর্ষ ব্যবসায়ী নাগুয়িব সাওয়িরি এবং এল বারাদির একজন প্রতিনিধিও আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।

মুবারকের পদত্যাগের দাবিতে চলমান বিক্ষোভে অচল হয়ে হয়ে পড়েছে রাজধানী কায়রোসহ মিশরের বড় শহরগুলো। কায়রোসহ মিশরের অন্যান্য জায়গাগুলোতে এখনো চলছে বিক্ষোভ।

তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বেশ কিছু ব্যাংক খুলতে শুরু করেছে।